সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ হতে পারে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ডেস্ক :
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২১
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু করা হবে। এতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কাজ করবে।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের প্রধান দুটি লক্ষ্য হলো- আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুহার কমিয়ে আনা। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সময়ে হাসপাতালগুলোতে শয্যা, স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের সংকট এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যাও চালু করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে প্রয়োজনে অন্যান্য শয্যা পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সম্ভাব্য সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে এ সময়ে অযৌক্তিকভাবে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানো যাবে না এবং হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত নির্ধারিত শয্যা রাখতে হবে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

