তেল সংকট ও চোরাচালান রোধে এমপিদের মাঠে নামার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩২
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও চোরাচালান রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় থেকে পরিস্থিতি তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অসাধু একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং সীমান্ত পথে তেল পাচারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযানসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ আরও জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও সমপরিমাণ তেল আমদানির পথে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা যেন জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন। বিশেষভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে, কেউ যেন অতিরিক্ত তেল মজুত করতে না পারে এবং কোথাও অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধি না ঘটে।
তিনি আরও জানান, আগামী সংসদ অধিবেশনে জ্বালানি মন্ত্রী এ বিষয়ে ৩০০ বিধিতে বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
দুর্ঘটনা ও শোক প্রস্তাব
বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটিকে অবহিত করেন।
সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন উদ্যোগ
চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন থেকে মন্ত্রীদের নিয়মিতভাবে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত ব্রিফিং দিতে হবে, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিং আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই আসতে পারে। পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনসহ অন্যান্য বিল নিয়ে ৩০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

