Logo

মতামত

জনগণের ভোটাধিকার কি সত্যিই নিরাপদ?

Icon

পুলক রাজ

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৪

জনগণের ভোটাধিকার কি সত্যিই নিরাপদ?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন কোনো সাধারণ প্রশাসনিক আয়োজন নয়। এটি জনগণের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে এক গভীর প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে— এই নির্বাচন কি সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারবে?

রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস, সংলাপহীনতা এবং সংঘাতমুখী কর্মসূচি নির্বাচন পরিবেশকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে। ক্ষমতার পালাবদলের হিসাব-নিকাশে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব সমস্যাগুলো যেন হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করার অধিকারই একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক অর্জন।

জনগণ আজ খুব স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। তারা চায় এমন একটি পরিবেশ, যেখানে ভোটকেন্দ্র হবে নিরাপদ, প্রশাসন হবে নিরপেক্ষ এবং কোনো দল বা গোষ্ঠীর প্রভাব ছাড়া জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে। এই প্রত্যাশা পূরণ করা কোনো দলের অনুগ্রহ নয়। এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

জনগণ আশা করে, কমিশন কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা না গেলে ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যার দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

এবারের নির্বাচনী হালচালে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তারা আর কেবল দর্শক নয়। তারা প্রশ্ন করছে, বিশ্লেষণ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়ভাবে মত প্রকাশ করছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষার মান, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা— এই বিষয়গুলো তাদের কাছে রাজনৈতিক স্লোগানের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়। এটি জনগণের উৎসব। এই উৎসব যদি ভয়, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ছায়ায় ঢাকা পড়ে, তাহলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন সময় এসেছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিণত আচরণ দেখানোর, সংঘাতের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে সংলাপ ও সমঝোতার পথে হাঁটার।

কারণ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে জাতির আস্থা ফিরিয়ে আনতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং উন্নয়নের পথ সুগম করতে। সেই পথের কেন্দ্রে রয়েছে জনগণের অবাধ ভোটাধিকার, যা কোনো অবস্থাতেই ক্ষুণ্ণ হওয়ার সুযোগ নেই।

লেখক : চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংবাদিক

এমএইচএস 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

নির্বাচন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর