Logo

জাতীয়

খরচ বাড়ল আরো ২ মেট্রোরেলের

গাবতলী-দাসেরকান্দি মেট্রোরেল প্রকল্প পাস

মোট ১২ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৫

গাবতলী-দাসেরকান্দি মেট্রোরেল প্রকল্প পাস

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে আরেকটি মেট্রোরেল নির্মাণের প্রকল্প পাস করা হয়েছে। গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত এই মেট্রোলাইন হবে। এটি হলো ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫), সাউদার্ন রুট। নতুন এই প্রকল্পের খরচ হবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্প পাস করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) একনেক নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। আরো ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার।

একনেক সভায় আরো দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের খরচ বাড়ানো হয়েছে মোট এক লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। এই দুটি প্রকল্পে দ্বিতীয়বারের মতো খরচ বাড়িয়ে সংশোধন করা হলো। এখন ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের লাইন-৫-এর নর্দান রুটের খরচ দাঁড়াল ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-১) এক লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।

এদিন একনেকে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পসহ ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। 

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) বলেন, জাইকার ঋণের সুদের পরিমাণ এই মাস পরে তিন শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তাই জাপানের ঋণের মেট্রোর দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কারণ, আরও ছয় মাস গেলে সুদের হার সাড়ে তিন শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মেট্রোর খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজেরা মেট্রো তৈরি করার সক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। জাপান এই ব্যয়ের কমে তৈরি করতে পারবে না। কারিগরি কমিটি এই ব্যয় খতিয়ে দেখেছে।

কত টাকার প্রকল্প পাস: একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পের মধ্যে আছে, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন; নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু; বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ; বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন ও খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসনসহ অবকাঠামো নির্মাণ; খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন; বস্ত্র ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়ন; মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের প্রকল্প।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ এক লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে পাওয়া যাবে অবশিষ্ট ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প সাতটি এবং সংশোধিত প্রকল্প পাঁচটি।

সভায় সরকার ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে এবং দুটি চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পের সংশোধনও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছে।

প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল করিডোর নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতাল (অন্ডারগ্রাউন্ড) ট্র্যাক থাকবে।

সভায় এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের সংশোধিত প্রস্তাব বিবেচনা ও অনুমোদন করা হয়।

লাইন-৫ সাউদার্ন রুটের জন্য সরকার দেবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

২০১৯ সালে অনুমোদিত দুটি চলমান মেট্রো প্রকল্পের প্রাথমিক সম্মিলিত আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজর ৭৯৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বর্তমান সম্মিলিত সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা এক লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।

৩০ আগস্ট প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকের সুপারিশের পর, গত আগস্টে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবিত ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি ৯ লাখ টাকার তুলনায় এই সংশোধিত চিত্রটি ৯ হাজার ৭৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কম।

মূল লাইন নির্মাণ, ভূমি উন্নয়ন, ভবন, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং সরঞ্জাম সম্পর্কিত ব্যয় পুনরায় মূল্যায়নের পর ১৩ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠায় সংস্থাটি।

বিমানবন্দরকে কামলাপুরের সঙ্গে সংযুক্তকারী এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত একটি উড়াল শাখা বিশিষ্ট ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ এর ব্যয় ২০১৯ সালে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এই বৃদ্ধি ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৪৬ লাখ কোটি টাকা বা ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সরকারের অনুদান ১৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি ২৬ লাখ টাকায়। অন্যদিকে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ঋণ ১১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়।

সংশোধনে এই ব্যয়ের বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কোভিড মহামারীর সময় নকশা ও দরপত্র প্রস্তুত করতে বিলম্ব এবং দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল বাস্তবায়নে জটিলতাকে দায়ী করা হয়েছে।

বিস্তারিত নকশা প্রণয়নকালে স্টেশনগুলোর আকার বৃদ্ধি করা হয়, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ও ভেন্টিলেশন শ্যাফট স্থানান্তর করা হয়, রাজারবাগে তিনতলা বিশিষ্ট স্টেশন নির্মাণ এবং নির্মাণের সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য প্রায় ২০ কিলোমিটার বিকল্প রাস্তা (ডিটুর রোড) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৮৯ হাজর ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়, যা ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

সরকারের অনুদান ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি ১১ লাখ টাকায়, অন্যদিকে জাইকার ঋণ ১৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকায়।

হেমায়েতপুর-আমিনবাজার অংশটি উড়ালপথে হবে, আর আমিনবাজার-ভাটারা অংশটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে পাতালপথে যাবে। প্রকল্পটি মূলত ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ চালুর কথা থাকলেও, এটি এখন ২০৩২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমাপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সভায় অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প রয়েছে।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সরদার এম এ মুহিত, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন