সমাধান হয়নি, সোমবার উপদেষ্টার সঙ্গে ফের বৈঠক বিডিআরের
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:৩৬
চাকরিতে পুনর্বহালসহ ৮ দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকে সেখানে পাননি চাকরিচ্যুত বিডিআরের সদস্যরা। পরে তাদের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি সংশ্লিষ্ট সচিবের সঙ্গে বৈঠ্ক করেন, কিন্তু তার সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সমাধানে পৌঁছতে পারেনি দুই পক্ষ। এজন্য আগামী সোমবার ফের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তারা আসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘোষণা দিয়ে সচিবালয় সড়ক ত্যাগ করেন চাকরি হারানো আন্দোলনরত বিডিআরের সদস্যরা। তারা এখন শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান করছেন।
এর আগে, মঙ্গলবার শহীদ মিনারে তারা ঘোষণা দেন, বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ১২টার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসলে কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন তারা। সেই ঘোষণা অনুযায়ী সরকারের সিদ্ধান্ত না পেয়ে আজ ১২টার পর সচিবালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন তারা। এরপরই সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করে শিক্ষাভবনের সামনে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বিডিআর সদস্যরা। তবে সেই বাধা উপেক্ষা করেই শুরুতে সচিবালয়ের রাস্তায় বসে পড়েন তারা। পরে সেখান থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মাহিন সরকারের নেতৃত্বে সচিবালয়ে প্রবেশ করে তাদের একটি প্রতিনিধি দল।
বিডিআর কল্যাণ পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত আন্দোলনকারীদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হচ্ছে-
১. পিলখানার ভেতরে ও বাইরে ১৮টি বিশেষ আদালত ও অধিনায়কের সামারি কোর্ট গঠন করে যেসব বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
২. এরই মধ্যে হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত এবং সাজা শেষ হওয়া কারাবন্দি বিডিআর সদস্যদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। এ ছাড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিস্ফোরক মামলা বাতিল করতে হবে।
৩. গঠিত কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত ব্যতীত শব্দ এবং কার্যপরিধি ২ এর (ঙ) নং ধারা বাদ দিতে হবে। একই সঙ্গে স্বাধীন তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে অন্যায়ভাবে দণ্ডিত নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের মুক্তি দিতে হবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদঘাটন, মূল ষড়যন্ত্রকারী, হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
৪. পিলখানায় শহীদ ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, ১০ জন বিডিআর সদস্যসহ সর্বমোট ৭৪ জনের হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কারাগারে মারা যাওয়া সব বিডিআর সদস্যের মৃত্যুর সঠিক কারণ উন্মোচন করতে হবে। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকলে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
৫. স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ধারণকারী বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনতে হবে।
৬. পিলখানার হত্যাকাণ্ডে সব শহীদের স্মরণে জাতীয় দিবস ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে শহীদদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এনএমএম/বিএইচ

