Logo

জাতীয়

বিশাল বাজেট উত্থাপন ১১ জুন, পাস ৩০ জুন

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বড় চ্যালেঞ্জ

Icon

এম এম হাসান

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ২৩:৫৪

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বড় চ্যালেঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি হু হু করে বাড়ছে। সর্বশেষ গত মে মাসে বিগত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে, যার হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উত্থাপন হতে যাচ্ছে, যা ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস করা হবে। আগামী অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। যদিও অতীতের মতো এই বাজাটেও ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে বড় অংকের। ওই ঘাটতি মেটাতে সরকারের বিদেশি ঋণ কিংবা দেশীয় উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হবে। এতে সার্বিকভাবে দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশীয় উৎস কিংবা বিদেশি উৎস, যেভাবে হোক না কেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নির্ভরতা দেশের ওপর বোঝা সৃষ্টি করতে পারে। সরকার যেই উৎস থেকেই ঋণ নেয় না কেন, বস্তুতপক্ষে তাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। আগামী বাজেটেও বড় একটি অংশই ওই ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি নতুন টাকা ছাপিয়েও সরকার ঋণ পরিশোধ বা ঘাটতি মেটাতে চায়, সেটিও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পথে বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে। 

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ ঝুঁকি বিবেচনায় আগে আমরা নিম্ন ঝুঁকির দেশ ছিলাম। এখন সেটি মাঝারি ঝুঁকিতে চলে এসেছি। এই ঋণের পরিমাণ যত বাড়বে, আমাদের ঝুঁকিও তত বাড়বে। তাই, এদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। ঋণ নেওয়া খারাপ নয়, তবে দেখতে হবে যে ঋণটি আমরা উৎপাদন খাতে কতটা কাজে লাগাতে পারছি। ঋণের অর্থ দিয়ে আমাদের কী পরিমাণ অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে কিংবা কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে কী পরিমাণ? এগুলোর মূল্যায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আমাদের আছে কিনা? এগুলো ঠিক থাকলে ঋণ নেওয়া যেতে পারে।

‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ’ বাজেটের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি সম্প্রসারণমূলক বাজেটের দিকে যাচ্ছে, কারণ ব্যয় বাড়ছে। অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে, সম্প্রসারণমূলক রাজস্বনীতি ও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতির বর্তমান প্রকৃতি মূলত সরবরাহ সংকটজনিত। এটি চাহিদাসৃষ্ট মূল্যস্ফীতি নয়। বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে পারলে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে এবং দামও স্থিতিশীল হতে পারে। এ কারণে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত।

সম্ভাব্য বাজেট কেমন হতে পারে: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এক উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নতুন বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বড় হতে যাচ্ছে। আর এই বিশাল বাজেটের বাড়তি ব্যয় মেটাতে বড় ভরসা রাখা হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের ওপর। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ দশমিক ২২ শতাংশ বেশি। এই বিশাল রাজস্বের বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ আদায়ের মূল দায়িত্ব থাকবে এনবিআরের কাঁধে। নতুন বাজেটে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ছয় লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

লক্ষ্যমাত্রা ও প্রকৃত অর্জনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতি বছরই এনবিআরের ঘাটতির ব্যবধান কমার চেয়ে উল্টো বেড়েই চলেছে। চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ১০ মাসেও (এপ্রিল পর্যন্ত) সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ চার হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। এই সময়ে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র তিন লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এই ১০ মাসে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ। অথচ অর্থবছর শেষ হতে বাকি থাকা সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে হলে আরও এক লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে, যা প্রায় অসম্ভব।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও মোট রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। ওই বছর ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর আদায় করতে পেরেছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। তার আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এনবিআর ৩৮ হাজার ১৫৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বড় ঘাটতির মুখে পড়েছিল।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত বছরগুলোতে এনবিআরের গড় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কখনই ১৫-১৬ শতাংশের বেশি অতিক্রম করতে পারেনি। সেখানে আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা সম্পূর্ণ রূপকথা তুল্য। বিগত ২৫ বছরের (২০০১-২০২৫) ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এনবিআর কেবল একবারই ২০১১ সালে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছিল।

বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন অর্থবছরে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে মোট দুই লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস (ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র) থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া, আইএমএফের কঠিন শর্ত, বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান বাড়তি চাপ, বিপুল ভর্তুকি ব্যয় এবং সম্ভাব্য নতুন সরকারি বেতন কাঠামো, সবমিলিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি এক চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বেড়েই চলছে সুদ ব্যয়ের বোঝা: ঋণের সুদ বাবদ সরকারের ব্যয়ের বোঝা ক্রমেই স্ফীত হয়ে উঠছে, যার মরণকামড়ে জর্জরিত দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে নেওয়া ঋণের মাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে, প্রতি বছর বাজেটের এক বিশাল অংশ চলে যাচ্ছে কেবল সুদ পরিশোধের খাতেই। 

জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৯০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এই খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরে সুদ পরিশোধের পেছনে সরকারের ব্যয় বাড়ছে আরও সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উৎপাদনহীন এই খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্চা যাওয়ার কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি চাপের সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেটে ঋণের সুদ বাবদ এত বেশি টাকা বরাদ্দ রাখার কারণে সরকারের অনেক অগ্রাধিকার খাতও ভালো বরাদ্দ পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বলেন, ঋণ গ্রহণের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি জুনের মধ্যেই দেশের মোট সার্বভৌম ঋণের পরিমাণ ২৫ ট্রিলিয়ন বা ২৫ লাখ কোটি টাকার রেকর্ডে পৌঁছাবে। এতে চলতি অর্থবছরেই কেবল সুদ পরিশোধ বাবদ খরচ ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। গত অর্থবছরে এই খরচের প্রকৃত পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। 

তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে মোট প্রাপ্তি বড়জোর ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটিতে পৌঁছাতে পারে (যেখানে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা হতে পারে ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা)। এই ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা প্রাপ্তির সঙ্গে যদি আরও ৩ লাখ কোটি টাকার নতুন করে ঋণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, তাহলেও আগামী বাজেট বাস্তবিকভাবে ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করতে পারবে না। বাস্তবতাকে আড়াল করে বড় বাজেট দেওয়ার চেয়ে অর্থনীতির এই নাজুক পরিস্থিতি আমলে নেওয়া জরুরি।

বিনিয়োগে গতি ফেরানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে ফের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরিয়ে আনতে চায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। দেশের ভঙ্গুর দশা থেকে উত্তরণ এবং স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল করতে এই বাজেটে একটি বিশেষ কৌশলগত রূপরেখা ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এবারের বাজেটে শুধু ঘাটতি পূরণের প্রথাগত হিসাব-নিকাশ নয়, বরং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে পড়া বিনিয়োগে গতি ফেরানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর। খাদের কিনারে পৌঁছানো অর্থনীতিকে টেনে তুলতে এই বাজেটকে একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, গত দেড় দশকেরও বেশি সময়ে বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সীমিত সম্প্রসারণ, ব্যাপক অর্থ পাচার, ডলারের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং ব্যাংকিং খাতের চরম দুর্বলতার ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এই ক্রান্তিকালে বর্তমান সরকার মনে করছে, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি।

এ বিষয়ে সম্প্রতি ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবায়ন’ বিষয়ক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি বড় আকারের বা উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করা হয়তো সহজ, কিন্তু বর্তমানের ভঙ্গুর ও ক্ষতবিক্ষত অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা ও টেকসই সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই কঠিন বাস্তবতাকে সামনে রেখেই আগামী বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’ বা ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি। এই দর্শনের মূল অঙ্গীকারই হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মকাণ্ডের সুফল যেন কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা যেন সমাজের সর্বস্তরের ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়। বিশেষ করে, তীব্র মূল্যস্ফীতির এই সময়ে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে সরাসরি আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা দেওয়াকে এই বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করা হয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের এই নাজুক অর্থনীতিকে টেনে তুলতে কেবল গতানুগতিক বরাদ্দ দেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং প্রকৃত পুনরুদ্ধারের জন্য দরিদ্র মানুষের সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং সৃজনশীল অর্থনীতির মতো সম্ভাবনাপূর্ণ খাতগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তলানিতে রয়েছে। এই স্থবিরতা কাটাতে সরকারের নেতৃত্বে উন্নয়ন বাজেটের আকার বড় করা প্রয়োজন। এর ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়লেও তা প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি যদি দুই শতাংশও বাড়ে, তবে তা অর্থনীতির জন্য মন্দ নয়; বরং এটি রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সাহায্য করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থবির এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বেশ কম। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বিনিয়োগের হার জিডিপির বর্তমান ২৭-২৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৩২ থেকে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন