Logo

জাতীয়

তেলের অবৈধ মজুতের তথ্য দিলেই লাখ টাকা পুরস্কার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬:৫০

তেলের অবৈধ মজুতের তথ্য দিলেই লাখ টাকা পুরস্কার

দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত এবং পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক তথ‍্য দিলে সহায়তাকারীর জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। 

সোমবার (৩০ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আমদানিকৃত তেল সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি না করে গোপনে মজুত করছে এবং পরে উচ্চমূল্যে বিক্রি করছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মাঠ প্রশাসন বেশ কিছু অসাধু চক্রকে শাস্তির আওতায় এনেছে। তবে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে আর্থিক পুরস্কারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই তথ্য দিতে পারবে এবং তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এই পুরস্কারের অর্থ প্রদান করবেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক তথ‍্য দিয়ে সহায়তাকারীর জন্য সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে। এছাড়া অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিটি জেলায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ‘মোবাইল কোর্ট’ বা ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় করা হয়েছে।

সরকার স্পষ্ট করেছে যে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। সরবরাহ ঘাটতির কোনো সম্ভাবনা নেই এবং সরকার চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিয়মিত তেল ক্রয় করছে। তাই সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল ক্রয় বা মজুত না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। সাধারণ স্থানে এসব তেল মজুত করা জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। অধিক লাভের আশায় অবৈধ মজুত করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে যে, সরকার এখন পর্যন্ত তেলের দাম বৃদ্ধি করেনি, তাই তেলের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। 

ইরান-ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষেত্র আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হলেও তার প্রভাবে পুরোপরি অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ব অর্থনীতি। প্রতিদিনেই বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, একইসঙ্গে বাড়ছে সমুদ্র পথে জাহাজযোগে কন্টেইনার ও পণ্য পরিবহন খরচ। আর এই অস্থিরতা থেকে বাদ যাচ্ছে না বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও বাংলাদেশে দাম না বাড়িয়ে আগের অবস্থায় রেখেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার।

তবুও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু দিন ধরে। তেলা সংকটে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে কোথাও কোথাও। 

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন