Logo

জাতীয়

শাহজালালের কার্গো ভিলেজে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৪

শাহজালালের কার্গো ভিলেজে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ এলাকায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টা ২৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রথমে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় উত্তরা স্টেশন থেকে যাওয়া দুটি ইউনিট। এরপর আরও দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। তবে প্রথম দুটি ইউনিট পৌঁছে রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন পুরো নেভাতে আরও কিছুটা সময় লেগে যায়। 

শুক্রবার রাতে ৯ নম্বর গেট এলাকায় এ আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি: অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো শেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেন, তদন্তের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিরূপণ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বারবার শর্ট সার্কিটের ঘটনা কেন ঘটছে। এর আগেও যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল, সেই তদন্ত প্রতিবেদনেও শর্ট সার্কিটের কথা বলা হয়েছিল। তাহলে নিশ্চয়ই কোথাও গাফিলতি রয়েছে। আমাদের সেটি স্বীকার করতে হবে।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত আরও বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কমিটিকে প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। যদি কারো গাফিলতির কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর বিমানবন্দরের কার্গো শেডে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই ঘটনার পরও নতুন শেড নির্মাণ করা হয়নি। কারণ, থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় নতুন কার্গো সুবিধা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় থার্ড টার্মিনালের পেছনে আমদানি ও রপ্তানির জন্য দুটি আধুনিক কার্গো গোডাউন নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব গোডাউনে প্রায় আট লাখ টন করে পণ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকবে।

তিনি বলেন, নতুন স্থায়ী শেড নির্মাণ করলে তা ভবিষ্যতে প্রয়োজন নাও হতে পারে। সে কারণে আপাতত স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ থেকে বিরত থাকা হয়েছে। তবে অস্থায়ী শেড নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সম্পর্কেও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে। প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কেন বারবার এমন ঘটনা ঘটছে, তা খুঁজে বের করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফ্লাইট অপারেশন চলমান: অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিমানবন্দরের ফ্লাইট অপারেশনে কোনো সমস্যা হয়নি, তা চলমান রয়েছে বলে জানান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদ।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের বিমানবন্দরের ফ্লায়িং অপারেশনে কোনো সমস্যা হয়নি। 

প্রসঙ্গত, কার্গো ভিলেজের এ অংশে আমদানি করা পণ্য মজুদ রাখা হয়। এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসেও বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজের একটি অংশে আগুন লাগে। মোট ৩৭টি ইউনিটের সাত ঘণ্টার চেষ্টায় তখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি)।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন