আ.লীগ নেতা হত্যা মামলায় খান পরিবারের ৪ ভাই খালাস
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৭:০৮
ছবি : বাংলাদেশের খবর
আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানাসহ চার ভাইকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এ মামলায় কবির উদ্দিন ও মোহাম্মদ আলী নামের দুইজনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।
রোববার (ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
খালাস পাওয়া অন্যরা হলেন- সাবেক এমপি রানার ভাই সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ছোট ভাই জাহিদুর রহমান খান কাকন ও সানিয়াত রহমান খান বাপ্পা।
রায় ঘোষণার সময় সহিদুর রহমান খান মুক্তি উপস্থিত থাকলেও তার ভাইসহ বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় মোট ১৪ জন আসামি ছিল। এরমধ্যে দুইজন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী নাসির উদ্দিন খান বলেন, এ মামলায় ২৭ জনের সাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করেছিল। আসামিদের নাম কেউ প্রমাণ করতে পারেনি যে তারা এ ঘটনার সাথে জড়িত ছিল। যখন ঘটনা ঘটেছে, তখন সহিদুর রহমান খান মুক্তি সস্ত্রীক ভারতে ছিলেন চিকিৎসার জন্য। তার ভাই কাকন মালশিয়াতে ছিল। সাবেক এমপি রানা ঘাটাইলে একটি অনুষ্ঠানে ছিল এবং তাদের ছোট ভাই বাপ্পা ঢাকায় ছাত্রলীগের অফিসে ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছিল। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পেয়েছি।
টাঙ্গাইলের রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী এপিপি সাইদুর রহমান স্বপন বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ মামলার আসামি সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে স্বাক্ষ্য প্রমাণ না হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত।
এ মামলায় বাদীর সাথে আলোচনা করে আপিলের বিষয়ে প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
২০১৪ সালের আগস্টে এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামক দুইজনকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তারা আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে আওয়ামী দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার নাম বের হয়ে আসে।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াহেদ, আবদুল খালেক ও সনি আদালতে জবানবন্দি দেন। এরপর চার ভাই আত্মগোপনে চলে যান। আমানুর রাহমান খান রানা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তিন বছর হাজতে থাকার পর জামিন লাভ করেন।
রেজাউল করিম/এমবি

