ইজতেমার পাশে জমজমাট মেলা, নজর কাড়ছে ‘পেহেলওয়ান মিষ্টি’
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২০:৩২
ছবি : বাংলাদেশের খবর
তাবলীগ জামাতের বৃহৎ মিলনমেলা ‘বিশ্ব ইজতেমা’র পাশেই চলছে জমজমাট মেলা। মেলায় খাদ্রপণ্য, প্রসাধনী, তাবলীগে মেহনতকারীদের ব্যাগ, জুতা, মেসওয়াক, তসবিহসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ব্যবসায়ীরা।
মেলায় বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে পাকিস্তানি ‘পেহেলওয়ান মিষ্টি’র দোকানও।
ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর জেলা প্রশাসনে তত্বাবধানে ইজতেমার প্রধান ফটকের সমানেই চলছে এই মেলা।
ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ ফজর থেকে পাকিস্তানের মাওলানা খোরশেদ আহমদের বয়ানের মাধ্যমে ধারাবাহিক বয়ান শুরু হয়েছে। বয়ানে নিজেদের ঈমান-আমল বৃদ্ধি, পরকালের প্রস্তুতি, বিশ্বজুড়ে দ্বীন কায়েম এবং মুসলিমরা কীভাবে এক ও নেক থাকতে পারেন, সেসব বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
দুপুর ১টার দিকে তাবলীগ জামাতের মাওলানা জুবায়েরের অনুসারী সমন্বয়ক মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আজহারী বলেন, ‘সাদপন্থিদের রিউমার উপেক্ষা করে ৪১ জেলার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমায় উপস্থিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ইজতেমা চলছে। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে এবারের ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। এরপর ইজতেমায় জমায়েত মুসল্লিরা দ্বীনের দাওয়াত প্রচারে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়বেন।
ইজতেমার মেলায় আসা মুসল্লি জামিল আহমদ বলেন, ‘এই মেলায় এসেছি মেসওয়াক কিনতে। তবে এখানে তুলনামূলক দাম বেশি। তবে কিছু করারও নেই। বাধ্য হয়ে দেড়শ টাকায় একটা মিসওয়াক কিনেছি।’
নোয়াখালী থেকে আসা মঈন উদ্দিন বলেন, মেলায় যখন আসছিলাম তখন বেশ শীত ছিল। এখানে আসার পর গরম লাগবে। তাই পাতলা পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। এখনো দেখছি পছন্দ হলে একটা কিনব।
মেলায় রকমারি আতরের পসরা সাজিয়ে বসা দোকানি জানান, বাংলাদেশি ৩ মিলিগ্রামের একটি আতরের দাম ৬ হাজার টাকা। এ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হরেক রকম আতর পাওয়া যাচ্ছে তার দোকানে।
এদিকে, মেলায় গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী টি-শার্টের ওপর তাৎক্ষণিক ক্যালিওগ্রাফি প্রিন্ট করে দিচ্ছেন দোকানি নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, গত তিনদিন ধরেই তারা এই মেলায় আছেন। গ্রাহকেরও বেশ সাড়াও পাচ্ছেন। ইসলামিক বিভিন্ন ক্যালিওগ্রাফি, মসজিদুল আকসা ও হামাসের মুখপাত্র আবু ওবায়দার ছবি সংবলিত প্রিন্টেড টি-শার্টের বেশ বিক্রি লক্ষ করা গেছে। প্রতিটি টিশার্ট বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে।
এবারের মেলায় ইতোমধ্যে দর্শনার্থী ও মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে পাকিস্তানের ‘পেহেলওয়ান মিষ্টি’। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানের পাশে মানুষের ভিড় লেগে থাকে এই দোকানে। হাত বাড়ালেই দোকানের বিক্রেতারা মুসল্লিদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তিলের তৈরি সুস্বাদু এই মিষ্টি।
মিষ্টি খেয়েছের এমন একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সৌরভ বলেন, ‘এক কথায় সত্যি অসাধারণ।’
দোকানি রুমন জানান, অনেকে একাধিকবার আসছে। ছোট্ট শিশুরাও মিষ্টি খেতে দোকান ভিড় করছে। বারবার দেওয়ার পরও তারা আবারও চাচ্ছে।
এদিকে দোকানের সামনে হিন্দি/উর্দু মিশেল কথা বলা স্কুল শিক্ষার্থী ফাহিম জানিয়েছে, এখানে পাকিস্তানি ভাষায় কথা বললে মিষ্টি দোকানদার খুশি হয়ে মিষ্টি দিচ্ছে। তাই আমরা হিন্দি বলছি। মিষ্টি খেয়েছ? জানতে চাইলে সে বলেছে, হ্যা, ভাইয়া, একটু আগে কয়েকজন পুলিশও খেয়ে গিয়েছে। আপনি সাংবাদিক পরিচয় দিলে আপনাকেও দেবে।’
ব্যবসা কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে দোকানি বলেন, ‘মোটামুটি ভালো।’ প্রতিকেজি মিষ্টির দাম কত জানতে চাইলে দোকানি জানান, মিষ্টির ধরন ও আকার ভেদে প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ১২ শ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে।
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন সকালে বয়ান করেন, ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা, ছাত্রদের উদ্দেশে নামাজের মিম্বরে বয়ান করেন মাওলানা আকবর শরিফ (ভারত), এ ছাড়া বাদ জোহর মাওলানা ইসমাঈল গোদরা (ভারত), বাদ আছর মাওলানা জুহায়ের (ভারত), বাদ মাগরিব মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) বাদ ফজর মাওলানা আব্দুর রহমান (ভারত) নসিহত পেশ করবেন। এরপর আখেরি মোনাজাতের পূর্বে নসিহতমূলক বক্তব্য দেবেন মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের।
উল্লেখ্য, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা। এ ধাপে অংশ নেবেন ২২ জেলা ও ঢাকার বাকি অংশের মুসল্লিরা। দুই ধাপের আখেরি মোনাজাত হবে যথাক্রমে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি। মাঝে আট দিনের বিরতি দিয়ে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভি অনুসারীদের ইজতেমা পর্ব।
এএইচএস/এমজে

