Logo

মতামত

জুলাই সনদ : জাতীয় ঐকমত্য নাকি রাজনৈতিক বিভাজনের সূত্র?

মেহেদী হাসান শোয়েব

মেহেদী হাসান শোয়েব

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫০

জুলাই সনদ : জাতীয় ঐকমত্য নাকি রাজনৈতিক বিভাজনের সূত্র?

গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পটপরিবর্তনের রক্তঝরা পথ পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন এক বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমান্তরালে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে একে ‘নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যান্ডেট’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও, রাজনৈতিক ও আইনি মহলে এটি নিয়ে রয়েছে নানামুখী বিতর্ক। এই প্রক্রিয়াটি কি সত্যিই একটি টেকসই রাষ্ট্রকাঠামো নিশ্চিত করতে পারবে, নাকি এটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের সূচনা করবে— সেই প্রশ্নটিই এখন প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যমান বাস্তবতায় একদিকে যেমন রাষ্ট্র সংস্কারের এক ধরনের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা পরিলক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত স্বার্থ ও বর্তমান সংবিধানের আইনি সুরক্ষা কবচগুলোও সমানভাবে সক্রিয়। এই প্রেক্ষাপটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর গভীরে নিহিত রয়েছে পরবর্তী সংসদের সার্বভৌমত্ব বনাম সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর এক অমীমাংসিত আইনি দ্বন্দ্ব। এই নিবন্ধে আমরা সেই আইনি বাস্তবতা, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং বিচারিক জটিলতাগুলো নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণের চেষ্টা করব।

সংস্কারের পরিকল্পনা ও সরকারের কৌশলগত ঝুঁকি
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে যে, জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় একটি আমূল কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে। অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন মনে করে, বিগত ১৫ বছরে সংবিধানে যে ‘সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র’ শিকড় গেঁড়েছে, তা কেবল একটি নির্বাচিত সংসদের সাধারণ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সরকারের মূল যুক্তি হলো— দলীয় লেজুড়বৃত্তি এবং ক্ষমতার মোহের কারণে নির্বাচিত সংসদ অনেক সময় নিজ স্বার্থেই কঠোর সংস্কার এড়িয়ে যায়। তাই জনগণের সরাসরি মতামতের মাধ্যমে বা গণভোটের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হবু সরকারের ওপর একটি 'নৈতিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা' তৈরি করতে চাইছে অন্তর্বর্তী সরকার।

তবে এই পরিকল্পনার বিপরীতে সরকারের কিছু কৌশলগত দায়ভার ও ঝুঁকির দিক বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলছে।

ক. রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির সীমাবদ্ধতা : সরকার এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সব পক্ষকে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছে কি না— তা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের ১৪ দলীয় জোটকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক ও আইনিভাবে এটি একটি বড় প্রশ্ন যে, দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক শক্তির মতামত ছাড়া তৈরি করা সনদ কতটুকু ‘জাতীয়’ হতে পারবে? অন্যদিকে, সিপিবির মতো আদর্শিক বাম দলগুলো সনদের ভাষা এবং কিছু মূলনীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

খ. ১৮০ দিনের সময়সীমা ও তড়িঘড়ির প্রশ্ন : সংস্কার আদেশে নির্বাচিত হওয়ার পর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে এই বিশাল ও স্পর্শকাতর সংবিধান সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার যে কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিতর্ক ছাড়া এই ‘তড়িঘড়ি’ কোনো ‘বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা’ বা ‘একতরফা সংস্কার’ চাপিয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারে।

গ. দায়বদ্ধতার সংকট : বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কি নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে নিজেদের কৃত কাজের একটি ‘স্থায়ী আইনি সিলমোহর’ নিশ্চিত করতে চাইছে? এই প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা আনবে, নাকি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক ও আইনি জট তৈরি করবে— সেই প্রশ্নটি অমীমাংসিতই রয়ে গেছে এখনো।

গণভোটের আইনি সীমাবদ্ধতা : যদি সংসদ রায় অগ্রাহ্য করে?
বাংলাদেশের সংবিধানে বর্তমানে গণভোটের কোনো বিধান নেই। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ২০১১ সালে ১৯৭২ সালের সংবিধানের গণভোটের বিধানটি বাতিল করা হয়েছিল। এমতাবস্থায় একটি ‘আদেশ’ বা ‘অধ্যাদেশ’-এর মাধ্যমে আয়োজিত গণভোটের আইনি ভিত্তি অত্যন্ত নড়বড়ে।

আন্তর্জাতিক নজির বলে, গণভোট অনেক সময় আইনি বাধ্যবাধকতার চেয়ে রাজনৈতিক বৈধতার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বাংলাদেশে যদি গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হয় এবং পরবর্তী সংসদ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বা রাজনৈতিক অনীহার কারণে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে এক ভয়াবহ সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে কি জনগণের রায় আদালতের রায়ের চেয়ে বড় হবে? নাকি রাজপথ আবার উত্তপ্ত হবে? এই অমীমাংসিত প্রশ্নটিই জুলাই সনদের সবচেয়ে বড় আইনি ঝুঁকি।

সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ 
এই সংস্কার প্রক্রিয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ। এটি মূলত সংবিধানের সুরক্ষাকবচ, যা পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া বেশ জটিল।

ক. দুই-তৃতীয়াংশের বাধ্যবাধকতা : ১৪২ (১) (ক) (ii) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধানের যেকোনো ধারা সংশোধন বা পরিবর্তনের জন্য সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোট বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে কমপক্ষে ২১০টি ভোটের সমর্থন প্রয়োজন।

খ. বাস্তবায়ন আদেশের সংঘাত : বিপরীতে, সরকারের ‘বাস্তবায়ন আদেশ’ বলছে সংস্কার পরিষদের সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভোটেই প্রস্তাবগুলো পাস হবে। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আদেশ বা অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলযোগ্য। ফলে গণভোটের রায় আইনি সুরক্ষার অভাবে কেবল একটি ‘রাজনৈতিক ইশতেহার’ হিসেবে রয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান : সংস্কার বনাম ক্ষমতার সমীকরণ
জুলাই সনদ প্রশ্নে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্পষ্টত বহুধা বিভক্ত। সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মৌখিক ঐক্য থাকলেও, সেই সংস্কারের ‘পদ্ধতি’ ও ‘আইনি ভিত্তি’ নিয়ে রয়েছে নানা মেরুকরণ।

ক. বিএনপির ‘সতর্ক সমর্থন’ ও ভিন্নমত : বিএনপি গত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও তারা ৮টি মৌলিক বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মতে, তারা সংস্কারের বিরোধী নয়, তবে সেই সংস্কার হতে হবে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। বিশেষ করে আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে তাদের প্রবল আপত্তি রয়েছে। বিএনপি মনে করে, এটি বড় দলগুলোর সক্ষমতাকে দুর্বল করে এবং একটি ‘ঝুলন্ত সংসদ’ বা অনিশ্চিত কোয়ালিশন সরকারের ঝুঁকি তৈরি করে।

খ. জামায়াতে ইসলামীর জোরালো অবস্থান : জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটি শুরু থেকেই জুলাই সনদের কট্টর সমর্থক। তারা মনে করে, নির্বাচিত সংসদের ওপর পুরোপুরি ভরসা না করে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নিয়ে নিলে সংস্কারগুলো নস্যাৎ করা যে কোনো দলের জন্যই রাজনৈতিকভাবে কঠিন হবে। দলটির কর্মীরা সারাদেশে সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।

গ. জাতীয় পার্টির ‘না’ ভোটের প্রচারণা ও চ্যালেঞ্জ : জাতীয় পার্টি এই প্রক্রিয়ায় সোচ্চার বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এই গণভোটকে ‘বেআইনি ও অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি হলো, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনো নির্বাচিত সাংবিধানিক শক্তি নয়, তাই মৌলিক সংবিধান পরিবর্তনের অধিকার তাদের নেই। দলটি বর্তমানে ‘না’ ভোটের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে।

ঘ. বাম দল ও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি : সিপিবি ও বাসদ-এর মতো বাম দলগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি। অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের এই পুরো প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ বর্তমানে কোণঠাসা হলেও রাষ্ট্রযন্ত্রে তাদের দীর্ঘদিনের প্রভাব এবং তৃণমূল পর্যায়ে সমর্থকদের উপস্থিতি এই সনদের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতার জন্য একটি প্রচ্ছন্ন চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগের এই বর্তমান অনুপস্থিতি বা মতামত দেওয়ার সুযোগ না থাকা ভবিষ্যতে সনদের বিরুদ্ধে আইনি বা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিলে তা অপ্রত্যাশিত হবে না।

বিচার বিভাগের সম্ভাব্য ভূমিকা : সাংবিধানিক সংকটের ফয়সালা
যদি সংসদ ও গণভোটের রায়ের মধ্যে সংঘাত বাঁধে, তবে চূড়ান্ত ফয়সালা আসবে বিচার বিভাগ থেকে। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টকে এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। আদালত কি ‘বেসিক স্ট্রাকচার ডকট্রিন’ বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষার নীতি অনুসরণ করবে? নাকি ‘পলিটিক্যাল কোয়েশ্চেন থিওরি’ অনুযায়ী একে রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে পাশ কাটিয়ে যাবে? অর্থাৎ, আদালতকে তখন ঠিক করতে হবে— সে কি লিখিত সংবিধান রক্ষা করবে, নাকি জনগণের সরাসরি রায়কে অগ্রাধিকার দেবে, তা নিয়ে দ্বান্দ্বিক অবস্থায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে যথেষ্টই।

নাগরিক প্রত্যাশা ও ১৮০ দিনের সীমাবদ্ধতা
জুলাই পটপরিবর্তনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার অন্যতম প্রধান দাবি ছিল দলীয়করণের অবসান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সনদের কিছু প্রস্তাব এই আকাঙ্ক্ষার সাথে মিললেও, অনেক নাগরিক ভয় পাচ্ছেন যে এটি হয়তো কেবল উচ্চপর্যায়ের কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিরসনে এর রূপরেখা অস্পষ্ট।

পাশাপাশি ১৮০ দিনের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন আছে। একটি প্রাজ্ঞ বিকল্প হতে পারত স্বল্পমেয়াদী সংস্কার (নির্বাচনকালীন সরকার ও কমিশন গঠন) এবং দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারগুলো পরবর্তী সংসদের জন্য রাখা। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থার সংকট ও দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই মূলত একটি টেকসই সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রধান অন্তরায়। ফলে সরকার একটি ‘সবই বা কিছুই না’ পদ্ধতিতে এগোনোর কৌশল নিয়েছে। কিন্তু তা আদৌ কোনো কার্যকর সমাধানের পথ নিশ্চিত করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সংস্কার’ ইস্যুটি এখন একটি জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাবনা সামনে আনলেও এর আইনি ভিত্তি এবং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির অভাব নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা ব্যালট পেপারে হয়তো একটি অবস্থান জানাবেন, কিন্তু সেই রায় কি কোনো টেকসই সমাধানের পথ দেখাবে, নাকি রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে এক ত্রিভুজ সংকটের সূচনা করবে— সেই প্রশ্নটিই এখন প্রধান। এই গণভোটের আইনি বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো যদি অমীমাংসিত থেকে যায়, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি ভবিষ্যতে একটি দীর্ঘমেয়াদী বিচারিক অচলাবস্থার দিকে মোড় নিতে পারে।

রাষ্ট্রের গতিপথ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, তা কেবল এই গণভোটের ফলাফলের ওপর নয়, বরং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল ও সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। ১২ ফেব্রুয়ারির এই ম্যান্ডেট যদি শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতায় অকার্যকর হয়ে পড়ে, তবে তা গত দেড় বছর ধরে চলমান রাজনৈতিক পুনর্গঠনের আলোচনাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে। কারণ, যখন কোনো বিশেষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে বিদ্যমান সংবিধানের সরাসরি সংঘাত বাঁধে, তখন তা কেবল প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে না, বরং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

সময়ই বলে দেবে— এই প্রক্রিয়াটি কি দেশের রাজনীতিতে কোনো গুণগত পরিবর্তন আনতে পারবে, নাকি আইনি ও রাজনৈতিক অনমনীয়তার কারণে জাতি আবার সেই পুরনো শাসনতান্ত্রিক বৃত্তেই আবর্তিত হবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই ঘটনাপ্রবাহ কেবল একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সাংবিধানিক কাঠামোর সহনশীলতার এক কঠিন পরীক্ষা।

ব্যালট পেপারে হয়তো একটি রায় মিলবে, কিন্তু সেই রায়ের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার পথটি এখনো যথেষ্ট কণ্টকাকীর্ণ।

মেহেদী হাসান শোয়েব : লেখক, প্রকাশক, বিতার্কিক; শিফট ইনচার্জ, বাংলাদেশের খবর

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

গণভোট জুলাই সনদ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর