পরিদর্শনে মহাপরিচালক
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়ায় আনসার-ভিডিপির অংশগ্রহণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ২১:১০
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬ পরিদর্শন করেছেন।
জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার, আন্তঃবাহিনী সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ মহড়ায় এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপজেলা এবং থানা সঞ্জীবন আনসার প্লাটুনের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা অংশগ্রহণ করছেন, যা বাহিনীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
পরিদর্শনকালে মহাপরিচালক মহড়ায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপজেলা এবং থানা সঞ্জীবন আনসার প্লাটুনের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তাকে মহড়ার সার্বিক অগ্রগতি, কৌশলগত পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণকারী সদস্যদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
মহাপরিচালক মহড়ার সার্বিক ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা, আন্তঃবাহিনী সমন্বয় এবং অংশগ্রহণকারী সদস্যদের পেশাদারিত্বে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের যৌথ মহড়া জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, পারস্পরিক আস্থা এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ দিনব্যাপী গ্রীষ্মকালীন মহড়া গত ৫ জুলাই শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের সকল ডিভিশনে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। মহড়ায় অংশগ্রহণের পূর্বে আনসার সদস্যদের প্রচলিত ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল বিষয়ে তিন দিনব্যাপী বিশেষ অন দ্য জব ট্রেনিং (OJT) প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণে রেইড, অ্যাম্বুশ, ফার্ম বেস স্থাপনসহ বিভিন্ন মাইনর অপারেশনের বাস্তবভিত্তিক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা তাদের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত 'পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন'-এর আলোকে জাতীয় প্রতিরক্ষায় সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ভাবনার একটি বাস্তব প্রতিফলন এই উদ্যোগ। বর্তমান মহাপরিচালকের নেতৃত্বে উপজেলা ও থানা সঞ্জীবন আনসার প্লাটুনগুলোকে নতুনভাবে সুসংগঠিত ও কার্যকর করে গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষিত, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-এ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই অংশগ্রহণ বাস্তবায়িত হয়েছে।
এ অংশগ্রহণ কেবল আন্তঃবাহিনী সমন্বয়কে আরও সুদৃঢ় করবে না, বরং জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা, প্রস্তুতি এবং কৌশলগত অবদানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনগণভিত্তিক সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। পরিদর্শনকালে ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ)-এর পরিচালক আসাদুজ্জামান গণীসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

