Logo

মতামত

টেশিসের ৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ, এলসি, অংশীদারত্ব ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

দোয়েলের ডানা ভাঙল কোথায়?

Icon

তাছনিম আদনান

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১৭

অ
দোয়েলের ডানা ভাঙল কোথায়?

দেশে স্বল্পমূল্যে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের হাতে ল্যাপটপ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ‘দোয়েল’ ল্যাপটপ প্রকল্প। দেশেই কম্পিউটার উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর প্রত্যাশা ছিল এই উদ্যোগকে ঘিরে। কিন্তু প্রকল্পটির বিনিয়োগ, পণ্য আমদানি, ঋণপত্র (এলসি), কারিগরি সহায়তা ও জনবল নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন নথিতে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি এবং প্রকল্পের আর্থিক জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টেলিফোন শিল্প সংস্থা লিমিটেড (টেশিস), দেশীয় প্রতিষ্ঠান 2M Corporation Limited যার ঠিকানা: Erectors house, 18 kamal Atartuk avenue,Banani C/A, Dhaka 1213 এবং মালয়েশিয়ার TFT Display (M) Sdn Bhd-এর মধ্যে ২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয় TSS-TFT-2M Technology Limited নামের যৌথ উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল দেশে ল্যাপটপ, নোটবুক ও নেটবুক কম্পিউটার উৎপাদন করে তুলনামূলক কম দামে দেশের জনগণ ও শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা।

তবে প্রকল্পটির পরিচালনা ও আর্থিক কার্যক্রমসংক্রান্ত নথিতে বিনিয়োগের অনুপাত, অংশীদারদের আর্থিক অংশগ্রহণ, বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি, এলসি পরিশোধ এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানকারীরা।

টেশিসের বিনিয়োগ ৬ কোটি ১ লাখ টাকা, অন্য অংশীদারদের অবদান কত?

TSS-TFT-2M Technology Limited-এর পরিচালনা পর্ষদের সপ্তম সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ল্যাপটপ প্ল্যান্ট তৈরিতে টেশিস মোট ৬ কোটি ১ লাখ টাকা ব্যয় করে।

অন্যদিকে, প্রাপ্ত নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, যৌথ উদ্যোগের অপর দুই অংশীদার 2M Corporation Limited এবং TFT Display (M) Sdn Bhd চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের নির্ধারিত অংশের বিনিয়োগ করেনি।

চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী, যৌথ উদ্যোগে টেশিসের অংশ ছিল ৩০ শতাংশ এবং অপর দুই অংশীদারের সম্মিলিত অংশ ছিল ৭০ শতাংশ। ফলে প্রকল্পের অর্থায়নে অংশীদারদের নির্ধারিত অবদান কতটা বাস্তবায়িত হয়েছিল, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

টেশিসের বিনিয়োগের পরিমাণ ও অন্য অংশীদারদের প্রকৃত আর্থিক অবদান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ না হলে প্রকল্পের অর্থায়ন কাঠামো মূল্যায়ন করা কঠিন। একই সঙ্গে টেশিসের বিনিয়োগ করা অর্থের কতটা ফেরত এসেছে, প্রকল্প থেকে প্রতিষ্ঠানটি কী পরিমাণ আর্থিক সুবিধা পেয়েছে এবং বিনিয়োগের বিপরীতে কী ধরনের সম্পদ বা উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে—এসব প্রশ্নও সামনে আসে।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছিল, মুনাফার ১০ শতাংশ গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) কার্যক্রমে সংরক্ষণ করা হবে। অবশিষ্ট ৯০ শতাংশ অংশীদারদের বিনিয়োগের অনুপাতে বণ্টনের কথা ছিল। এই শর্ত বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়েছিল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিবরণী ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা প্রয়োজন।

১০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের এলসি, পরিশোধ ৬ লাখ ২৫ হাজার ডলারের বেশি

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল TSS-TFT-2M Technology Limited-এর পক্ষ থেকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার TFT Display (M) Sdn Bhd-এর অনুকূলে ১০ লাখ ৬ হাজার ৫৪০ মার্কিন ডলারের একটি ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়।

নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এলসির বিপরীতে আমদানি করা পণ্যের একটি বড় অংশ পুরোনো, ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা চুক্তি ও প্রোফর্মা ইনভয়েসের (পিআই) সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। আরও অভিযোগ রয়েছে, পণ্য পাঠানোর আগে কোনো প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন ছাড়াই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, আমদানির আগে পণ্যের মান ও পরিমাণ যাচাইয়ের ব্যবস্থা কী ছিল, সরবরাহকৃত পণ্য চুক্তির শর্ত পূরণ করেছিল কি না এবং অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কী ধরনের অনুমোদন ও যাচাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল।

বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, TFT Display (M) Sdn Bhd শুধু পণ্য সরবরাহকারী ছিল না; প্রতিষ্ঠানটি যৌথ উদ্যোগের বিদেশি অংশীদারও ছিল। তবে এই সম্পর্কের কারণে কোনো অনিয়ম ঘটেছিল কি না, তা নির্ধারণে চুক্তি, ব্যাংকিং নথি, আমদানি দলিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য, ব্যাহত উৎপাদনের অভিযোগ

প্রাপ্ত নথিতে বলা হয়েছে, দেশে পণ্য আসার পর কিছু পণ্য পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশাপাশি প্রোফর্মা ইনভয়েস অনুযায়ী সম্পূর্ণ পণ্য সরবরাহ না করা এবং পণ্য পাঠাতে বিলম্বের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে ল্যাপটপ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে উৎপাদন বিলম্বের প্রকৃত কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের পরিমাণ, আর্থিক ক্ষতির হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের দায় নির্ধারণ করতে আমদানি-পরবর্তী পরিদর্শন প্রতিবেদন, স্টক রেজিস্টার ও উৎপাদনসংক্রান্ত নথি প্রয়োজন।

নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পণ্য সরবরাহের পর TFT Display (M) Sdn Bhd-এর প্রকৌশলীরা অ্যাসেম্বলি বা স্থাপনকাজ সম্পন্ন না করেই প্রত্যাহার করে নেন। এতে প্রকল্পটি কারিগরি সমস্যায় পড়ে এবং টেশিসকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এই অভিযোগের ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে চুক্তির শর্ত, প্রকৌশলীদের দায়িত্ব, তাঁদের কাজের সময়কাল এবং স্থাপনকাজ অসম্পূর্ণ থাকার কারণ যাচাই করা জরুরি।

এলসির অতিরিক্ত অর্থ দাবি, আদালতে মামলার তথ্য

প্রাপ্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে, TFT Display (M) Sdn Bhd পরবর্তীতে এলসির বিপরীতে অতিরিক্ত ৪২ হাজার ৩৮২ মার্কিন ডলার পাওনা দাবি করে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ঢাকার জেলা জজ আদালতে টেশিসের বিরুদ্ধে মানি স্যুট মামলা দায়েরের কথাও নথিতে রয়েছে।

তবে মামলাটির নম্বর, দায়েরের তারিখ, বাদী ও বিবাদীর সুনির্দিষ্ট দাবি, আদালতের আদেশ এবং বর্তমান অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত অর্থ দাবির ভিত্তি কী ছিল এবং এ বিষয়ে টেশিসের অবস্থান কী—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং দলিল পর্যালোচনা ছাড়া পাওনা দাবির যৌক্তিকতা কিংবা দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

যৌথ উদ্যোগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টেশিসে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

দোয়েল প্রকল্প ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ জনবল নিয়োগসংক্রান্ত।

প্রাপ্ত নথিতে দাবি করা হয়েছে, TSS-TFT-2M Technology Limited-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশকে পরবর্তীতে টেশিসে স্থায়ী, অস্থায়ী অথবা চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নথির তথ্য অনুযায়ী, চারজন কর্মকর্তা ও ২৪ জন কর্মচারীসহ মোট ২৮ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টেশিসে নিয়মিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

যদিও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগবিধি, বোর্ডের অনুমোদন, নিয়োগপত্র এবং নিয়মিতকরণের আদেশ পরীক্ষা করা প্রয়োজন, তবু বিষয়টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপ্রক্রিয়া ও আর্থিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এ ছাড়া এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার পেছনে টেশিসের কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বছরের জনবল ও বেতনসংক্রান্ত হিসাব পর্যালোচনা জরুরি।

বিদেশি অংশীদারের মালিকানা ও অর্থের উৎস নিয়ে অভিযোগ

যৌথ উদ্যোগের বিদেশি অংশীদার TFT Display (M) Sdn Bhd-এর প্রকৃত মালিকানা, বিনিয়োগের উৎস এবং স্থানীয় অংশীদার 2M Corporation Limited-এর সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়েও প্রাপ্ত নথিতে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

নথিতে দাবি করা হয়েছে, TFT Display (M) Sdn Bhd ছিল 2M Corporation Limited-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান এবং এর মাধ্যমে অর্থ বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে অর্থ পাচার বা কৃত্রিম প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার আগে কোম্পানির নিবন্ধন, প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকের পরিচয়, শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য, ব্যাংকিং রেকর্ড এবং বিনিয়োগের উৎস যাচাই করা আবশ্যক।

এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নথিভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অর্থ পাচারের জন্য দায়ী করা সমীচীন নয়।

2M Corporation-এর বিরুদ্ধে মামলা ও নিরীক্ষা আপত্তি

প্রাপ্ত নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে টেশিস 2M Corporation Limited-এর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে মামলা করে। পাশাপাশি ল্যাপটপ প্ল্যান্টের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নিরীক্ষা আপত্তি ওঠার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্পের আর্থিক অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহার বা আরজি, আদালতের নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের নির্দিষ্ট আপত্তি এবং শ্বেতপত্রের প্রাসঙ্গিক অংশ যাচাই করা প্রয়োজন। মামলা দায়ের, নিরীক্ষা আপত্তি কিংবা কোনো প্রতিবেদনে অভিযোগের উল্লেখ থাকলেই তা আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না।

দোয়েলের ডানা ভাঙল কেন?

দোয়েল ল্যাপটপ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল দেশে প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করা এবং শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে তুলনামূলক কম দামে ল্যাপটপ পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু প্রকল্পটির বিনিয়োগ কাঠামো, অংশীদারদের আর্থিক অবদান, আমদানি করা পণ্যের মান, এলসি পরিশোধ, কারিগরি সহায়তা এবং জনবল নিয়োগ নিয়ে প্রাপ্ত নথিতে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা জনসমক্ষে থাকা জরুরি।

প্রকল্পটির আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, টেশিসের বিনিয়োগ করা ৬ কোটি ১ লাখ টাকা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছিল এবং এর বিপরীতে কী পরিমাণ সম্পদ ও উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছিল?

দ্বিতীয়ত, চুক্তি অনুযায়ী ৭০ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকা অপর দুই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বিনিয়োগ কত ছিল এবং বিনিয়োগ না করার অভিযোগের ভিত্তি কী?

তৃতীয়ত, এলসির বিপরীতে পণ্য আমদানি, পরিদর্শন ও অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কী ধরনের যাচাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল?

চতুর্থত, পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য সরবরাহ এবং কারিগরি সহায়তা অসম্পূর্ণ থাকার অভিযোগ সত্য হলে এর জন্য দায়ী পক্ষ কারা?

পঞ্চমত, যৌথ উদ্যোগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টেশিসে নিয়োগ ও নিয়মিতকরণের ক্ষেত্রে কোন বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল এবং এ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায় কতটা বেড়েছে?

দোয়েল প্রকল্পের ব্যর্থতা বা সীমিত সাফল্যের পেছনে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে এসব প্রশ্নের উত্তর নথি, নিরীক্ষা, তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে খুঁজে বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিনিয়োগ, সম্পদ, উৎপাদন, বিক্রয়, আয়-ব্যয় ও দায়দেনার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা গেলে রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।

দোয়েল প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একটি ল্যাপটপ উৎপাদন উদ্যোগের উত্থান-পতনের গল্প নয়; এটি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ পরিচালনা, ক্রয়প্রক্রিয়া, কারিগরি সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন