বাংলাদেশ ব্যাংকে চুরির তদন্তে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ২১:০৮
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকে চুরির তদন্তে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পাডিলা কায়িংলেট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তাঁকে এ আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী ফিলিপাইন সরকারের প্রতি বাংলাদেশের তরুণ নাগরিকদের ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়ায় সমাধান নিশ্চিত করার জন্যও অনুরোধ জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ফিলিপাইন-সম্পর্কিত আইনগত ও বিচারিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দুই দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রদূত নিনা পাডিলা কায়িংলেট নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারকে ফিলিপাইন সরকারের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
বৈঠকে দুই পক্ষ শান্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযান এবং দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
উভয় পক্ষ শ্রম সহযোগিতা, জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজের মধ্যে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ফিলিপাইনের কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজের বিষয়েও আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুব ও নারীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ফিলিপাইনে স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ার গিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং খাতে দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
উভয় পক্ষ বাতিল বা প্রক্রিয়াধীন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি—যেমন বিমানসেবা, দুর্নীতিবিরোধী সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সমঝোতা স্মারকের অবস্থা পর্যালোচনা করে এগুলো চূড়ান্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাত নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, পাটজাত পণ্য, সিরামিক এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত নবায়নযোগ্য শক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে ফিলিপাইনের বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন।
উদীয়মান খাত—যেমন সৃজনশীল অর্থনীতি, গেমিং শিল্প, যুব বিনিময় ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশসমূহের সংস্থা আসিয়ান-এর সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টায় ফিলিপাইনের সমর্থন কামনা করেন।
বৈঠক শেষে দুই পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে ফিলিপাইনের সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণভিত্তিক সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এএস/

