বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ দাবি ভারতের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৩৩
প্রতীকী ছবি
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশের ওপর নতুন করে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে এ চার্জ দিতে হবে। এটি যুক্ত করা হলে বিদ্যুৎ আমদানির খরচ বাড়বে।
নতুন করে চুক্তি করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে একটি চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে বলা হয়, ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুতের ব্যাপারে নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চুক্তি করতে হবে। চুক্তি করতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
চিঠিতে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ–বাণিজ্যের জন্য প্রতি ইউনিটে প্রথমে ০.০১ ভারতীয় রুপি চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। পরে পিডিবির আবেদনের পর তা আধা পয়সা কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসএনএ চার্জ বিদ্যুতের কোনো দাম নয়; এটি আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ–বাণিজ্যের গ্রিড অপারেশন ও আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ। এতে খুব বেশি খরচ বাড়বে না। আর এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তি করার কারণে লেনদেন সহজ হয়ে যাবে। এরপর আর সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আলাদা করে বিল শোধের বিষয় থাকবে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ–বাণিজ্যে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ নিষ্পত্তি সহজ করতে ভারতের সিইআরসি এই এসএনএ ব্যবস্থা চালু করেছে। ভারত থেকে নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।
পিডিবি সূত্র বলছে, আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহে কোন সময়ে কত বিদ্যুৎ যাবে, তার শিডিউল করা, মিটার থেকে ব্যবহারের তথ্য নেওয়া, সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব মেলানো এবং গ্রিড পরিচালনার মতো কাজের খরচ মেটাতেই এই চার্জ নেওয়ার কথা বলেছে ভারত।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে মোট দুই হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।
এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট ও সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এসএনএ চার্জ বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে।
এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বিপিডিবির। বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে এই চার্জ সম্পৃক্ত রয়েছে। ফলে আলাদা করে চুক্তি করার দরকার নেই।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্যাসের সংকট, জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণে ভারতের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা দেখা দিয়েছে।
নতুন এ চুক্তি কার্যকর হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মূল বিদ্যুৎমূল্যের পাশাপাশি এসএনএ চার্জও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয়ের একটি অংশ হিসেবে যুক্ত হবে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

