সীমান্তে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হোক : ফেলানির বাবা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১৭:৪৮
সীমান্তে বিএসএফের হত্যার শিকার ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম বলেছেন, ‘আমি চাই, সীমান্তে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। সবাই মিলে রুখে দাঁড়ান। সীমান্তে যাতে আর কাউকে ঝুলিয়ে না মারে, গুলি করে হত্যা না করে, আমি সেটাই চাই। আমি ১৪ বছর ধরে কাঁদছি, বিচার পাইনি। এখন নতুন সরকার এসেছে, আশা করি, তারা বিচারের ব্যবস্থা করবে।’
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাঁড়াও জনগণ’, ‘ফেলানি থেকে স্বর্ণা, সীমান্ত হত্যা আর না’, ‘ঢাকায় এবার উঠল ডাক, বিএসএফ নিপাত যাক’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
ভারতের সাথে চোখে চোখ তুলে মোকাবিলা করতে হবে উল্লেখ করে নুর ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, আমার মেয়ে হত্যার বিচার যেন পাই। অমিয় ঘোষকে যেন শাস্তির আওতায় আনা হয়। সে যেভাবে ফেলানিকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে মেরেছে, তাকেও যেন সেভাবে মারা হয়।’
ফেলানি মৃত্যুর আগে পানি পায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে নির্মমভাবে গুলি করে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে বিএসএফ। বিএসএফ অমিয় ঘোষ আমার মেয়েকে মেরেছে। গুলি করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখছিল আমার সামনে। পানি পানি বলে চিল্লাচ্ছির আমার মেয়ে। পানি দেয়নি। পাঁচ ঘণ্টা ঝুলিয়ে রেখে ফেলানিকে হত্যা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে আমি অনেকবার আবেদন করেছি। কোনো বিচার পাইনি। খালি আমাকে আশ্বাস দিয়েই গেছে। এই স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা আমাদের এত চাপে রেখেছে যে, কারো সাথে কথা বলতেও দেয়নি।’
এমজে/এনআর/

