ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। বিগত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এই শূন্যতা পূরণে নির্বাচন কমিশন ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।
সাধারণত সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে এবার প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ভাবা হচ্ছে, যা ১২ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা রয়েছে। বিএনপির পক্ষে ইতোমধ্যেই সংসদ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থী নিবন্ধনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন, তবে ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন।
তবে, একক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হলে বা বাকিরা প্রত্যাহার করে নিলে ১৬ আগস্টই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হবে। যদিও ৩৫০ আসনের সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী তাদের প্রার্থীর বিজয় প্রায় নিশ্চিত।
রাষ্ট্রপতি পদে হতে যাচ্ছে ভোট, ইতিহাসে দ্বিতীয়বার: ২০ আগস্ট দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ ভোট।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দল বা ১১ দলীয় জোট থেকে প্রার্থী ঘোষণা করায় নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও এখনো মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহারের সময় রয়েছে।
এর আগে দেশের ইতিহাসে একবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী।
দুটি মনোনয়নপত্র নিয়েছে বিএনপি: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয় থেকে দলটি এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি রোববার একটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। আরেকটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে তারা কার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান আছে। কারণ, একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে যাতে অন্যটি বিবেচনায় নেওয়া যায়। সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও এমনটা করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা ফখরুল: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দিচ্ছে বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
রোববার বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১২ আগস্ট এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
এর আগে গত ১ আগস্ট বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্বাচন, কবে নির্বাচন হবে- এসব দায়িত্ব আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ: রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী করা হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে। রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্রসংস্কারে বিএনপি অনীহা দেখিয়েছে। তারা পূর্বতন সরকারগুলোর মতোই এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করা হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের মাধ্যমে হবে। কিন্তু বিএনপি এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি সংস্কারের পথে হাঁটলে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল মিলে এককভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া যেত। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এ জন্য ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে।
জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না-কর্নেল অলি: ১১-দলীয় ঐক্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আমি সমগ্র জাতির কাছে কৃতজ্ঞ। ১১-দলীয় ঐক্যজোটের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের নেতাকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাদের মাধ্যমে আমরা জাতিকে বলতে চাই, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করব না।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা হারব না জিতব, এটা প্রশ্ন না। প্রশ্নটা হচ্ছে, আমরা জনগণের পাশে সবসময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব। সেই মন-মানসিকতা নিয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে হয়েছি। সর্বসম্মতিক্রমে উনারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। আমি সমগ্র জাতিকে ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরীক্ষিত একজন লোক, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নেই। সুন্দরভাবে জীবন যাপন করেছি বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে।’
বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমাদের বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য একজন ব্যক্তিকে আমরা নির্বাচন ও মনোনয়ন দিতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে, আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ’৭১-এর রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, জুলাই বিপ্লবের চেতনার একজন বলিষ্ঠ ধারক ও যোদ্ধাকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থী নির্বাচন করেছি।’
মামুনুল হক বলেন, ‘আমি আশা করব, আমাদের ১১ দলের বাইরেও, এমনকি বিএনপিরও যারা দেশকে ভালোবাসেন, দেশপ্রেমিক, তারাও আমাদের এই প্রার্থীর যোগ্যতার কথা এবং তার অগ্রগণ্যতার কথা স্বীকার করবেন। সেই হিসাবে আমরা প্রত্যাশা রাখি, তিনি ইনআশাল্লাহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আগামী বাংলাদেশকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেবেন। আপনাদের সকলের কাছ থেকে আমরা সে সহযোগিতা চাই।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেশের কল্যাণের জন্য আমাদের বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যক্তিটাকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। আপনারা দোয়া করবেন, আমাদের প্রত্যেকটি কাজ যেন জাতির জন্য হয়, জাতির কল্যাণের জন্য হয়। আমরা এ ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ কোনো আপস করব না। আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য দায়িত্ব হিসেবে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মনে করি, সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি এবং সুস্বাস্থ্য ফিরে আসবে।’
কারা হতে পারেন প্রার্থী, কীভাবে হয় ভোট: রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ইচ্ছা করলেই যে কেউ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন না। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী কে হবেন, তা ঠিক করেন সংসদ সদস্য তথা রাজনৈতিক দল।
রাজনৈতিক দল ও সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আগে প্রার্থীর কিছু যোগ্যতা-অযোগ্যতা মাথায় রাখতে হয়। যেমন রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তির বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। সব যোগ্যতা থাকার পর সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ সব সাংবিধানিক ও আইনি শর্ত পূরণ করেই যেকোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। আর জয়-পরাজয় নির্ভর করে সংসদে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর।
৬৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা সদস্য পদে থাকার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না, যদি তিনি আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হন, দেউলিয়া হয়ে দায়মুক্ত না হন, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ বা আনুগত্য স্বীকার করেন, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ড পেয়ে মুক্তির পাঁচ বছর না পেরোয়, ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশে দণ্ডিত হন, লাভজনক সরকারি পদে অধিষ্ঠিত থাকেন বা আইন অনুযায়ী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হন।
এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্যতার বিষয়ে আরও কিছু বিষয় বিস্তারিত বলা আছে। এসব অযোগ্যতা থাকলেও কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না।
সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যোগ্য বিবেচিত হওয়ার পরও যে কেউ চাইলেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে পারেন না। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন সংসদ সদস্য। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে ওই সংসদ সদস্যের সই থাকতে হবে। সমর্থক হিসেবে অন্য আরেকজন সংসদ সদস্যের সই থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত ব্যক্তির সম্মতি আছে, এমন সই করা (প্রার্থীর সই) বিবৃতিতে থাকতে হবে।
যেভাবে ভোট গ্রহণ: আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে। একজন সংসদ সদস্য একটি ভোট দিতে পারবেন। ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন আগেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক ব্যালট পেপার প্রস্তুত করবে। প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে। কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে প্রত্যেক ভোটারের নাম ও স্বাক্ষরের জন্য স্থান নির্ধারিত থাকবে।
প্রতিটি ব্যালট পেপারের আউটার ফয়েলে (যেখানে ভোট দেন ভোটার) রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীদের নাম আদ্যক্ষর অনুযায়ী ক্রমানুসারে মুদ্রিত থাকবে। এর পাশে সংসদ সদস্য অর্থাৎ ভোটার পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট সম্পন্ন করবেন।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

