শিক্ষা ভবনে ঘুষ চলবে না, ভাঙা হবে সিন্ডিকেট : শিক্ষামন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০১:০৬
ছবি: সংগৃহীত
বেতন-ভাতা, ছুটি-বদলি, পেনশন ছাড়সহ নানা সমস্যা নিয়ে ঢাকায় শিক্ষা ভবনে ধরনা দেন শিক্ষকরা। দিনের পর দিন ঘুরেও সমাধান হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘুষ দিতে বাধ্য হন কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। শিক্ষা ভবন ঘিরে দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় তারা। এই সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষকদের যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় শিক্ষা ভবনে ঘোরাফেরা করতে না হয়। তাঁদের বেতন-ভাতা, পেনশন, ছুটি, বদলি, প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়গুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না, সব ভেঙে দেওয়া হবে। এক পয়সার ঘুষও চলবে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিদপ্তরের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বদলিতে তদবির বন্ধের নির্দেশ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে অটোমেশন এবং ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হবে।
কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে ও যুক্তির ভিত্তিতে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি কাজে সুষ্ঠু সমন্বয়, খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কর্মপরিবেশ আরও কার্যকর করতে হবে। প্রশাসনের অভ্যন্তরে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব কমিয়ে সহযোগিতামূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষা খাতে সেবার গতি ও মান বৃদ্ধি পায়।
শিক্ষা প্রকৌশলকে গতিশীল করার ঘোষণা
একই দিনে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। সভায় তিনি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর দেশের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অধিদপ্তরকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় দেখা যায় নতুন নির্মিত ভবন কয়েক বছরের মধ্যেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। তাই নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের দক্ষতা, জনবল এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা যাচাই করে দায়িত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এএস/

