Logo

জাতীয়

ভোট হবে বিকাল ২টা থেকে ৫টা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:২৩

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

চিফ হুইপ বলেন, সংসদ সদস্যরা আসন নম্বর অনুযায়ী নির্ধারিত বুথে গিয়ে ভোট দেবেন। ব্যালটে প্রার্থীর নাম লিখে ভোট দিতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে স্পিকার, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিসহ নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়।

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। বিএনপির প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি জানান, বিরোধী দলের ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় এটিকে অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যেই বিরোধী দল প্রার্থী দিয়েছে বলে জানান তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, সংসদ ভবনের ভেতরেই ভোটগ্রহণের জন্য বুথ স্থাপন করা হবে। রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারও ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণের সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকবে এবং ভোট শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রস্তুতের প্রক্রিয়াও গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

তিনি জানান, মোট ভোট ৩৪৯টি। নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হলে ফলাফল প্রস্তুতের কাজ শুরু করা যাবে। তবে কোনো ভোট বাকি থাকলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

থাকবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানান চিফ হুইপ। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাদের সাচিবিক সহায়তা দেবেন।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট নয়: বিএনপির সংসদ সদস্যরা দলীয় প্রার্থীর বাইরে ভোট দিতে পারবেন কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলে দলের সব সংসদ সদস্য একসঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

প্রকাশ্য ভোট নিয়ে বিতর্ক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের গোপনীয়তা নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যরা ব্যালটে প্রার্থীর নাম লেখার পাশাপাশি নিজের নাম ও আসন নম্বরও লিখবেন। ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তার ভাষ্য, জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার সময় গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। গোপন ব্যালটে ভোট হলে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে এ বিষয়ে বর্তমানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের মাধ্যমেই ব্যালটের ব্যবস্থা করা যেত বলে জানান তিনি।

জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচন না হওয়ায় অসন্তোষ: চিফ হুইপ বলেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। গণভোটের রায় সংস্কারের পক্ষে যাওয়ার পর সংসদে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ ছিল।

তবে তা না হওয়ায় বর্তমান ব্যবস্থাতেই নির্বাচন হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন না করে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন চিফ হুইপ।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন নয়, বিদ্যমান সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে নতুন বিল আনার কথাও জানান তিনি।

বিএনপির প্রার্থী কবে চূড়ান্ত হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলে আমরা সবাই জানতে পারব। মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময়ই আমরা সবাই জানব।’

নির্বাচন ঘিরে সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নিচতলায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ পরিচালক মনির হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে এ সভা হয়।

এর আগে ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে।

সাড়ে তিন দশক পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এরই মধ্যে বিরোধী দল জামায়াত তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট হয়। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তার দায়িত্ব পালন করেন। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র নির্বাচন ভবনে সিইসির কাছে জমা দিতে হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত দলীয় প্রার্থীর জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।

মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের কার্যক্রম সিইসির কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ কক্ষে ভোট হয়। এ সময় সহায়ক কর্মকর্তারা নির্বাচনি কর্তাকে ভোট গ্রহণের কাজে সহযোগিতা করেন। সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। পরে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি আইনে প্রকাশ্য ভোটের বিধান করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনসহ বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন এবং জামায়াতের ৭৭ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র আট জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আটজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের তিন জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) এক জন, গণসংহতি আন্দোলনের একজন, গণপরিষদের একজন, খেলাফত মজলিশের একজন এবং জাগপার একজন সদস্য রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি তাদের প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন বলে দলটির সূত্র জানিয়েছে। বিএনপি ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন