Logo

জাতীয়

৫ আগস্ট ঘিরে সতর্ক সরকার

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৫৫

৫ আগস্ট ঘিরে সতর্ক সরকার

ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক দুই বছর পর, দিনটিকে ঘিরে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও নাশকতার শঙ্কায় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে সরকার।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ৫ আগস্ট প্রথমবার প্রকাশ্যে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে উঠে এলে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়।

বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভারতীয় হাইকমিশনকে জানিয়েছেন যেন পলাতক শেখ হাসিনা বা নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে অস্থিতিশীল সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক বক্তব্য না দিতে পারেন।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১৯ জনকে গ্রেপ্তার ও ৭১টি মামলা করেছে ডিএমপি। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন ৫ আগস্টকে ঘিরে কিছু করার মুরোদ নেই আওয়ামী লীগের। একইসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সর্বদলীয় সভা করবেন এ বিষয়ে। 

অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের ওপর আক্রমণের নতুন প্রবণতা দেখা দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে অভিযানে যাওয়ার বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। সব মিলিয়ে, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ বাড়ছে, তেমনি অন্যদিকে ঢাকার রাজপথ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: দেশে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্টমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, উগ্রবাদ দমন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

পুলিশের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এটি পুলিশের একটি নরমাল প্র্যাকটিস। টহল বা ডিউটির সময় কেউ যেন আন-অ্যাটেন্ডেড না থাকে সেজন্য নিয়মিতই সতর্ক করা হয়। একে অন্য কোনোভাবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।

নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের অপতৎপরতার সুযোগ নেই জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে সামাজিক মাধ্যমে উঁকিঝুঁকি মারা ছাড়া মাঠে কোনো প্রভাব ফেলার সামর্থ্য রাখে না। 

শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে; ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সোমবার বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পলাতক শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) ছড়িয়ে পড়া এ খবর আলোচনায় উঠে আসে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাইকমিশনারকে জানান, পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।’ তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, উভয় পক্ষ নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ এবং পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সব বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান অর্জন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪১৯, মামলা ৭১: রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে ৪১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

নিয়াজ মেহেদী বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে-প্রতিমন্ত্রী: ভারতের মাটিতে থেকে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের অন্য কোনো পলাতক নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা চাই না ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো নেতিবাচক হোক, বরং আমরা সম্পর্ককে আরো উন্নত করতে চাই। কিন্তু পলাতক আসামিরা যদি ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন বা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্ত করেন, তবে তা দুই দেশের সম্পর্ককে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

বাংলাদেশ সব সময় ভারতের সঙ্গে একটি ‘ফরোয়ার্ড-লুকিং’ বা সামনের দিকে তাকানোর সম্পর্ক চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সরকারের অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।’

আগামীকাল ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সরকার আগেই জানিয়েছে তারা পলাতক কোনো আসামির রাজনৈতিক বক্তব্য আশা করে না। এখন এই ধরনের অনুষ্ঠানের বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী, তা তাদেরই পরিষ্কার করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় যেকোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বাংলাদেশ পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে—ভারতের মাটি ব্যবহার করে সাজাপ্রাপ্ত বা পলাতক কেউ যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন। প্রয়োজন হলে সরকার আবার কূটনৈতিক মাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।’

অবশেষে প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা, ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে পারেন।

অনুষ্ঠানটি নয়াদিল্লির মাথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে, ক্লাবটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে এটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম উপস্থিতি: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ–অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা।

এরপর গত দুই বছরে তাকে কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেখা যায়নি। ফলে এবারের বক্তব্যকে তার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম বড় ধরনের প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরও যারা থাকবেন: আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আরও কয়েকজন বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা, সাবেক কূটনীতিক ও বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব অংশ নেবেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক।

এছাড়া জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক আবু ওবায়দাহ আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএর পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ারও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ধরনে পরিবর্তন এসেছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।  একদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, অন্যদিকে পুলিশের প্রতি ভয় কমেছে। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের পর মনোবল হারানো পুলিশ বাহিনীও এখনো পুরোপুরি আগের ছন্দে ফিরতে পারেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি সরাসরি রাষ্ট্রের আইন ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ। যারা মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করেন, তাদের ওপর আক্রমণ মানে আইনকেই অস্বীকার করা এবং একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি অবমাননা ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

এই অপরাধ বিশেষজ্ঞের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা দীর্ঘদিনের একটি প্রক্রিয়ার ফল। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা কমে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পুলিশের বিষয়ে মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, যেখানে মানুষ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তবে তা এখনো ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান নয়।

পুলিশের ওপর হামলা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না কেন-জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, এটার দুটি দিক আছে। একটি হলো, আমাদের দেশে কোনো খারাপ প্রবণতা শুরু হলে সেটার ধারা থামাতে কিছুটা সময় লাগে। একটা সময় মানুষ পুলিশের ওপর আস্থাহীনতায় ভুগছিল। ফলে তারা নানা ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছিল। তখন পুলিশও কিছুটা দুর্বল অবস্থায় ছিল। এখন এসব বিষয়ে পুলিশ সক্রিয় হয়েছে। ফলে এই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। তারপরও দুই-একটি ঘটনা ঘটছে। তবে প্রতিটি ঘটনায় আমরা পরবর্তীতে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের সদস্যদেরও কিছু গাফিলতি থাকে। আমরা সবসময় নির্দেশনা দিই যে আগে যেমন তিনজন সদস্য গিয়ে একজন মাদকসেবীকে ধরে আনত, এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। আগে মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ছিল, আবার অপরাধীদের মধ্যেও ভয় ছিল। গণঅভ্যুত্থানসহ নানা কারণে অপরাধীরা এখন অনেক বেশি সাহসী হয়ে উঠেছে, যোগ করেন তিনি।

পুলিশ সদস্যদের নিরাপদে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের বলা হয়েছে অভিযানে গেলে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করতে, পর্যাপ্ত লোকবল নিয়ে যেতে। দুই-চারজন সদস্য নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান না চালিয়ে প্রয়োজনে অভিযান কম করা হোক, তবুও ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

তারপরও বাস্তবতায় অনেক সময় দেখা যায়, কোনো আসামির অবস্থান জানা গেলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয় না। তখনই হয়তো দুই-একটি ঘটনা ঘটে যায়। তবে আমরা ক্রমান্বয়ে পরিস্থিতির উন্নতি করছি, যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন