Logo

জাতীয়

ক্ষোভ ঝারলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৩

ক্ষোভ ঝারলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারি বর্ষণ, ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতার চরম প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশজুড়ে তীব্র ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপে পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ হিসেবে সম্বোধন করার কথিত অভিযোগ এনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। 

ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, সিলেটসহ দেশের অন্তত ১১টি জেলায় শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। 

রাজধানীর সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা ও ধাওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এই আন্দোলনের সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে অভিনব প্রতিবাদ শুরু হয়। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই পরীক্ষা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়; বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা না পিছিয়ে দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন এবং বন্যাকবলিত শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। দেশব্যাপী তীব্র ছাত্রবিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় সংসদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা তার ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বৃষ্টির কারণে পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। 

তিনি বলেছেন, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের যেসব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, ওই বিষয়গুলোর নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সময়ই সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

সংসদ ভবনের সামনে থেকে আন্দোলনরতদের পিটিয়ে সরাল পুলিশ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের পর সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান করা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আন্দোলনরতদের সরিয়ে দেওয়া শুরু করে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটার পাশাপাশি ধাওয়া দিতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। এসময় ছত্রভঙ্গ হয়ে যান শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন বটতলার গেইটে অবস্থান নেন পরীক্ষার্থীরা। অ্যাভিনিউয়ের দুই পাশেই আটকে রাখার ফলে আসাদগেইট থেকে খামারবাড়ির দিকে এবং খামার বাড়ি থেকে আসাদ গেইট অভিমুখে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম তখন বলেন, শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এসে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সড়কে অবস্থান নিয়েছে, এর ফলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেখানে পুলিশের বাড়তি ফোর্স রয়েছে।

সংসদ ভবনের সামনে অবরোধের আধা ঘণ্টা পর পুলিশ শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়া শুরু করার পাশাপাশি তাদের দেওয়া ব্যারিকেডও সরিয়ে দিয়েছে।

ঢাবি ক্যাম্পাসে ঢুকে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। 

পরে ঢাকা কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, নটর ডেম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হন। তাদের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও ছিলেন।

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভিসি চত্বরের কাছে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের মৃদ্যু ধাক্কাধাক্কি হয়।

পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ’ দিয়ে ক্যাম্পাস এলাকা ত্যাগ করেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অভিমুখে মিছিল নিয়ে যান। বিকাল ৩টার দিকে বোর্ডের প্রবেশদ্বারে পুলিশ তাদের আটকে দিলে সেখানেও উত্তেজনা তৈরি হয়। এসময় কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ড ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জেলায় জেলায় মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল, ময়মনসিংহসহ অন্তত ১১ জেলায় সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও গত সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে অনেকে পরীক্ষা দিতে পারেননি। দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত, যারা সোমবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করায় ক্ষমা না চাইলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের চেয়ে কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা। বেলা তিনটার দিকে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধের কারণে উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা। 

ময়মনসিংহে মহাসড়ক অবরোধ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে ময়মনসিংহে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে নগরের টাউন হল এলাকায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে তারা বিক্ষোভ করেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, যান চলাচলে কিছুটা সমস্যা হয় । শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করেন। পরিস্থিতির যাতে কোনো ধরনের অবনতি না ঘটে, সে জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

কুমিল্লায় প্রতিবাদ সমাবেশ: কুমিল্লায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে ‘কুমিল্লার সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এ সময় তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে আমি কে, মুরগি মুরগি, কে বলেছে কে বলেছে, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী’, ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে কান্দিরপাড় থেকে মিছিল নিয়ে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে গিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন।

বগুড়ায় সাতমাথা ব্লকেড: বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে তারা নগরের সাতমাথা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুপুর ১২টার দিকে মিছিলটি সাতমাথা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বগুড়ার মতো মহানগরে জলজট তৈরি হয়েছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অথচ এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ: টাঙ্গাইলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বেলা দেড়টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের নগর জলপাই এলাকায় গিয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত তারা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও: রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে ঢুকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

দুপুরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীম আরা চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। এরপরও বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তারা শিক্ষা বোর্ড প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সিলেটে অবস্থান কর্মসূচি: এদিকে সিলেট নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ‘সিলেটের সার্বজনীন শিক্ষার্থী’ ব্যানারে বেলা দুইটার দিকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে চৌহাট্টা থেকে জিন্দাবাজারমুখী সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চৌহাট্টা এলাকায় পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। কুড়িগ্রামে পরীক্ষার্থীদের মানববন্ধন: একই দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। 

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারে মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিকাল চারটায় ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।

নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ: নওগাঁয় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে ‘সব কলেজের সচেতন শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

রংপুরে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ: রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জেলা স্কুল মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হল চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

‘বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য’ ৩ বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষা আবার হবে-শিক্ষামন্ত্রী: এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের যেসব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, ওই বিষয়গুলোর নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সময়ই সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এহছানুল হক মিলনের এই ঘোষণা এল।

বিকালে জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর আলোচনার সময় পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ও তাদের দাবির প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, সংসদের বাইরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের দাবিগুলো দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সোমবার পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা হয়েছে, হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যাÑএই পরীক্ষার সময় বৃষ্টি ছিল। অনেকে ভিজেছে এবং পরীক্ষা সঠিকভাবে দিতে পারেনি। এই ধরনের কমপ্লেইন এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কাউকে আঘাত করতে চাননি শিক্ষামন্ত্রী, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ: শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিজের একটি ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিলের ওপর আনীত সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলোতে বন্যার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করতে হয়েছে এবং এই পরীক্ষাগুলো পুনরায় নিতেই হবে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের দাবি ও অভিযোগ জানালেও মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য যখন পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অন্য আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে নেওয়া হবে, ঠিক সেই সময়েই স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে মন্ত্রী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার একটি মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আঘাত করার জন্য তিনি কোনো কথা বলেননি। তার এই ব্যক্তিগত মন্তব্যে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন বা আহত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারেও বলতে চাই। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলি নাই। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন ‘সিম্পিø’ আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে এমন কী হতো, প্রশ্ন রুহুল কবির রিজভীর: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে গিয়ে পানিতে পড়ে গেছে। পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে এমন কী হতো? কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষা পিছিয়ে দিন।

মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করব। এই বন্যায় দুর্গতি হয়েছে। এখন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। পানি ডিঙিয়ে এখানে আসতে হয়েছে। এটি ভয়ংকর রকমের দুর্ভোগ।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘একজন কিশোর ছেলে বন্যার পানির জন্য পরীক্ষা দিতে যেতে পারছে না। সে যদি পানিতে ডুবে মারা যায়, তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে এমন কী হতো। জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। অবিলম্বে পরীক্ষা পিছিয়ে দিন। পানি কমুক পরীক্ষা নেওয়া যাবে।’

ফেসবুকে জন্ম নিল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’: শিক্ষামন্ত্রীর কথিত এক বক্তব্যের জেরে তার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে জন্ম নিয়েছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’।

এখন পর্যন্ত এটি একটি ফেসবুক পেইজ। আনুষ্ঠানিক কোনো সাংগঠনিক আকার এই ‘পার্টি’ পায়নি। তবে অনেকেই এ পেইজের সঙ্গে ভারতের শাসকদের ভীত কাঁপিয়ে দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মিল দেখছেন।

‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেজ থেকে মঙ্গলবার দিনভর আন্দোলনের ‘আপডেট’ দেওয়া হয়েছে এবং ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে।

সোমবার মধ্যরাতে ব্যাক্তিগত ব্লগের ক্যাটাগরিতে খোলা এই পেইজে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেড় হাজারের মতো ফলোয়ার ছিল। সন্ধ্যা ৬টায় তা ১৮ শ ছাড়িয়ে যেতে দেখা যায়।

দিনভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের স্লোগানেও ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দবন্ধটি ঘুরে ফিরে এসেছে। ‘তুমি কে, আমি কে/ ফার্মের মুরগি’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে/ শিক্ষামন্ত্রী’- শিক্ষার্থীদের মুখের এমন স্লোগান শোনা গেছে উত্তরা থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পর্যন্ত।

কোত্থেকে এল এই স্লোগান? ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামটিইবা কোথা থেকে এল?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও টেপ ছড়িয়েছে, যেখানে একজন নারীর সঙ্গে একজন পুরুষকে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে পুরুষটি কথা বলে যাচ্ছিলেন এবং নারীটি তাকে বার বার ‘স্যার’ ‘স্যার’ বলছিলেন।

এক পর্যায়ে পুরুষকণ্ঠে বলতে শোনা যায়, আমি এভাবে মিটিংয়ে বলতেছিলাম যে, এরা (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) তো ফার্মের মুরগি, কিন্তু মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে, আমার মেয়ের তাই হয়। তো আমি বললাম যে, দৌড়-লাফ ঝাঁপ দিয়ে পরীক্ষা দিতে যাবে, বৃষ্টির মধ্যে মাথায় পানি পড়বে, পরের দিন ঠিকঠাক পরীক্ষা দিতে পারবে না। তারপরে আবার ওয়েদার ব্রডকাস্টিং সেন্টারে ডিজিকে কল করল। তারা বলল যে কালকে বৃষ্টি হবে না, আজকে রাতেই শেষ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই পুরুষ কণ্ঠটি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। তবে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখতে পারেনি। এ বিষয়ে কথা বলতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।

তবে সারা দিনের পরিস্থিতি থেকে এটা স্পষ্ট, শিক্ষামন্ত্রীর ওই কথিত মন্তব্যের প্রতিবাদেই ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেজটির জন্ম। পেইজের বায়োতে লেখা হয়েছে, আমরা অপমানিত হইনি, জাগ্রত হয়েছি।

এর আগে গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করার পর এর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ সূচনা হয়।

ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নামকে ট্রল করে গড়ে ওঠা ওই প্ল্যাটফরম কয়েকদিনের মধ্যে লাখো অনুসারী জুটিয়ে নেয়।

বাংলাদেশে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র পেছনে কারা আছে তা এখনো স্পষ্ট না হলেও ফলোয়ারের তালিকায় এনসিপির কয়েকটি আঞ্চলিক শাখা এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির ভেরিফায়েড পেইজের নাম দেখা গেছে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন