বাণিজ্যমন্ত্রী-ত্রিবেদী বৈঠক
স্থলবন্দর ও সীমান্ত হাট চালুর আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৮
# দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজীকরণ ও সম্পসারণের আশা
# দুই দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে:বাণিজ্যমন্ত্রী
# অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক ঠিক থাকলে অন্যান্য সম্পর্কও এগোবে: ত্রিবেদী
বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে বৈঠক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দরগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কীভাবে ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সহজ ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সবার আগে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক দরকার। অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঠিক থাকলে দুই দেশের অন্যান্য সম্পর্কও ভালোভাবে এগিয়ে যাবে। দুই দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম উন্নয়ন চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করা সবার দায়িত্ব।
বৈঠকে দুই দেশের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাটগুলো পুনরায় চালু এবং স্থলপথে ভারত থেকে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনীতির বিষয়ে কিছু ইস্যু থাকবে। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু উন্নয়ন চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। সেজন্য উভয়ের উন্নয়নে আমরা কাজ করব। এটা আমাদের সবারই দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘সবার আগে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক দরকার। সেটি ঠিক থাকলে অন্যান্য সম্পর্কগুলোও ভালোভাবে এগিয়ে যাবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বৈঠকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এবং কীভাবে আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সহজ ও ভালো করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে অনেক বিষয় রয়েছে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি ফাংশনাল করা, বর্ডার হাটগুলো পুনরায় চালু করা এবং ল্যান্ড বর্ডার দিয়ে সুতা আমদানি-যেটা এখন প্রহিবিটেড-সেটা আবার পুনরায় চালু করার ব্যাপারে আমাদের নজরে এনেছেন।’
দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে আশা প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের উদ্যোগে এবং তার দায়িত্বকালে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, কয়েক দিন আগে ভারতের একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে দেখা করেছে। তারাও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণের জন্যও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি টাস্কফোর্স করার প্রস্তাব এসেছে।
তিনি বলেন, ‘এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে গতি আনা, ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এবং ক্ষেত্র খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটি চলতে থাকবে।’
দুই দেশের মধ্যে যৌথ উদ্যোগে পণ্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
তিনি বলেন, ‘দুই দেশের একটা জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রোডাকশনও দরকার। এখানকার গার্মেন্টস তো সবচেয়ে ভালো। আমরা জিপার সাপ্লাই করতে পারি, মেশিনারি সাপ্লাই করি, বোতাম সাপ্লাই করতে পারি। তাহলে কী-একটা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি হবে।’
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে গেলে কোনো শার্ট বা টি-শার্ট কিনে লেবেলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখলে তার খুব ভালো লাগে। বাংলাদেশকে প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে এত ভালো গার্মেন্টস খাত রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন খাতের যৌথ উদ্যোগের অনেক সুযোগ রয়েছে। মূলত দুই দেশ একসঙ্গে থাকলে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।
ভারতীয় হাই কমিশনার যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সফল। এই খাতে ভারত জিপার, মেশিনারি, বোতামসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা পোশাক দেখে তিনি গর্ব অনুভব করেন। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যেতে পারে।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ঘোচানোর জন্য পোড় খাওয়া রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

