Logo

জাতীয়

সব পথ মিশেছে শহীদ মিনারে

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৯

সব পথ মিশেছে শহীদ মিনারে

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মানুষের ঢল। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন— সব মত ও পথ যেন একাকার হয়ে গেছে শহীদ মিনারের বেদিতে। ব্যক্তি পর্যায়েও সব বয়সী মানুষ ফুল হাতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন।

কারও হাতে ফুলের ডালা, কারও হাতে লাল-সাদা ফুলের তোড়া। সাদা-কালো ব্যানার ও নানা স্লোগানে ছেয়ে গেছে পুরো প্রাঙ্গণ। শোকের আবহে মাইকে বাজছে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলেছেন, একুশ কেবল শোকের দিন নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও চেতনার প্রতীক।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য মোজাফফর মিয়া বলেন, ‘ভাষার জন্য জীবনদানকারী শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তি। নতুন প্রজন্মকে একুশের চেতনা ধারণ করতে হবে।’

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক জয় খ্রীষ্টফার বিশ্বাস বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে নয়, চর্চায় বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমেই একুশের চেতনাকে জাগ্রত রাখা সম্ভব।’

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রচেষ্টা’র কেন্দ্রীয় সভাপতি সামিউল সাগর বলেন, ‘মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সবার দায়িত্ব রয়েছে। শুধু একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, সারা বছর বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্পাদক কৃতিত্ব চাকমা বলেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি সকল ভাষার অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরণা জোগায়। সকল মাতৃভাষা সমান মর্যাদা পাবে— এটাই প্রত্যাশা।’

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও জানায়, একুশ তাদের কাছে আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও গৌরবের ইতিহাস। শহীদ মিনারে এসে তারা ভাষা শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করে।

এর আগে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানরা, বিদেশি কূটনীতিক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ এবং ভাষাসৈনিকরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। 

রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

এসআইবি/এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

দিবস উদযাপন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর