চাকরি শেষ, তাই তড়িঘড়ি করে টেন্ডার সারলেন প্রধান প্রকৌশলী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ২০:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
অভিনব দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (এমসিসি) কেনাকাটায়। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে বাদ দেওয়া হয়েছে নিম্ন দরদাতাকে। আইন ভেঙে তড়িঘড়ি চুক্তি সই করা হয়েছে উচ্চ দরদাতার সঙ্গে।
অভিযোগ উঠেছে, অবসরে যাওয়ার মাত্র দুদিন আগে এমন কাণ্ড করেছেন প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম মিঞা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে এবং নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দরপত্র আহ্বান করে এমসিসি। সেখানে একটি লটে দুই ধরনের চেইন এক্সক্যাভেটর ও একটি চেইন ডোজার সরবরাহে দরপত্র জমা দেয় চারটি প্রতিষ্ঠান। তাদের মধ্যে ১৫ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার দরপত্র দেয় সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং। এর মাধ্যমে চারজনের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা হয় প্রতিষ্ঠানটি।
তবে অন্য দুটি নিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিংকে পণ্য সরবরাহের প্রাথমিক ছাড়পত্র (এনওএ) দেওয়া হয় গত ২৫ জুন। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে প্রকল্প পরিচালক বরাবর অভিযোগ করে বঞ্চিত প্রতিষ্ঠানগুলো।
আইন অনুযায়ী, সংক্ষুব্ধ প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে অন্য কোনো দরদাতার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের সুযোগ নেই। তবে, এক্ষেত্রে আইন ভেঙে তড়িঘড়ি করে পণ্য ক্রয়ের চুক্তি সই করা হয়েছে সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে।
অন্যদিকে, অভিযোগ করা সংক্ষুব্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিকে তাদের অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস, রোববার অফিস সময় শেষ হওয়ার পর। এরপর চুক্তি সই হয়েছে অন্য ঠিকাদারের সঙ্গে।
এসব নিয়ে জানতে প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম মিঞার দপ্তরে গেলে প্রথমে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে সিটি প্রশাসকের কাছে যেতে বলেন। পরে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পণ্যের মান টেন্ডারের চাহিদা অনুযায়ী না হওয়ায় বাদ দেওয়া হয়েছে নিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
কোন কোন ক্ষেত্রে মানের ব্যত্যয় হয়েছে, তা জানতে চাইলে তিনি পুনরায় যেতে বলেন সিটি প্রশাসকের কাছে।
চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পণ্য সবগুলো চাহিদা পূরণ করেছে কি না, এমন প্রশ্নেরও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করা মো. রফিকুল ইসলাম মিঞার অবসরের আগে শেষ কর্মদিবস আজ ৩০ জুন।
বঞ্চিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এ নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, পছন্দের ঠিকাদারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতেই এমন চতুরতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা সিটি প্রশাসকের বরাবর আবেদন করবেন। সেখানে প্রতিকার না পেলে শরণাপন্ন হবেন উচ্চ আদালতের।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

