Logo

জাতীয়

ট্রাম্পের বিশেষ এ দূত এসেছেন বৃহস্পতিবার

আলোচনায় সার্জিও গরের ঢাকা সফর

ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০০:২০

আলোচনায় সার্জিও গরের ঢাকা সফর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়, ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি সার্জিও গর তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা এসেছেন। এ সফর বাংলাদেশ-ওয়াশিংটন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার নেতৃত্বে নবগঠিত বিএনপি সরকারের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সঙ্গে তার বৈঠক হবে। সফরে এসে বৃহস্পতিবারই বৈঠক হয়েছে পরলাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে। 

মূলত দুই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও রাজনৈতিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে এসব বৈঠক, এমনটিই ভাবছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি সামাল দেওয়া, জিএসপি বা সম্ভাব্য শুল্ক সুবিধা, তৈরি পোশাক খাতের শ্রম মান নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল সেবা, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে নতুন মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণই এই সফরের অন্যতম মুখ্য উদ্দেশ্য, বলছে দেশ দুটির নির্ভরযোগ্য সূত্র। 

সূত্রগুলো বলছে, সার্জিও গরের সফরের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও কৌশলগত দিক হলোÑ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক চীননির্ভর অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বেইজিং সফর ও মস্কো-আঙ্কারার সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটকে ওয়াশিংটন কীভাবে মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত নিরাপত্তা বিধান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং কক্সবাজারে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণপূর্বক রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই প্রত্যাবাসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা ঢাকা ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষের জন্যই একটি বড় পরীক্ষা। 

একদিকে চীনের সঙ্গে উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে ‘ভারসাম্যের কূটনীতি’ বজায় রাখাই এখন ঢাকার মূল চ্যালেঞ্জ। 

বস্তুত, ঢাকা-ওয়াশিংটনের বহুমাত্রিক সহযোগিতাকে আরও সুগম ও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সার্জিও গরের এই ঢাকা সফর ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে, আশা সংশ্লিষ্টদের। 

কূটনৈতিক সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, সার্জিও গরের সফরকে শুধুমাত্র একটি রুটিন কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। 

নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সফরের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হচ্ছে নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করা। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এই সফর ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করবে।

সার্জিও গরের সফরে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ইত্যাদি ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন সরকারের সঙ্গে দ্রুত কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করতে চায়, যাতে অতীতের মতবিরোধ পেছনে ফেলে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়।

বাণিজ্য-শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক বার্তা: সার্জিও গরের সফরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি হতে পারে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারগুলোর একটি। তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে কৃষিপণ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো ও সেবা খাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী। সে কারণে আলোচনায় আসতে পারে, বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কীভাবে আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে, সম্ভাব্য শুল্ক সুবিধা, বাণিজ্য ভারসাম্য এবং মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যে ভারসাম্য, মার্কিন পণ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং বাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বিশেষ দূতের সফরে এটি আলোচনায় আসতে পারে। এদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রম অধিকার, কর্মপরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

বিনিয়োগে গুরুত্ব: যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা। সে লক্ষ্যে জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ওষুধ শিল্প, অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল সেবাখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় বাজার, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

চীন-বাংলাদেশের সম্পর্কে ওয়াশিংটনের পর্যবেক্ষণ: সার্জিও গারের সফরের সবচেয়ে সংবেদনশীল দিক হতে পারে বাংলাদেশের সঙ্গে চীন সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে। ওই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। চীন বাংলাদেশে বড় অবকাঠামো প্রকল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বন্দর উন্নয়ন, শিল্পাঞ্চল, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরাসরি ‘চীনবিরোধী অবস্থান’ চাপিয়ে দিতে চায় না। বরং তাদের আগ্রহ-বাংলাদেশের কৌশলগত অগ্রাধিকার কী। অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে চীনের ভূমিকা কতটা। বাংলাদেশ কীভাবে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রাখছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মার্কিন ভূমিকা: সার্জিও গরের সফরে রোহিঙ্গা ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে। সফরের অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি। রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সংকটে বড় মানবিক সহায়তাকারী দেশগুলোর একটি। তবে বাংলাদেশের প্রধান দাবি হচ্ছে, শুধু ত্রাণ নয়, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ।

বঙ্গোপসাগর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা: বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কৌশলগতভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সার্জিও গোরের সফরকালে আলোচনায় আসতে পারে বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ দমন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূমিকা। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে থাকায় ঢাকার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের ভারসাম্যের কূটনীতি: কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সার্জিও গরের সফর বাংলাদেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরীক্ষা। ঢাকার লক্ষ্য থাকবে-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানো। চীনের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখা। ভারতসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।

অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে-বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। সব মিলিয়ে সার্জিও গরের ঢাকা সফরকে দেখা হচ্ছে নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ভিত্তি নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে। 

বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন গর: সার্জিও গর ঢাকায় এসেছেন বলে বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৪১ মিনিটে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।

পোস্টে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তার এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সার্জিও গরের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখার কথা রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্জিও গর হচ্ছেন ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা সফরকারী যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সার্জিও গরকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ওই পদে নিয়োগের পর থেকে তিনি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

এ বছরের জানুয়ারিতে সার্জিও গর দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ শুরু করেন। নয়াদিল্লিকে কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে রেখে তিনি ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গরের নেপাল ও শ্রীলঙ্কা সফর সেই আঞ্চলিক কৌশলেরই প্রতিফলন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবসময় ভালো। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে এবং হবে। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রতিনিধি সফরে এলে আমরা মনে করি, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও গভীর করবে। আমরা আশা করি, এ সফরের মধ্য দিয়ে নতুন কিছু বিষয় সামনে আসবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। এসব সম্পর্ক আরও সুগম হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও মানুষে মানুষে যোগাযোগ আরও এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর নিয়ে পর্যবেক্ষণ জানতে চাইলে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সফরকে বাংলাদেশের একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিৎ। এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ তার প্রত্যাশা তুলে ধরতে পারে। তবে সার্জিও গর বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্র নীতির বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করবেন বলে মনে করি। এ ছাড়া তার রোহিঙ্গা ইস্যুতেও একটি বড় ফোকাস থাকবে।

সফরে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নজর থাকবে কি না জানতে চাইলে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, এটা তারা সব দেশের সঙ্গেই করেন। প্রতিটি দেশের সঙ্গেই চীনের সম্পর্ক পর্যবেক্ষণে রাখেন। আর এটা খুবই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন