জমা পড়েনি ১০ হাজার ‘বৈধ অস্ত্র’, পর্যালোচনা হবে আ.লীগ আমলের লাইসেন্স
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:০৭
প্রতীকী ছবি
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র জমা পড়েনি বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে কারা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কি না এবং তারা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য কি না—আইন অনুযায়ী তা যাচাই-বাছাই করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাচাই শেষে যাঁরা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের লাইসেন্স বহাল থাকবে। তবে যাঁদের ক্ষেত্রে দেখা যাবে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে লাইসেন্স নেওয়া হয়েছে—সেসব লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে ওই লাইসেন্সের আওতায় থাকা অস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে কতটি লাইসেন্স ও কতটি লাইসেন্সধারী অস্ত্র রয়েছে, সে বিষয়ে পরিসংখ্যান তৈরি করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে জমা না দেওয়া ১০ হাজার বৈধ অস্ত্র আইনগতভাবে এখন ‘অবৈধ’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সেগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে মামলাও করা হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কতগুলো মামলা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ বাহিনীর জনবলসংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই হাজার ৭০১ জন কনস্টেবলের পদ শূন্য রয়েছে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্ট নিয়ে জনগণের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ইদানীং অভিযোগ কমেছে, বিশেষ করে ই-পাসপোর্ট চালুর পর। তবে অনেকেই অনলাইনে আবেদন করতে অভ্যস্ত নন। ফলে অন্যের সহায়তা নিতে হয়। এ সহায়তার মাধ্যমে একটি পেশাও তৈরি হয়েছে।
তবে পাসপোর্ট অফিসের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে জনগণ ভোগান্তির শিকার হন—এমন অভিযোগও রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ পরিস্থিতিতে বৈধ এজেন্ট নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা যেতে পারে। প্রথমে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের পাসপোর্ট অফিসে পরীক্ষা করে সফল হলে পরে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

