মোজাফফরের বিচার হবে জেনারেল কোর্ট মার্শালে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১৯:৪৮
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একই ব্যক্তিকে একই ঘটনায় দুটি পৃথক আইনে বিচার করার সুযোগ নেই। সেনা সদস্যদের ক্ষেত্রে মিলিটারি অ্যাক্ট প্রযোজ্য হওয়ায় মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার সেনাবাহিনীর নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে আত্মগোপনে ছিলেন মোজাফফর হোসেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করার পর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন সেনাবাহিনী জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠন করে তার বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের বিচারও সামরিক আদালতেই হয়েছে। সে সময়ের রায় এবং তদন্ত-সংক্রান্ত নথিতে মোজাফফর সম্পর্কে কোনো পর্যবেক্ষণ বা সিদ্ধান্ত থাকলে, জেনারেল কোর্ট মার্শাল তা বিবেচনায় নেবে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় নতুন করে কোনো ফৌজদারি মামলা যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে সিভিল কোর্টের এখতিয়ারভুক্ত কোনো বিষয় থাকলে তা আইনগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্থলমাইন শনাক্তে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বিজিবির কাছে সরবরাহ করা হয়েছে এবং সদস্যরা সেগুলো ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি মিয়ানমার সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০৯ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি প্রস্তাব রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
ভারত থেকে কথিত ‘পুশ-ইন’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিজিবি এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সহযোগিতায় এ ধরনের চেষ্টা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে অবস্থান করলে, প্রমাণ সাপেক্ষে দুই দেশের প্রচলিত কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
বিজিবির সদস্যদের সাম্প্রতিক দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাহিনীতে প্রতি বছর সাহসিকতা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পদক দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে ‘পুশ-ইন’ প্রতিরোধে বিশেষ অবদান রাখা সদস্যদের অতিরিক্ত সম্মাননা দেওয়ার বিষয়টি বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

