Logo

জাতীয়

তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শেষ

নির্বাচনে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগের নির্দেশ

Icon

তরিকুল ইসলাম সুমন

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:০৫

অ
নির্বাচনে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগের নির্দেশ

জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির তিন দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হয়েছে। সব চাওয়া যে পূর্ণ হবে এমনটা আশা করেন না অনেক জেলা প্রশাসক। তবে দেশের বর্তমান পরিবর্তী পরিস্থিতিতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে থেকে কিছু কিছু দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা নিয়ে যান তারা। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চাপ বা প্রভাবমুক্ত থেকে নির্ভয়ে কাজ করারও আশ্বাস দিয়েছেন উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রধানরা। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনে ডিসিদের আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এ জন্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের সামনে নিয়ে আসা উচিত। স্থানীয় সরকার, জাতীয় নির্বাচন কোনটা আগে হওয়ার সম্ভাবনা। তিনি বলেন, এটা একটা সমস্যা, আমাদের অফিসাররা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করছেন। তারা প্রতিনিয়তই বলছেন প্রশাসক বা নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধি দেন। বিভাগীয় কমিশনারের সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব আর জেলা প্রশাসকদের উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একজনকে যখন দুই-তিনটা দায়িত্ব পালন করতে হয়, তখন তিনি কোনো দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারেন না। সেই জায়গা থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আসা উচিত। ডিসিরা কি স্থানীয় সরকার নির্বাচন চাচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ সজীব বলেন, তারা সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে চান না, কারণ নিজেদের দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছে। প্রত্যেক বিভাগীয় কমিশনার কোনো না কোনো সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে আছেন। সে জায়গা থেকে তারা জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে আমাদের জানিয়েছেন। 

আইন ও বিবেক অনুযায়ী জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ডিসি সম্মেলন আমার জন্য একটা নতুন অভিজ্ঞতা। আমার কাছে মনে হয় এটা খুব জরুরি ছিল। ওনারা মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন দেখেন, বাস্তবায়নে কী কী সমস্যা আছে ওনাদের থেকে কেউ ভালো জানেন না। ডিসিরা আমাদের বললেন, যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তাদের যখন ধরা হয়, তখন দেখা যাচ্ছে তাড়াতাড়ি জামিন পেয়ে যাচ্ছেন। ডিসি অফিসগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে রয়েছে স্থান-সংকুলানের সমস্যা। সেটার সমাধানের জন্য কি করা যায়, সেই বিষয়ে কথা বলেছি। 

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে আমরা তাদের একটি অনুরোধ করেছি-যারা এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার পর ছাত্ররা কয়েক মাস সময় পায়। 

ওই সময়টাতে ওনারা যেন তাদের টিটিসিতে নিয়ে আসেন, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা বলেন, 'ওনারা (ডিসি) আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। ওনারা বলেছেন বিদেশে যারা যেতে চায়, তাদের সবার যেন ডাটাবেজ করা হয়। শুধু প্রশিক্ষণ যারা নিয়েছেন তাদের না। ওনারা যেটি বলেছেন সেটি আমরা সত্যি ভাবছি। যারা বিদেশে যেতে চায় তাদের ডাটাবেজ করার পদক্ষেপ নিয়েছি, অচিরেই কাজ শুরু হবে। 

তিনি আরো বলেন, আইনে যা আছে, নীতিমালায় যা আছে, সেটা মেনে চললে জনগণের সেবা আর কল্যাণ দেওয়া ছাড়া ওনাদের আর কোনো কাজই নেই। সুতরাং আমাদের শুধু একটা কথাই যে আপনি আইন অনুযায়ী চলেন, আপনি আপনার বিবেক মতো চলেন। তাদের যে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সেটা আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে। 

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, 'আমরা ডিসিদের বলেছি বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ইস্যুতে, বিভিন্ন অ্যাকশনে আদালত যেসব রায় দিয়েছেন এই রায়গুলো আপনারা একটু পর্যালোচনা করবেন। প্রয়োজন হলে একজন গবেষক অফিসার রাখেন। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনসংগতভাবে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যা করা সম্ভব, সেটা করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।' 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরবর্তী নির্বাচনে ডিসিরা (জেলা প্রশাসকরা) নির্ভয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তাদের ওপর নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব থাকবে না। এবারের নির্বাচন একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে হবে। কাজেই এবার ডিসিদের দলীয় তকমা থাকার সুযোগ নেই। এরপরও কোনো ডিসির ব্যাপারে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো আপত্তি থাকলে সেটি আমাদের জানালে আমরা যৌক্তিক হলে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেব। তবে এবারের নির্বাচনে ডিসিরা নির্ভয়ে এবং নির্ভারভাবে কাজ করতে পারবেন। কারণ, নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার জন্য কোনো দলের পক্ষ থেকে তাদের প্রভাবিত করার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ না হলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বাড়বে। এখন মায়ের দুধে এবং শিশুদের মস্তিষ্কে পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। সরকার সফল নাকি ব্যর্থ সেটি ভাবার আগে বিবেচনা করা উচিত যে, পলিথিনের ফলে আমার কতটুক ক্ষতি হচ্ছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জেলে ও খামারিরা একশ্রেণির দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে আছেন। বিশেষ করে জেলেরা। আমরা জেলে ও গবাদিপশু পালনকারীদের কৃষি ঋণ সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। জাল যার জলা তার এই নীতি অনুসরণ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সরকারি জলমহাল ইজারা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসকদের। দেশের জলমহলগুলো অমৎস্যজীবীরা ইজারা পাবে সেটা হবে না, প্রকৃত মৎস্যজীবী যারা তারা পেলে উপকৃত হবেন। এসব ইজারা বিষয়ে ডিসিদের বড় ভূমিকা থাকে, আমরা নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন সেটা ঠিকভাবে করেন। তিনি বলেন, মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ অভিযান এবং অবৈধ জাল ও ফিশিং গিয়ারের ব্যবহার বন্ধে অভিযান জোরদার করার বিষয়ে বলা হয়েছে। পতিত জলাশয় মাছ চাষের আওতায় আনা, হাওরাঞ্চলের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মৎস্যজীবীদের তালিকা হালনাগাদ করে প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া তাদের বলা হয়েছে, সরকার সুলভমূল্যে রমজানে যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তারা (ডিসি) নিজ নিজ জেলায় এ ব্যবস্থা করবে। রমজানে সুলভমূল্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক মাংস, ডিম ও দুধ বিক্রি কার্যক্রম করতে হবে। কৃষি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটি ও জলজ উৎস থেকে খাদ্য গ্রহণকারী গবাদিপশু-পাখি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় পরিবেশবান্ধব সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণে নজরদারি করতে বলা হয়েছে। বন্যা বা দুর্যোগে গবাদিপশুর আশ্রয়ের জন্য পর্যাপ্ত গো-মাঠ, উঁচু মাটির ঢিবি ও টিলা স্থাপনের জন্য ডিসিদের বলা হয়েছে। 

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, সিভিল মিলিটারি কোঅপারেশন কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকরা প্রশ্ন করেছিলেন। সিভিল প্রশাসনের অফিসাররা ডিভিশন পর্যায়ে যে ওরিয়েন্টেশন করেন, এই ওরিয়েন্টেশনগুলা করা সম্ভব কিনা? যাতে সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক বাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর বোঝাপড়া আরও বাড়ানো যায়। একটা প্রশ্ন ছিল আমাদের যুবসমাজের জন্য একটি ইউনিভার্সেল মিলিটারি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় কিনা তা নিয়ে। যেখানে যুবসমাজের যারা আছেন তারা মিলিটারি ট্রেনিং পেতে পারেন এবং দেশের প্রতিরক্ষায় তারা অংশ নিতে পারেন। তারা নিজ নিজ জেলায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে চান। রিমোট জায়গায় বা চরাঞ্চলে যেখানে হয়তো বেশি পরিমাণ ফোর্স দরকার বা লজিস্টিক নিয়ে যেতে হবে, এই ধরনের এলাকায় তারা অভিযান পরিচালনা করতে চান। আমি আমার সমাপনী বক্তব্যে বলেছি জেলা প্রশাসক হিসেবে আগামী দিনে কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। রমজান মাসে সরকারকে ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য তাদের (ডিসি) নিজ জেলায় যেন কম রাখতে পারেন সে জন্য চেষ্টা করতে হবে। বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, সেটা যাতে মোকাবিলা করা যায়, কৃষক যাতে সেচের উপকরণ এবং কৃষি উপকরণ সময়মতো পান সেসব বিষয় নিয়ে বলেছি। আমি বলেছি, সাধারণ মানুষের তিনটি প্রত্যাশা এবং এই প্রত্যাশাগুলো আকাশচুম্বী নয়। যুব সমাজের সর্বজনীন সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, আমাদের যে চিফ অব জেনারেল স্টাফ উনি বলেছেন- আমাদের আনসার-ভিডিপির মাধ্যমে প্রত্যেক উপজেলায় প্রত্যেক ইউনিয়নে একটা করে কোম্পানি অলরেডি ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে

এটাকে আরও ব্যাপক আকারে করা যায় কিনা সে বিষয়ে একজন ডিসি অনুরোধ করেছিলেন। এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার, আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে। আমরা চিন্তা করতেই পারি এবং আমরা জানিয়েছি এটা যদি সরকার নির্দেশনা দেয়, তাহলে জনগণের সিদ্ধান্তই সরকারের সিদ্ধান্ত। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আরও বলেন, নরসিংদীর ছয়টি ইউনিয়ন ও চরাঞ্চল দুর্গম। সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেসব জায়গায় স্পেশাল অপারেশন দরকার। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব। আর নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব হচ্ছে আইনের শাসন, নীতির বাস্তবায়ন, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শাসনকে সহজতর করা। কাজের ধরন আলাদা হলেও বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের কাজ সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। কোনোভাবেই তা বিরোধপূর্ণ হওয়া উচিত নয়। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের আহ্বান জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জেলা প্রশাসকদের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে ইসির যতটুকু ক্ষমতা আছে তার সর্বোচ্চটা প্রয়োগ করবে। একইসাথে সারা দেশের জেলা প্রশাসকরা যাতে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করেন সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা ছেলেবেলায় পড়েছি জেলা প্রশাসকরা হলো-সরকারের চোখ, হাত এবং মুখ। এই ডিসিদের চোখ দিয়ে সরকার দেখে, মুখ দিয়ে সরকার বলে এবং হাত দিয়ে সরকার কাজ করে। কিন্তু এই চোখ, মুখ এবং হাত আজ নষ্ট হয়ে গেছে।

বিকেপি/এমএইচএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন