Logo

জাতীয়

গ্যাসের তীব্র সংকটে ধুঁকছে শিল্পকারখানা

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ২১:১৩

গ্যাসের তীব্র সংকটে ধুঁকছে শিল্পকারখানা

ছবি: সংগৃহীত

সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দুর্ঘটনা এবং পরবর্তী কার্গো-সংকটের কারণে দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ২১৮ কোটি ঘনফুটে। এই ঘাটতির প্রভাবে নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহের ভালুকায় টেক্সটাইল, ডাইং ও সিরামিকসহ শত শত শিল্পকারখানার উৎপাদন ২৫ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে, বহু কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছে। 

অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটে দেশের ৫২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ২১টি সম্পূর্ণ এবং ৮টি আংশিক বন্ধ থাকায় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ৬,৩১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না, যা বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডে ৩,৭০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত রেকর্ড লোডশেডিং সৃষ্টি করেছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার ও বিদ্যুতে গ্যাস দেওয়ায় শিল্প খাত মারাত্মক অনিশ্চয়তায় পড়েছে, যা রপ্তানি হ্রাস, ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা এবং সামাজিক ও শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।

একাধিক শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা জানালেন, হবিগঞ্জ ও ভোলা ছাড়া অন্য সব এলাকার বেশির ভাগ গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা কমবেশি গ্যাস-সংকটে ভুগছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উদ্যোক্তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শ্রমিকের বেতন ও ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন না তারা।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের একটি টার্মিনাল দুর্ঘটনার কারণে প্রায় এক মাস ধরে দেশের শিল্পকারখানা তীব্র গ্যাস-সংকটে ভুগছে। গত শনিবার গ্যাস সরবরাহ বাড়লে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করে। এলএনজি সরবরাহের টার্মিনাল সামিট পুরোদমে ও এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক চালু হয়। তবে সংকট পুরোপুরি কাটার আগেই আবার পরিস্থিতি খারাপ হয়। তিন দিন ধরে সরবরাহ কমার পর বুধবার বেলা ৩টায় কার্গো সংকটের কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সংকট আরও বাড়তে পারে।

জানতে চাইলে সিরামিক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিসিএমইএর সভাপতি মঈনুল ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জ ও ভোলা ছাড়া অন্য এলাকার কারখানা চলছে না। আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। চুপচাপ বসে অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। এভাবে চলতে থাকলে মালিকরা শ্রমিকের বেতন দিতে পারবে না। তাতে সামাজিক অসন্তোষ তৈরি হবে।

সরেজমিন নরসিংদী: বৃহস্পতিবার নরসিংদী সদর ও মাধবদী এলাকার ১০টি গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাসনির্ভর অধিকাংশ শিল্পকারখানা বন্ধ। কয়েকটি কারখানায় গেটের ভিতর শ্রমিক-কর্মচারীদের অলস সময় পার করতে দেখা যায়।

নরসিংদী শহরের তাসফিয়া ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলস কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকেরা ভিতরেই অবস্থান করছেন। মেঝেতে শত শত শাড়িকাপড় পড়ে রয়েছে। মেশিনের ভেতরেও ভেজা কাপড়।

কারখানার প্রিন্টিং মাস্টার আশুতোষ বৈষ্ণব বলেন, ‘পাঁচ দিন আগে এক দিনের জন্য গ্যাস পেয়েছিলাম। সেদিন প্রসেসের জন্য কাপড়গুলো ভেজানো হয়। তখন আবার গ্যাস চলে গেলে প্রসেস শেষ করা যায়নি। সে জন্য পাঁচ দিনেও কাপড়গুলো মেশিন থেকে নামানো সম্ভব হয়নি। কাপড়গুলো পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’

এদিকে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের শিল্পপার্কে উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ না থাকলেও সেদিন দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘নরসিংদী ও গাজীপুরে আমাদের ৫টি শিল্পপার্ক রয়েছে। এগুলোতে গ্যাসের চাপ বর্তমানে সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে। উৎপাদন পুরোদমে চলছে।’

জানতে চাইলে তিতাস গ্যাসের নরসিংদী আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক এস এম ফজলুল হক বলেন, ‘নরসিংদীর শিল্পকারখানায় যতটুকু গ্যাস লাগে, তার চেয়েও বেশি লাগে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায়। এ ছাড়া আছে বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখন সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে সার ও বিদ্যুতের উৎপাদন। সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের পর যেটুকু গ্যাস অবশিষ্ট থাকছে, সেটুকু শিল্পকারখানায় দিচ্ছি।’

নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরেও সংকট: গাজীপুরের মাওনা এলাকায় আর্টিসান সিরামিকসের কারখানায় গ্যাস-সংকটের কারণে উৎপাদন ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। দিনে ২২ হাজার পিস তৈজসপত্র উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে তাদের। তবে বৃহস্পতিবার উৎপাদন হয়েছে ৬ হাজার পিস তৈজসপত্র।

আর্টিসান সিরামিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম মামুনূর রশীদ বলেন, গত তিন দিনে গ্যাসের সংকট আরও বেড়েছে। আগে রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লেও এখন সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। উচ্চচাপে যেসব তৈজসপত্র পোড়াতে হয়, সেগুলো বর্তমানে উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এতে অনেক ক্রয়াদেশ স্থগিত হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ৩০০ কোটি ঘনফুট হলেও মোটামুটি সব খাতে সরবরাহ ধরে রাখা যায়। যদিও স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। গত শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ ১৭৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল। তারপর শনিবার সন্ধ্যায় তা বেড়ে ২৪৪ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার আবার গ্যাসের সরবরাহ কমে ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে।

নারায়ণগঞ্জ বিসিক শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে কম। এতে কাপড় ডাইং ও ফিনিংশ কারখানা চলছে না। ফলে তৈরি পোশাক কারখানার কাঁচামাল সরবরাহে ঘাটতির শঙ্কা প্রকাশ করছেন উদ্যোক্তারা।

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘দুই দিন গ্যাসের ভালো চাপ পেয়েছিলাম আমরা। গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে আবার গ্যাস নেই। ডাইং কারখানা পুরোপুরি বন্ধ। এভাবে চললে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কায় নারায়ণগঞ্জের বন্ধ কারখানায় চলছে সংস্কারকাজ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার সৈকত টেক্সটাইলের ভেতরে বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি কাপড় পড়ে। কিন্তু গ্যাস সংকটে ডাইং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কারখানায় কোনো উৎপাদন হয়নি। শেডে চলে ঝালাইয়ের কাজ। ভেতরে অল্প কয়েকজন শ্রমিক দেখা গেলেও তাদের কোনো উৎপাদনকাজ ছিল না।

ফতুল্লা এলাকার অন্যান্য ডাইং ও টেক্সটাইল কারখানাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং কারখানা ঘুরে দেখা যায়, যান্ত্রিক আওয়াজের বদলে সেখানে ছিল নীরবতা। নিরাপত্তাকর্মী ও কারখানা তদারকির দায়িত্বে থাকা কয়েকজন স্টাফ ছাড়া কেউ ছিল না। কর্মকর্তারা কারখানায় থাকলেও শ্রমিকরা হাজিরা দিয়েই চলে গেছেন। বিশাল মেশিনগুলোও অলস পড়ে আছে।

ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিংয়ের জিএম তুষার বলেন, কারখানা পুরোপুরি বন্ধ। আমার আশপাশের সব ডাইং কারখানার একই অবস্থা। 

বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের সদস্যভুক্ত অন্তত ১৫২টি কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাড়তি জ্বালানি ব্যবহার করে এ উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। অনেক মালিক কারখানা বন্ধ করে রেখেছেন। একটি কারখানা ইতোমধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

ময়মনসিংহে ২০ কারখানা ছুটি ঘোষণা: তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলের ২০টি কারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের অভাবের মধ্যে শ্রমিকরা কারখানায় আসেন। ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছুটি দিতে হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতেও উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভালুকা পৌর এলাকা, তিতাস কার্যালয়ের আশপাশের কারখানাগুলোতে গ্যাসের কিছুটা চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে একেবারে নেই।

চাহিদামত গ্যাসের চাপ না থাকায় একের পর এক কারখানার উৎপাদন থমকে যেতে বসেছে। 

শিল্প পুলিশ-৫ (ময়মনসিংহ ইউনিট) এর তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে মোট ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসে পরিচালিত। বর্তমানে এসব কারখানার প্রায় প্রতিটিই গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল, ফলে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ছয় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন থেমে: দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়লেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় সেই সক্ষমতার বড় অংশই কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিদ্যুতের চাহিদা যখন বাড়ছে, তখনও গ্যাস সংকটে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকছে। আবার কোনো কোনো কেন্দ্র চালু রয়েছে ঢিমেতালে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট। এরমধ্যে গ্যাসের অভাবে ২১টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ এবং আরও আটটি কেন্দ্র আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এই ২৯টি কেন্দ্র পুরোদমে সচল করা গেলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতে পারতো। অর্থাৎ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা থাকার পরও মূল সংকট তৈরি হয়েছে জ্বালানি সবররাহে।

বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে চলতি আগস্টে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই গড়ে ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করছে সরকার। এমনকি ১০ আগস্ট মধ্যরাতের পর লোডশেডিং ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছে, যা সর্বকালের রেকর্ড বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে উৎপাদনে যেতে না পেরে একদিকে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেমন বসে আছে, অন্যদিকে মানুষকে পোহাতে হচ্ছে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো গ্যাসের তীব্র সংকট।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশের ৫২টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে দৈনিক ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে এই চাহিদার অর্ধেকও নিয়মিত সরবরাহ করা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন