অগ্রাধিকারে জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু ও আধুনিক নগরসেবা
৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা ডিএনসিসির
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ২০:১৯
ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাজেট ঘোষণা করেন ডিএনসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। সংগৃহীত ছবি
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ দশমিক ৭৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নকে এবারের বাজেটের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাজেট ঘোষণা করেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
বাজেট ঘোষণা উপলক্ষে প্রশাসক বলেন, চলতি অর্থবছরের বাস্তবতা, রাজস্ব আদায় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় একটি যুগোপযোগী, বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের সহযোগিতায় সীমিত বাজেট নিয়েও বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, সফলভাবে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের পর জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বাসাবাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, করপোরেশনের আওতাধীন খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ক্রীড়া উপকরণ বিতরণের মতো সেবামূলক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রশাসক জানান, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবারের বাজেট সাজানো হয়েছে। এর আওতায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, ড্রেন ও ম্যানহোল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, বাসাবাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আধুনিক সড়কবাতি স্থাপন এবং রোড সেফটি উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া করপোরেশনের বিভিন্ন বাজার ও মার্কেটের আধুনিকীকরণ, হকার ব্যবস্থাপনায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, কোরবানির পশুর হাট আধুনিকীকরণ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল সংস্কার এবং নগরের খাল দখলমুক্ত ও সংস্কারের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগরের সব সেবা কার্যক্রম সিটি করপোরেশনের একক আওতাভুক্ত নয়; রাজউক, ওয়াসা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতামুক্ত ও পরিকল্পিত উত্তর ঢাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

