Logo

জাতীয়

অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

আইইডিসিআরের কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধর

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৩

অ
আইইডিসিআরের কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধর

ছবি: সংগৃহীত

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির কার্যালয়ে ঢুকে তাকে মারধর করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেছেন, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

মারধর করার ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় আট থেকে নয়জন লোক তার কক্ষে ঢোকেন। তারা কাজী আহমেদকে চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন।

আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি।

আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।

বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাৎ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকিকে নিয়োগ দেয়। তিনি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।

কী দোষ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে নিজের অফিসে বৈঠক করে?

জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহা-পরিচালকের দায়িত্ব পান।

কাজী আহমেদকে মারধরের সময় তার কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ বলেন, যারা মারধর করেছেন, তাদের আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখিনি।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেন, আইইডিসিআরে নিজের কক্ষে পরিচালককে মারধর অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত হতে হবে, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।

ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় জিজ্ঞেস করার জন্য ড্যাবের কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এমন ঘটনার সতত্যা পেলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো। 

স্বাস্থ্য সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, আমি ঢাকার বাইরে থাকায় এখনো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। একটু খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি। আর কার্যালয়ে প্রবেশ করে এভাবে কাউকে হেনস্তা করা মোটেও উচিত হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন