Logo

জাতীয়

২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, বঙ্গভবনে শপথ আজ

Icon

হাসান রাজীব

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৯

২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, বঙ্গভবনে শপথ আজ

‎# রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে প্রজ্ঞাপন জারি
# মির্জা ফখরুল পেলেন ২৫৫ ভোট, অলি আহমদ ৮৮
# রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
‎# সংসদজুড়ে আনন্দের জোয়ার
‎# ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
‎# ভোট দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদ সদস্যরা
‎# ভোট দেননি মির্জা আব্বাস-রুমিন ফারহানা-গাজী নজরুলসহ ৬ এমপি
‎# শিক্ষকতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধান
‎দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ভোটে ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সম্মুখসারির বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে আসছেন।
এদিকে, মির্জা ফখরুলকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
‎গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকেল ৫টায়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়। গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন।
‎এসময় তিনি বলেন, ‘মোট ভোটার ছিল ৩৪৯ জন। ব্যালট প্রস্তুত করা হয় ৩৪৯টি। ৩৪৩টি ব্যালট ব্যবহৃত হয়েছে। এরমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, আর অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ৪টি ব্যালট ত্রুটির কারণে রিপ্লেস করা হয়েছে। ১৯৯১-এর আইনের বিধি ১০ অনুযায়ী রিপ্লেস করা যায়। কোনো ভোট বাতিল হয়নি।’
‎নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোলাপ ফুল দিয়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তার আসন থেকে উঠে এসে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি নিজেও নিজের আসন থেকে উঠে গিয়ে বিরোধী দলের নেতাসহ অন্যদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।
‎এ সময় বিএনপির অন্যান্য সংসদ সদস্যরা আসন থেকে উঠে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোলাকুলি ও করমর্দন করেন। এরপর ভোট গণনা করা হয়। ভোট গণনার সময় সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে ডেকে নিয়ে তা প্রত্যক্ষ করেন।
‎সংসদজুড়ে আনন্দের জোয়ার: বিপুল ভোটের দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার দলীয় ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের বুকে জড়িয়ে নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির হাতে ফুল তুলে দেন। এরপর নতুন রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অধিবেশন কক্ষের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। পরে নিজ আসন ছেড়ে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে বুকে টেনে নেন মির্জা ফখরুল। এরপর বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে বুকে জড়িয়ে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‎এসময় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার আসন থেকে উঠে সামনে চলে আসেন। তা দেখে সরকার ও বিরোধী দলীয় সকল সদস্যরা আসন ছেড়ে নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ছুটে আসেন।
‎হাসিমুখে মির্জা ফখরুল সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বেশিরভাগ সংসদ সদস্যের সঙ্গে কোলাকুলি করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। শুভেচ্ছা বিনিময়ের ফাঁকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজে এগিয়ে গিয়ে ডায়েসে বসা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারের সঙ্গে শুভেচ্ছা জানান।
‎রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে প্রজ্ঞাপন জারি: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
‎নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গেজেট প্রকাশ হয়েছে। এখন শপথ আয়োজনের বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এতে বলা হয়েছে, নম্বর- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২৭ নম্বর আইন) এর ধারা ১১ অনুসারে নির্বাচনি কর্তা ও নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা মোতাবেক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পিতা- মির্জা রুহল আমিন, গ্রাম-কালিবাড়ী, ডাকঘর- ঠাকুরগাঁও ৫১০০, ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, ঠাকুরগাঁওকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর বিধি ১২ (৬) অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হইয়াছেন মর্মে ঘোষণা করা হইল।
‎রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আজ শুক্রবার বঙ্গভবনে সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
‎এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চায়, বর্তমানে ডেপুটি স্পিকার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় সাংবিধানিকভাবে তাদের করণীয় কী, সে বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। পরে আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত জানায়। মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতিকে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার শপথ পড়াতে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই।
‎মির্জা আব্বাস-রুমিন ফারহানা-গাজী নজরুলসহ ভোট দেননি ৬ এমপি: বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ছয়জন সংসদ সদস্য। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোট না দেওয়া সদস্যদের মধ্যে বিএনপির তিনজন, জামায়াতের একজন, খেলাফত মজলিসের একজন এবং একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন।
‎ভোট না দেওয়া বিএনপির তিন সংসদ সদস্য হলেন মির্জা আব্বাস, ওসমান ফারুক ও মোস্তফা কামাল পাশা। এ ছাড়া জামায়াতের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারাহানা ভোট দেননি।
‎সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করায় ভোট দিতে পারবেন না-এ কথা জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। ফলে তিনি ভোটগ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন না। তবে বাকি পাঁচ সংসদ সদস্য ভোট না দেওয়ার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
‎৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। পরবর্তী ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। ফলে গতকালের নির্বাচন ৩৫ বছর পর সংসদে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
‎সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের জয় আগে থেকেই অনেকটা প্রত্যাশিত ছিল।
‎শিক্ষকতা থেকে রাষ্ট্রপতি: শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এই রাজনীতিকের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায়। শৈশব-কৈশর নিজ জন্মস্থানে কাটালেও কলেজ জীবনে পাড়ি জমান রাজধানীতে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মির্জা ফখরুল। সে সময়ই ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক কারণে জেলও খেটেছেন তিনি। তখন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে এস এ বারীর পদত্যাগের পর তিনি আবার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যান। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে কর্মরত অবস্থায় তিনি সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও ইউনেসকো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেছেন।
‎১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় যোগ দেন বিএনপিতে। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একইসাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
‎২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১১ সালের মার্চে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি মহাসচিব হন। একাই টেনে নিয়ে গেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। হাজারও ত্যাগ স্বীকার করেছেন কিন্তু কোনো প্রলোভনেই আদর্শ বিসর্জন দেননি মির্জা ফখরুল ইসলাম। আর তারই স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনীত করে বিএনপি। আজ মির্জা ফখরুল যেন তার দীর্ঘ এই ত্যাগের যথোপযুক্ত সম্মানই পেলেন।
‎ব্যক্তিগত জীবনে রাহাত আরা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মির্জা ফখরুল। এই দম্পতির দুই মেয়ে, শামারুহ মির্জা ও সাফারুহ মির্জা। দু’জনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশনা করেছেন। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন, কিন্তু বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
‎বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন হলেও অতি সাধারণ জীবনযাপন বরেন্য এই রাজনীতিবিদের। জনগণের সঙ্গে মিশেছেন একদম কাছ থেকে। কখনোই বৈষম্য করেননি। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে উঠবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‎এর আগে গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ায় গত ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশন ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অলি আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
‎প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। সেই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এরপর বিগত সাতবারই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। দুটি দৃষ্টান্তই বিএনপি সরকারের আমলে।
‎বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন