Logo

জাতীয়

চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে দেওয়া হবে না জাতীয় পুরস্কার

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:১৬

চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে দেওয়া হবে না জাতীয় পুরস্কার

চলচ্চিত্র, নাটক ও ওটিটি কনটেন্টে জনপ্রিয় শিল্পীদের মাধ্যমে আইনবিরোধী ধূমপানের দৃশ্য প্রচার শিশু-কিশোর ও তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, ওটিটি কনটেন্টকে সেন্সরশিপের আওতায় আনা এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য পৃথক গাইডলাইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধূমপানসহ নেতিবাচক দৃশ্যসংবলিত চলচ্চিত্রকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য অযোগ্য বিবেচনার প্রস্তাবও উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার তথ্য ভবনে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড আয়োজিত ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য নিয়ন্ত্রণে আইনের বাস্তবায়ন : সংশ্লিষ্টদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি’র সভাপতি মিশা সওদাগর, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি-এর সভাপতি শাহীন সুমন, সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক রফিকুল আনোয়ার রাসেল, অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ, পরিচালক তাসমিয়া আফরিন মৌ, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের উপপরিচালক মো. মঈনউদ্দিন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের প্রোগ্রাম অফিসার ডা. ফরহাদুর রেজা এবং বঙ্গ ওটিটির হেড অব কনটেন্ট হায়দার আলীসহ অনেকে।

মানসের সিনিয়র প্রজেক্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হানের সঞ্চালনায় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য অল্পবয়সীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক জনপ্রিয় ‘তাণ্ডব’ চলচ্চিত্রে ১০২ বার ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। এছাড়া ‘আলী’ সিনেমায় ৫৫ বার এবং ‘বরবাদ’ সিনেমায় ১২১ বার ধূমপানের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের পরিপন্থী।

সভায় এস এম আব্দুর রহমান বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপান অনেকাংশে কমেছে। তবে বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র ও ওটিটি কনটেন্টে ধূমপান ও মাদকদ্রব্যের প্রদর্শন কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। এসব দৃশ্য শিশুদের প্রভাবিত করে। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের পক্ষ থেকে সিনেমায় ধূমপানের দৃশ্য বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো এখন তাদের প্রচারের কৌশল বদলাচ্ছে। ধূমপানের পরিবর্তে তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট জনপ্রিয় হচ্ছে, যার বড় কারণ বিনোদন মাধ্যমে প্রধান চরিত্রগুলোর মাধ্যমে এর প্রচারণা। চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিনোদনকে সহজলভ্য করেছে। তাই ওটিটি কনটেন্ট সেন্সরশিপের আওতায় আনা জরুরি। ধূমপান থেকেই মাদকাসক্তির শুরু— এটি প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করলে সচেতনতা বাড়বে এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

এসএসকে/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

চলচ্চিত্র

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর