জানুয়ারিতে ২,২৭১ কোটি মূল্যের সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুদক
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৮
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ও বিদেশে দুর্নীতিবাজদের ২ হাজার ২১৬ কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের বিভিন্ন আদেশের ভিত্তিতে অবৈধ সম্পদ জব্দের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের মাসিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
দুদক জানায়, জানুয়ারি মাসে আদালতের ২৯টি আদেশের ভিত্তিতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তালিকা কমিশনে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ২২টি আদেশের বিপরীতে সম্পদ ক্রোক এবং ১১টি আদেশে সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মাসিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশের ভেতরে ৬৯ দশমিক ২৬ একর জমি, ৪টি ভবন, ৬টি ফ্ল্যাট, ২টি দোকান, ১টি বাণিজ্যিক স্পেস, ১টি এফডিআর, ৬টি গাড়ি ও ১টি বীমা পলিসি ক্রোক করা হয়েছে। দেশে ক্রোক হওয়া এসব সম্পদের মোট মূল্য ৪৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৩ টাকা।
এর বাইরে ৭৯টি ব্যাংক ও সঞ্চয়ী হিসাবে মোট ৮ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯১৩ টাকার স্থিতি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ২টি বিও হিসাব ও ১২ লাখ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে অবরুদ্ধ সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৩১৩ টাকা।
বিদেশে বিপুল সম্পদ ক্রোক
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে একাধিক দেশেও বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ ক্রোক করেছে দুদক। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪টি, ভারতে ৯টি এবং ফিলিপাইনে ২টি ফ্ল্যাট ক্রোক করা হয়েছে।
এছাড়া মালয়েশিয়ায় ৪৭টি বাণিজ্যিক স্পেস, কম্বোডিয়ায় ১১৭টি সম্পদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৯টি এবং থাইল্যান্ডে ২৩টি সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে আরও ৩৩টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক করা হয়েছে।
বিদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ এসব স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ২১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৩ টাকা। এর বাইরে বিদেশে ১ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণের (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার টাকা) বিনিয়োগও ক্রোক করা হয়েছে।
সম্পদ ক্রোকের পাশাপাশি জানুয়ারি মাসে ৪৬৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৭৬টি মামলা (এফআইআর) দায়ের করেছে দুদক। ১১০ জনের বিরুদ্ধে ৩৬টি চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১১ জন ব্যক্তিকে অব্যাহতি দিয়ে ৯টি চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করা হয়েছে।
একই মাসে ৯২টি নতুন অনুসন্ধান শুরু, ১৯টি পরিসমাপ্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি এবং ৩৮টি সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ চিহ্নিতকরণ, জব্দ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

