পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৬
ছবি: সংগৃহীত
‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ৯ জুলাই বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তরের নতুন ভবনের তৃতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান।
সকাল ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পারভেজ চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বক্তব্যে বলেন, অধিদপ্তর কর্তৃক এবছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হিসেবে স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ, শিশু-কিশোর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আয়োজন, বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন, পরিবেশ বিষয়ক প্রকল্প প্রস্তাব আহ্বান, পরিবেশ মেলায় অংশগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ স্টল নির্বাচন, পরিবেশ বিষয়ক সেমিনার আয়োজন, ঢাকা মহানগরীর ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সহায়তা প্রদান এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের নিয়ে সেমিনার আয়োজন করা হয়। এ সকল কর্মসূচি আয়োজনে নিয়োজিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। তিনি বলেন, আমাদের যেকোনো দিবস পালনের মূল লক্ষ্য হলো জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্যে প্রতি বছর একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়। এ বছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে Climate Action, যার বাংলা ভাবানুবাদ করা হয়েছে ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’। গত বছরের প্রতিপাদ্য ছিল প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে। এরকম প্রতিবছর একেকটা করে প্রতিপাদ্য থাকে, যার উপর ভিত্তি করে আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকি। দিবসটি উপলক্ষ্যে এ বছর শিশু-কিশোর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। প্রত্যেকটা অনুষ্ঠান আয়োজনে ফোকাস ছিল জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের বর্তমানে গৃহীত কার্যক্রম, যেন ভবিষ্যত প্রজন্মের মাঝে Adaptation এবং Resilience তৈরি করতে পারে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও পরিকল্পনায় Adaptation এবং Mitigation Measures সমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
পরে শিশু-কিশোর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, পরিবেশ বিষয়ক প্রকল্প প্রস্তাব প্রতিযোগিতা এবং পরিবেশ মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান/সংস্থাসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান অর্জনকারীদের মধ্যে পুরষ্কার প্রদান করা হয়। শিশু-কিশোর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় ১২ জন বিজয়ীদের মধ্যে সনদ, ক্রেস্ট, প্রাইজবন্ড ও জলরং প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান অর্জনকারী তিন জনের প্রত্যেককে তিন হাজার টাকার প্রাইজবন্ড এবং উত্তম স্থান অজর্নকারী নয় জনের প্রত্যেককে দুই হাজার টাকার প্রাইজবন্ড প্রদান করা হয়। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ অংশগ্রহণ করে তার মধ্যে বিজয়ী দল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং রানার্স আপ হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বিজয়ী দলকে ৪০ হাজার টাকা এবং রানার্স আপ দলকে ৩০ হাজার টাকার প্রাইজমানি, ক্রেস্ট এবং সনদ প্রদান করা হয়।
পরিবেশ বিষয়ক প্রকল্প প্রস্তাব প্রতিযোগিতায় ৮১টি আবেদন দাখিল করা হয়। যাচাই বাছাই শেষে তিন জনকে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয় এবং তাদের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মাঝে যথাক্রমে ৩০, ২৫ ও ২০ হাজার টাকা এবং সনদ প্রদান করা হয়। পরিবেশ মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান/সংস্থা সমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান অর্জনকারী সাত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান কে বিজয়ী করা হয় এবং তাদেরকে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
পুরস্কার প্রদান শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেন, টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তিনটি বিষয় জোরদার করতে হবে, তা হলো- পরিবেশগত সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি। একবিংশ শতাব্দীর টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিই হচ্ছে চালিকাশক্তি, যার মাধ্যমে সর্বনিম্ন কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি নিশ্চিত করতে হলে দূষণমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা, দারিদ্র বিমোচন এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।
বক্তব্যে তিনি আরও জানান দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের UNFCCC-এর আওতায় বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP) ২০২৩-৫০ প্রণয়ন করেছে এবং বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC 3.0) প্রণয়নপূর্বক তা UNFCCC-তে দাখিল করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার পাশাপাশি সরকার দেশের শিল্পদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রচলন ও ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করেছে। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে, মর্মে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন।
সবশেষে তিনি পুস্কারপ্রাপ্তদের সবাইকে ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
পুরষ্কার বিতরণ শেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

