তিন বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে বেবিচকের বক্তব্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫২
ছবি: সংগৃহীত
গত ৫ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘৫০০ কোটি টাকা ব্যয়েও সুফল নেই, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে তিন বিমানবন্দর’ শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিবৃতি দিয়েছে।
গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বেবিচক জানায়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম (রাজশাহী) বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তার অনেকাংশই প্রকল্পের বাস্তবতা ও কারিগরি প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টি স্পষ্ট করতে বিবৃতিতে কিছু তথ্য তুলে ধরেছে বেবিচক। এতে বলা হয়, উল্লেখিত প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধি, রানওয়ে ওভারলে, রানওয়ে সাইড স্ট্রিপ উন্নয়ন, এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর উন্নয়ন। ক্রমবর্ধমান বিমান চলাচলের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরাপদ উড্ডয়ন ও অবতরণ নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা উন্নয়ন এই প্রকল্পের কার্যপরিধির অন্তর্ভুক্ত নয়।
আরও বলা হয়, তিনটি বিমানবন্দরই স্বাধীনতার আগে বা পরপর নির্মিত হয়, যখন দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের চাহিদা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। সে সময় সীমিত পরিসরের জমিতে বিমানবন্দর নির্মিত হওয়ায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রানওয়ে সাইড স্ট্রিপ ও Runway End Safety Area (RESA)-এর জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নেই। এ ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন, যা বর্তমান প্রকল্পের আওতায় নেই। তবে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থায়নে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে।
বেচিক বিবৃতিতে বলে, বিশ্বের বহু দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতা ও পরিচালন নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দেশের Aeronautical Information Publication (AIP)-এ প্রকাশিত থাকে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) নির্ধারিত এসব নির্দেশনা নিরাপদ অপারেশন পরিচালনার জন্য প্রণীত; এগুলো বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে না।
বলা হয়, প্রতিবেদনে রানওয়ের উঁচু-নিচু অবস্থা নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটিও প্রকল্প বাস্তবায়নের কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা না করেই উপস্থাপন করা হয়েছে। অপারেশনাল বিমানবন্দরে রানওয়ে উন্নয়নকাজ চলাকালে ICAO নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যমান ও নতুন সারফেসের উচ্চতার পার্থক্য সামঞ্জস্য রাখতে অস্থায়ী ১:১২০ অনুপাতে র্যাম্প নির্মাণ করা হয়। এর ফলে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় সামান্য সহনীয় ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে, যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্মাণ পদ্ধতির অংশ। চূড়ান্ত সারফেস সম্পন্ন হওয়ার পর এসব র্যাম্প আর থাকে না এবং পুরো রানওয়ে একই সমতলে চলে আসে।
বেবিচকের মতে, প্রতিবেদনে রানওয়ে লাইটিং ব্যবস্থা নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো লাইটিং ব্যবস্থা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক নির্মাণ পদ্ধতি অনুযায়ী রানওয়ের ভারী নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই স্থায়ী লাইটিং স্থাপন করা হয়, যাতে তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বর্তমানে কেবল লেইং পিটসহ সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানবন্দরগুলোর অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ ব্যবস্থাও প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে তা বিদ্যমান বহিরাগত ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে।
প্রকল্পের সার্বিক তদারকিতে দেশের স্বনামধন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও প্রকৌশলীরা দায়িত্ব পালন করছেন জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি প্রায় ৭৬ শতাংশ। যশোর বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিয়মিত উড্ডয়ন কার্যক্রম এবং সীমিত NOTAM সময়সীমার কারণে সেখানে কাজের গতি তুলনামূলক কম হলেও নির্ধারিত সময় জুন ২০২৭-এর মধ্যেই প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন হবে।
অগ্নিনির্বাপণ যানবাহন ক্রয়ের বিষয়েও প্রতিবেদনে অসম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলা হয় বিবৃতিতে। আরও বলা হয়, প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসব যানবাহন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি ব্যয় এড়ানো যায় এবং সরকারি অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত হয়।
বেবিচক জানায়, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। বাস্তবে এ ধরনের কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। একইভাবে অডিট আপত্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও প্রমাণাদি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অডিট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্বার্থে এবং জনসাধারণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উপর্যুক্ত প্রকৃত তথ্যসমূহ যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশের জন্য অনুরোধ জানায় বেবিচক।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

