ঢাকায় বৃষ্টি ঝরছে আজও, পাঁচ দিন ভারি বর্ষণের শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫
রোববারের বৃষ্টিতে ঢাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা, ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এটি গত ১৭ বছরে দ্বিতীয় সবোর্চ্চ। এর আগে ২০০৯ সালের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৩৩ মিলিমিটার।
স্বভাবতই নগরবাসীর মনে প্রশ্ন- বৃষ্টি কমবে কবে? আবহাওয়া অধিদপ্তরের বার্তা, সোমবার (১৩ জুলাই) অন্তত কমছে না বৃষ্টি।
এদিকে সকাল থেকেই আকাশজুড়ে ছিল মেঘ। সাড়ে সাতটার দিকেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। রাজধানীতে আজ একটানা বৃষ্টি না হলেও থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে সারা দিন। আকাশের মেঘ কাটার সম্ভাবনাও কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, রাজধানী ও আশপাশে সারা দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তবে এমন নয় যে একটানা হবে। রাজধানীতে আসলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। তবে অতি ভারী বৃষ্টি বলতে যা বোঝায়, তার সম্ভাবনা কম।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য দেশের ছয় বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগও আছে।
রোববার দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছিল ঢাকা বিভাগে। এর পরিমাণ ১৭৫ মিলিমিটার। তবে রাতের দিকে রাজধানীর বৃষ্টি কমে এসেছিল। এদিন রাত ১২টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে মাত্র ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানান আবদুল হামিদ মিয়া। তিনি বলেন, বৃষ্টি বেশি হয়েছে সকাল সাতটার পর থেকে। বৃষ্টি দিনের পুরোটা সময়ই থাকতে পারে। আকাশ মেঘলা থাকবে সারা দিনই।
যদি কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, তবে তাকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়। বৃষ্টির পরিমাণ ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলেই তা অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে গণ্য হয়।
রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে দেশের অন্তত সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে দক্ষিণ–পূর্বের চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি কমে আসার সম্ভাবনা আছে।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, রোববার ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় এমন বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে বর্ষায় বৃষ্টি বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ১৬০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৩ মিলিমিটার, আমবাগানে ১৪০ মিলিমিটার, ফরিদপুরে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
নাজমুল হক জানান, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতদের মধ্যে রাঙ্গামাটিতে তিনজন, বান্দরবানে ছয়জন, কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন ও মৌলভীবাজারে একজন রয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৩৯ জন। তাদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৪ জন ও চট্টগ্রামে ১২ জন।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

