Logo

জাতীয়

‘সড়কে চাঁদা’ নিয়ে পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্যে তাসনিম জারার প্রতিক্রিয়া

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০০

‘সড়কে চাঁদা’ নিয়ে পরিবহন মন্ত্রীর বক্তব্যে তাসনিম জারার প্রতিক্রিয়া

ডা. তাসনিম জারা। ছবি: সংগৃহীত

সড়কে চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবির দেওয়া বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ডা. তাসনিম জারা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তাসনিম জারা বলেন, মন্ত্রী যাকে সমঝোতা বলছেন, বাস্তবে তা চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ পদ্ধতি। নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে চালকদের বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট সংগঠন বা গোষ্ঠীকে টাকা দিতে হয়। একে সমঝোতা বলা মানে একটি অনিয়মকে বৈধতার ভাষা দেওয়া।

তিনি লেখেন, সড়কের চাঁদা আদায়কে ‘সমঝোতা’ বা ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তার কিছু মন্তব্য ও প্রশ্ন রয়েছে। মন্ত্রী যেটিকে ‘সমঝোতা’ বলছেন, তা বাস্তবে চালকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি পদ্ধতি। কোনো চালক নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালাতে গেলে তাকে নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতেই হয়।

তার ভাষ্য, এই অবৈধ লেনদেনের সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের পকেটে। বাসভাড়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সড়কের এই অলিখিত চাঁদা। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে এভাবে টাকা আদায়ের ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই অর্থ পরিশোধ করেন সাধারণ যাত্রী ও ভোক্তারা।

সাবেক এনসিপি নেত্রী বলেন, মন্ত্রী নিজেই বলেছেন—‘যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তাদের আধিপত্য থাকে।’ তাহলে কি ধরে নেওয়া হবে, এই অর্থ আদায় প্রক্রিয়া রাজনৈতিক ক্যাডারদের পৃষ্ঠপোষকতার একটি মাধ্যম? যদি তা না হয়, তবে এর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

তাসনিম জারা বলেন, রাস্তায় টাকা তোলা বন্ধ করতে হবে। যদি মালিক বা শ্রমিক সমিতির কল্যাণ তহবিলে অর্থের প্রয়োজন হয়, তবে তা আনুষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে আদায় করা উচিত। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা বার্ষিক রেজিস্ট্রেশন ফির সঙ্গে যুক্ত করে এই অর্থ সংগ্রহ করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, যে কোটি কোটি টাকা তোলা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ অডিট নিশ্চিত করতে হবে। এই অর্থ কার কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে—সাধারণ চালক-শ্রমিকের জন্য, নাকি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির পকেটে—তা প্রকাশ করা প্রয়োজন।

তার দাবি, এই অর্থ শেষ পর্যন্ত আসে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। এটি চালক বা মালিকের ব্যক্তিগত অর্থ নয়; বরং যাত্রী ও ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যয়। সরকারের দায়িত্ব সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। অনিয়মকে ‘অলিখিত বিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এবারের নির্বাচনে প্রজাপতি প্রতীক নিয়ে লড়েছেন তাসনিম জারা।

এএস/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর