ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় সেলিম প্রধানের পরিবার
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৫
সেলিম প্রধানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর মানবিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। তাঁর পরিবার মনে করে, একজন নাগরিক হিসেবে সেলিম প্রধানের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরপরই নতুন মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনাগুলো তাঁর মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সেলিম প্রধান একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে সচেতন মহলে পরিচিত।
তাঁর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। নতুন মামলায় তাঁকে রাজনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতার সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না বা সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। এমনকি পাঁচ আগস্টের আগেও তিনি কোনো রাজনৈতিক কাজে সক্রিয় ছিল না। তবে পাঁচ আগস্টের পর একটি কুচক্রী মহল তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে বা এখনো করছে। যা এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়াও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ৪ বছর কারাভোগ করেছেন। যা মিথ্যা এবং বানোয়াট মামলা ছিল।
তথ্য বলছে, সেলিম প্রধানের পরিবার এরইমধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও মানবাধিকার সুরক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেক, দায়িত্ববোধ ও আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতি আস্থা রেখে দ্রুত সুবিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার। এছাড়াও তার পরিবার এই মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি চায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেলিম প্রধানের স্ত্রী ও রাশিয়ান নাগরিক আনা প্রধান বলেন, ‘সাবেক এক মন্ত্রী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে যাওয়ায় তৎকালীন সময়ে রূপগঞ্জের বাড়িঘরে ওরা হামলা চালায়। এখনো ঠিক তার লোকজন আমার স্বামী বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়েছেন। মূলত ওই সাবেক মন্ত্রী ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে যাওয়াই আমার স্বামী সেলিম প্রধানের জন্য কাল হয়েছে।’
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও আসামিপক্ষের আইনজীবী সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু কুচক্রি মহল তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দিয়েছে। সিসা মামলায় তিনি জামিনে আছেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আরও দুটি রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। মূলত তার জামিন আটকানোর জন্য এমন অভিযোগে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।’

