Logo

জাতীয়

বেড়েছে রাজধানীর যানজটও

তেলের জন্য হাহাকার বাড়ছেই

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৩

তেলের জন্য হাহাকার বাড়ছেই

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় তীব্র যানজটের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকটজনিত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, যা নগরজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার দীর্ঘ সারি এখন সড়কের বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে, ফলে স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকার সরবরাহে ঘাটতি নেই বলে দাবি করলেও বাস্তবে তেল সংগ্রহে ভোগান্তি বাড়ছে, আর সেই চাপ সরাসরি পড়ছে ট্রাফিক ব্যবস্থায়। 

একই সময়ে গণপরিবহনের শৃঙ্খলাহীনতা, লেন না মানা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং দুর্বল ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ডেমরা থেকে উত্তরা, মহাখালী থেকে গুলিস্তানÑ প্রায় সর্বত্র ফিলিং স্টেশনকেন্দ্রিক যানবাহনের দীর্ঘ লাইন নতুন করে জট সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের সড়কে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে জরুরি সেবাগ্রহীতারা সবাই পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। 

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা-সংঘাতের প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়।

সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে ভোর, কোনো কোনো সময় রাত থেকে প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে সংখ্যায় অল্প হলেও আছে বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। অনেক ক্ষেত্রে এই সারি মূল সড়ক ছাড়িয়ে পাশের লেন দখল করে নিচ্ছে। কোথাও কোথাও লাইনের দৈর্ঘ্য এক থেকে দুই কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা সরাসরি যান চলাচলের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও মহাখালী-সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি বেশি জটিল। এখানে ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ¦ালানি নিতে অপেক্ষমাণ গণপরিবহন সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে রাখছে। ফলে স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে না অন্য যানবাহন। ধীরগতির এই চাপ দ্রুতই দীর্ঘ যানজটে রূপ নিচ্ছে এবং আশপাশের সড়কগুলোতেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।

একই চিত্র গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকার মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতেও দেখা গেছে। অফিস সময়কে কেন্দ্র করে যখন সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ে, তখন ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির সারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এতে করে কয়েকশ মিটার এলাকার যানজট দ্রুত কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে।

খিলক্ষেতের ফিলিং স্টেশনের লাইন ঠেকে যাচ্ছে জিয়া কলোনি পর্যন্ত। আবার তেজগাঁওয়ের একটি ফিলিং স্টেশনের দীর্ঘ লাইন প্রধানমন্ত্রীর অফিস ছড়িয়ে চলে যাচ্ছে মহাখালী ফ্লাইওভার পর্যন্ত। ফলে বিমানবন্দর হয়ে উত্তরার দিকে যেতে সময় লাগছে বেশি। অন্যদিকে মহাখালী থেকে ফার্মগেটের দিকে যেতেও পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার কারণে বাসের দৈনিক ট্রিপ কমে যাচ্ছে। এতে সড়কে চলাচলরত বাসের সংখ্যা সাময়িকভাবে কমে গেলেও যেসব বাস লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে, সেগুলোই উল্টো সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে যানজট কমার পরিবর্তে আরও দীর্ঘ হচ্ছে। যাত্রীরাও পড়ছেন দ্বিমুখী ভোগান্তিতে। একদিকে পর্যাপ্ত গণপরিবহন না পেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যে বাসগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও যানজটে আটকে থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে লাগছে কয়েকগুণ বেশি সময়। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষও পড়ছেন একই পরিস্থিতিতে।

ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিং স্টেশন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব এবং সড়ক ব্যবহারে শৃঙ্খলার ঘাটতি এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। নির্দিষ্ট লেন বা আলাদা সারি ব্যবস্থাপনা না থাকায় জ্বালানির জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহন সরাসরি মূল সড়কে প্রভাব ফেলছে।

মহাখালী এলাকায় কর্মজীবী রুহুল আমিন বলেন, সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য বাসে উঠি, কিন্তু ফিলিং স্টেশনের লাইনে বাস দাঁড়িয়ে থাকে প্রায় এক ঘণ্টা। আশপাশে কোনো ট্রাফিক পুলিশকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে দেখি না। সবাই নিজের মতো করে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখে, এতে পুরো সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।

একই ধরনের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী উত্তম রায়। তিনি বলেন, প্রতিদিনই ক্লাসে যেতে দেরি হচ্ছে। ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ির লাইন এমনভাবে থাকে যে কোনটা রাস্তা আর কোনটা লাইন বোঝার উপায় থাকে না। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তারা অনেক সময় শুধু দাঁড়িয়ে থাকে, সক্রিয়ভাবে কিছু করতে দেখা যায় না।

পল্টন এলাকায় আজমেরী পরিবহনের চালক আফসার মিয়া বলেন, জ্বালানি তেলের জন্য আগেও লাইন ছিল, এখনও আছে। তবে এবার বেশি। ট্রাফিক সদস্যরা যদি আমাদের সঠিকভাবে গাইড করতো, তাহলে এত জট হতো না।

খিলক্ষেতে একটি ফিলিং স্টেশনে গতকাল মোটরসাইকেলের জন্য অকটেন নিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। তিনি জানান, ভোর সাড়ে ৬টায় তিনি লাইনে দাঁড়াতে এসে দেখেন সামনে আরো আড়াইশ মানুষ। তিনি বলেন, সরকার অকটেন-পেট্রোলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে বলে জানাচ্ছে। কিন্তু ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে বলা হচ্ছে মজুদ নেই। এভাবে তো হয় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ২০০-৫০০ টাকার তেল পাচ্ছি। এতে একদিন পরপরই তেলের প্রয়োজন হচ্ছে। রাজধানীতেই যদি এমন সংকট হয়, তাহলে তো প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। একটা সিস্টেম দাঁড় করানো দরকার। তেল নিতে গিয়ে দিন পার হয়ে যাচ্ছে। কাজ করব কখন। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ বলেন, চলমান জ্বালানি সংকট ও এর ফলে সৃষ্ট যানজট পরিস্থিতি সামাল দিতে অড-ইভেন ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর হতে পারে। তার মতে, একটি দিন জোড় নম্বরের যানবাহন জ্বালানি নিতে পারবে, পরদিন বেজোড় নম্বরের যানবাহন এই সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থাটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। যেদিন জোড় নম্বরের যানবাহন জ্বালানি নেবে, সেদিন সড়কে শুধুমাত্র জোড় নম্বরের যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করার মতো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকতে হবে। এতে একদিকে ফিলিং স্টেশনের চাপ নিয়ন্ত্রণে আসবে, অন্যদিকে সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রমনা বিভাগের (এডিসি-ট্রাফিক) কাজী রোমানা নাসরিন বলেন, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো দিয়ে প্রতিদিনই প্রচুর যানবাহন প্রতিদিনই যাওয়া আসা করে। কমবেশি যানজট অথবা সিগন্যাল এমনিতেই প্রতিদিনের দৃশ্য। এর মধ্যে ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের কারণে জট আরও বেড়ে যায়। তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলো সড়কের একটি অংশ দখল করে নেয়। এতে সড়কে অন্যান্য যানবাহনের গতি কমে যায় এবং যানজট দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট আছে, সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু তেলের লাইনের কারণে গণপরিবহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, বেশি সংখ্যক সাধারণ মানুষ আইন-কানুন মানতে চায় না, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তেল সরবরাহে ঘাটতি নেই, আতঙ্ক থেকে বাড়তি কিনছে-জ্বালানি বিভাগ: গত বছরের একই সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও জনমনে তৈরি হওয়া শঙ্কাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি তেল সরবরাহে ঘাটতি নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আতঙ্ক থেকে অনেকে বাড়তি কিনছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র (যুগ্ম সচিব) মনির হোসেন চৌধুরী এ কথা বলেন।

মুখপাত্র বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ তেল দেওয়া হতো, এখনো তা-ই দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় বেশি কিনছে। বিজয় সরণির ট্রাস্ট পাম্পে আগে ৫০ থেকে ৫৪ হাজার লিটার অকটেন দেওয়া হলেও গত মঙ্গলবার দেওয়া হয়েছে ৮০ হাজার লিটারের বেশি।

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এতে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ লাখ ৪২ হাজার ২০৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১ লিটার, অকটেন ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার, পেট্রল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার এবং ফার্নেস তেল ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার।

জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৯ হাজার ১১৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা হয়েছে, জরিমানা আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অকটেন ও পেট্রলের মজুত দিয়ে আগামী দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না বলে উল্লেখ করেন জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ডিজেলের ক্ষেত্রেও এপ্রিল তো বটেই, মে মাসেও সমস্যা দেখছেন না। দেশে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন, পেট্রল ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন, ফার্নেস তেল ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন।

এদিকে কাঁচামালের অভাবে দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসলেও সরকার তা নাকচ করে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে শোধনাগারটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বরং লো-ফিড বা সীমিত উৎপাদনে সচল রয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে-তথ্য উপদেষ্টা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

বুধবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কী না প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, দাম আসলে বাড়বে কী না নিশ্চিত নয়। তবে আপনারা সবাই ওয়েল কানেক্টেড মানুষ। আপনারা খেয়াল করছেন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপ দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার আমরা দেখছি ডোনাল ট্রাম্প বলছেন যে পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে। আপনার রিসেন্ট যে অবস্থা সেটা হচ্ছে স্ট্রেট অব আমেরিকা আবার ইরানের সাথে জাহাজগুলো ব্লকেজ দিচ্ছে। সো এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় থাকে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন আমরা খুব লম্বা সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া আসলে কঠিন। 

‘রাত ১টায় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম, বেলা ২টায় তেল পেলাম’: ‘রাত ১টার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম, এখন বেলা ২টায় তেল পেলাম। হয়রানির শেষ নেই। খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করতে পারিনি। রোদে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে শরীর অসুস্থ হয়ে গেছে।’ কথাগুলো বলছিলেন মোটরসাইকেল চালক আল আমিন হোসেন।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে এই মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে  কথা হয়। বেলা ২টার সময় এই ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল পাস অ্যাপস দেখিয়ে তেল নিতে দেখা যায় আল আমিন হোসেনকে।

এই মোটরসাইকেল চালক জানান, ফুয়েল পাস অ্যাপস দেখিয়ে তিনি তেল নিয়েছেন। ১ সপ্তাহ আর তেল নিতে পারবেন না। তবে এই তেলে তার পুরো সপ্তাহ চলে যাবে। কিন্তু এ তেল নিতে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়। তিনি যখন লাইনে দাঁড়ান, তখন ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের লাইন মহাখালী রেলগেট পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এরপর সিরিয়াল মেনে আস্তে আস্তে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত আসতে আসতে রাত পেরিয়ে সকাল, সকাল গড়িয়ে দুপুর।

আল আমিন হোসেন বলেন, ‘বন্ধুবান্ধব কয়েকজন লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এত সময় লাগবে কল্পনা করিনি। ভোগান্তি হয়েছে প্রচুর। কিন্তু কিছু তো করার নেই। চলার জন্য তো তেল নিতে হবে।’

সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী: বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়া জিরো ইমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাস অনলাইন সামিটে এ সহায়তা কামনা করেন তিনি। দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেছেন, এজেডইসি প্লাস অনলাইন সামিটে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতি এবং এর মোকাবিলার বিষয়টি তুলে ধরেন। 

জ্বালানি তেল নিয়ে ৩ জাহাজ পৌঁছাল চট্টগ্রাম বন্দরে: জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে আরও তিনটি জাহাজ। বুধবার এসব জাহাজ থেকে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে জাহাজ তিনটি সিঙ্গাপুর থেকে জেট ফুয়েল ও ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (গণ-সংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা জানান, তিনটি জাহাজের মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের সরবরাহ করা ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ জাহাজে রয়েছে ১১ হাজার টন জেট ফুয়েল। বাকি দুটি জাহাজের মধ্যে ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে রয়েছে প্রায় ৩২ হাজার টন ডিজেল, যা সরবরাহ করেছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। আর ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ নামক অপর জাহাজে করে এসেছে প্রায় ৩৪ হাজার টন ডিজেল। এটির সরবরাহকারী কোম্পানি সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া। বর্তমানে তিন জাহাজ থেকেই জ্বালানি তেল খালাস কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। 

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন