বেসামরিক বিমান চলাচলের হুমকি ও ঝুঁকি মোকাবিলা
বেবিচকে CATRAC-এর দ্বিতীয় সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩০
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকি নিয়মিত মূল্যায়ন, গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের লক্ষ্যে Civil Aviation Threat and Risk Assessment Committee (CATRAC)-এর দ্বিতীয় সভা বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন CATRAC-এর সভাপতি ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বেসামরিক বিমান চলাচল খাত সন্ত্রাসবাদ, সাইবার ঝুঁকি, Insider Threat, IED ও Drone হামলাসহ বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ICAO-এর Annex 17 অনুযায়ী নিয়মিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে CATRAC গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে Civil Aviation Risk Context Statement (CARCS) চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম আসন্ন ICAO Universal Security Audit Programme – Continuous Monitoring Approach (USAP-CMA) অডিটের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় CATRAC-এর প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আজকের সভায় বর্তমান ও উদীয়মান নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বিমানবন্দরের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর। ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং যাত্রী ও ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য চুরিসহ বিভিন্ন সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বেবিচক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় জানানো হয়, NCASP ও ATSP-তে Cybersecurity অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং Civil Aviation Cybersecurity Directives জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া Bangladesh Computer Council (BCC)-এর e-Gov CIRT-এর সঙ্গে Cybersecurity Audit সম্পাদনের জন্য MoU সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিমানবন্দরসমূহকে Critical Information Infrastructure (CII) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং National Cybersecurity Agency (NCSA) থেকে নিয়মিত নির্দেশনা গ্রহণ করা হচ্ছে। সভায় Aircraft Search-এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে Higher-Risk Designation List (HRDL) প্রণয়নে গোয়োন্দা সংস্থাদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ ছাড়া এই সভায় পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, আজকের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে সময়োপযোগী তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সক্ষম হব বলে আমি আশাবাদী।
সভায় বেবিচক-এর সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা পরিবেশে হুমকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কার্যকর ঝুঁকি মূল্যায়ন, যথাযথ তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম ICAO-এর আসন্ন নিরাপত্তা অডিট সফলভাবে মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতি সভায় সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক মতামতের জন্য সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান এবং CATRAC-এর দ্বিতীয় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য যে, CATRAC-এর পরবর্তী সভা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

