ছবি : সংগৃহীত
গত এক বছরে দেশজুড়ে মোট ৩১০জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) ‘২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা : সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় তারা।
গত কয়েক বছরের আত্মহত্যার তথ্য তুলনা করে সংগঠনটি জানায়, ২০২২ সালে দেশে আত্মহত্যাকারী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫৩২ জন এবং ২০২৩ সালে ৫১৩ জন। আর ২০২৪ সালে আত্মহত্যাকারী মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩১০ জন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আত্মহত্যা সম্পর্কিত সংবাদ গণমাধ্যমে কম এসেছে বলেও দাবি তাদের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী বয়সভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১৩-১৯ বছরে বয়ঃসন্ধিকালের শুরু থেকে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালের মোট আত্মহত্যাকারী মানুষের প্রায় ৬৫.৭ শতাংশ এই বয়সসীমার।
এরপরই তালিকায় রয়েছেন ২০-২৫ বয়সসীমা যুবক-যুবতীরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতবছর এ বয়সের আত্মহত্যা করেন প্রায় ২৪ শতাংশ। শিশুদের মধ্যেও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা গেছে। ১-১২ বছর বয়সী শিশুর আত্মহত্যার তথ্য উঠে এসেছে, যা প্রায় ৭.৪ শতাংশ। সবচেয়ে কম রয়েছে ২৬-৩০ বছর বয়সসীমার মানুষ। এ বয়সের প্রবণতা ২.৯ শতাংশের কাছাকাছি।
২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যার প্রবণতা সব লিঙ্গের মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে, তবে নারীদের মধ্যে এটি তুলনামূলকভাবে বেশি। মোট ৩১০ জন আত্মহত্যা করেছেন, এর মধ্যে নারী মোট আত্মহত্যার প্রায় ৬১ শতাংশ। এদিকে পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হারও কম নয়; প্রায় ৩৮.৪ শতাংশ পুরুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তৃতীয় লিঙ্গ এবং ট্রান্সজেন্ডারদের মধ্যে ১ জন করে আত্মহত্যা করেছেন, যা মোট সংখ্যার যথক্রমে প্রায় ০.৩ শতাংশ এবং প্রায় ০.৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, এসএসসি বা সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। ২০২৪ সালে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৪৬.১ শতাংশ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী। এরপরই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান। এ হার ১৯.৪ শতাংশ। তাছাড়া, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।
আত্মহত্যার পন্থা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে বলা হয়, আত্মহত্যার ক্ষেত্রে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের ঘটনা সবচেয়ে বেশি, যা ৮৩.৫ শতাংশ আত্মহত্যার ক্ষেত্রে ঘটে। অন্যদিকে, বিষপানে আত্মহত্যার হার প্রায় ৮.৭ শতাংশ। ৪.৬ শতাংশ মানুষ অন্যান্য পদ্ধতিতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
এসআইবি/এটিআর

