রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দিল জামায়াত জোট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৬
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই মনোনয়নপত্র সিইসির কাছে জমা দেন। এ সময় ১১–দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং কয়েকজন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
অলি আহমদের মনোনয়নে প্রস্তাবক হিসেবে সই করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। সমর্থক হিসেবে সই করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীরবিক্রম’ খেতাব পাওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। দুই দফায় খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী ছিলেন তিনি।
তবে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ২০০৬ সালে বিএনপি ছাড়েন অলি। ওই বছর ২৬ অক্টোবর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সঙ্গে মিলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এলডিপি। তবে আদর্শগত পার্থক্যের কারণে ২০০৭ সালে বিকল্প ধারা ও এলডিপি আলাদা হয়ে যায়।
শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকলেও পরে বিএনপির জোটভুক্ত হয় এলডিপি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধনি ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেন অলি।
তবে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর নতুন মেরুকরণে বিএনপির সঙ্গে অলির বনিবনা হচ্ছিল না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তার এলডিপি যখন জামায়াত জোটে যোগ দিল, অনেকেই তখন বিস্মিত হয়েছিলেন।
প্রথমে বিএনপি এবং পরে এলডিপি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি অলি আহমদের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। এলডিপি ১১ দলীয় ঐক্যে যোগ দেওয়ার পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে প্রার্থী করা হয় অলির ছেলে ওমর ফারুককে। তবে ভোটের লড়াইয়ে তিনি বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদের কাছে পরাজিত হন।
বাংলাদেশের বাইশতম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন।
সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।
তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল আজ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)। মনোনয়নপত্র যাচাই ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বাছাই পযন্ত (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।
ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষ)।
সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র আট জন, এনসিপির আট জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের তিন জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক জন, বিজেপির এক জন, গণসংহতি আন্দোলনের এক জন, গণপরিষদের এক জন, খেলাফত মজলিশের এক জন এবং জাগপার এক জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

