Logo

অন্যান্য

বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে

পাচারের টাকায় ভারতে বসে বাংলাদেশবিরোধী প্রচার

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:৪১

অ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য 

প্রথম আলোর প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের এ বক্তব্যের পর জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে কি না, এ আলোচনা সামনে এসেছে। কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় নির্বাচন করতে চাইলে তা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই করতে হবে। সংসদ নির্বাচন করার পর তারা আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সুযোগ পাবে না। তাদের নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। 

তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য আছে। বিএনপিসহ বিভিন্ন দল জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিপক্ষে। আর জাতীয় নাগরিক কমিটি মনে করছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া উচিত। কোনো কোনো দল অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছে। 

পণ্য ও সেবায় নজিরবিহীন ভ্যাট বৃদ্ধি 

আইএমএফের চাপে সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত 

আমার দেশ পত্রিকার প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একশটির মতো পণ্য ও সেবার ওপর অতিরিক্ত ভ্যাট এবং করারোপের মাধ্যমে সরকার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন দেশের অর্থনীতিবিদসহ সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)’র কাছে নতি স্বীকার করে দেশের মানুষের দুর্দশার কথা মাথায় না নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের ওপর পাঁচ থেকে পনের ভাগ করারোপ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন করে পণ্যে ভ্যাট বৃদ্ধি ও শুল্কারোপের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। এমনিতেই মানুষ নিত্যপণ্যের চড়া মূল্যের কারণে কষ্টে আছে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি আরেক দফা উসকে দেবে। তারা বলছেন আইএমএফ’র শর্ত পূরণে এমন সিদ্ধান্ত নিলেও, সরকারের উচিত ছিল ভ্যাট ও শুল্ক না বাড়িয়ে বরং করের আওতা বাড়ানো।

৩৫০০ কোটি টাকা মেরে বহাল তবিয়তে পিকে হালদার 

পাচারের টাকায় ভারতে বসে বাংলাদেশবিরোধী প্রচার 

আমার দেশ পত্রিকার দ্বিতীয় প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ব্যাংক জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল অর্থ পাচার করা প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদার সম্প্রতি ভারতের আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা টাকায় কলকাতায় আস্তানা গেড়েছেন। তবে পাচারের সেই টাকায় এবার বাংলাদেশবিরোধী প্রচারে নেমেছেন তিনি। বিনিয়োগ করেছেন সেখানকার মিডিয়াতেও। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারাও এর সঙ্গে জড়িত বলে খবর পাওয়া গেছে।

একটি সূত্র জানাচ্ছে, প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বাংলাদেশবিরোধী খবর ছড়ানো ও আওয়ামী সিমপ্যাথি তৈরির জন্য। এভাবে কলকাতাতে বসেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে চলেছেন পিকে হালদার ও পতিত আওয়ামী সরকারের দোসররা। 

আস্থাহীনতায় সংকটে বিনিয়োগ 

কালের কণ্ঠের প্রধান এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে সুখবর নেই। ক্ষমতার পালাবদলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে; ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা। ডলার সংকট, দফায় দফায় করকাঠামোর পরিবর্তন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হারসহ আরো নানা সমস্যা অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। অন্তর্বর্তী সরকার সংকট সামাল দিতে চেষ্টা করছে, কিন্তু এতে এখনো তেমন সুফল দেখা যাচ্ছে না। উল্টো ব্যবসা-বিনিয়োগ প্রসারের পথরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ধারাবাহিক কমতে থাকা বিনিয়োগ তলানিতে নামতে সময় লাগবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে দেশে দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে ব্যবসার পরিধি। মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টায় দফায় দফায় নীতি সুদহার বাড়ানোয় ব্যাংকঋণের সুদ অনেক বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। আর অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দুর্বল অর্থনীতির সূচকে আটকে গেছে ব্যবসার গতি। সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ এবং আকাশচুম্বী সুদের চাপে পড়েছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান।

উন্নতির চেয়ে বেশি দুর্নীতি 

বাংলাদেশ প্রতিবেদনের এ সংবাদে বলা হয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে দুর্নীতিকে টার্গেট করে। বিগত ১৫ বছরে এ মন্ত্রণালয় দেশের ডিজিটালাইজেশনের যত প্রচার ও প্রচারণা হয়েছে তার চেয়ে বেশি হয়েছে দুর্নীতি। এক পর্যায়ে লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে, আইসিটি ভবন হলো আসলে দুর্নীতি প্রযুক্তির মন্ত্রণালয়। কারণ, দুর্নীতি কীভাবে, কতটা করা যাবে সেই পরিকল্পনা করা হতো আগে, পরে নেওয়া হতো প্রকল্প। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইনফো সরকার ৩ ও এটুআই, আইডিয়া প্রকল্প, অ্যাপ তৈরি নামে দুর্নীতি, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে ভিডিও গেম তৈরি, নিউইয়র্কে কনসার্টসহ প্রায় ৩২৪টি প্রকল্পে কোনো কোনোভাবে দুর্নীতি হয়েছে।

উন্নয়ন এবং ডিজিটালের গল্প বলে জনগণের পকেট ফাঁকা করা হয়েছে। অপচয় করা হয়েছে রাষ্ট্রের অর্থ। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আইসিটি বিভাগ দুটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬০০ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে। এ প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। কিন্তু এ ৬০০ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে গুগল প্লেতে এখন মাত্র ৪৪টি পাওয়া যায়। এ ৪৪টি অ্যাপও ঠিকমতো কাজ করে না। এর বাইরে আউটসোর্সিংয়ের নামে হরিলুট করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। প্রায় সব প্রকল্পের আওতায় আউটসোর্সিং করা হয়েছে। 

কষ্টে চলা মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়ল 

সমকালের প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, নানা কারণে গেল বছর নিত্যপণ্যের বাজার ছিল রীতিমতো ‘পাগলা ঘোড়া’। দামের চোটে বছরজুড়ে গড় মূল্যস্ফীতি থেকেছে দুই অঙ্কের ঘরে। খরচা ছুটলেও মানুষের রোজগার বাড়েনি তেমন। উল্টো চাকরি খুইয়ে ধুঁকছেন অনেকে। এর মধ্যেই দুঃসংবাদ হয়ে হাজির শতাধিক পণ্য ও সেবায় নতুন শুল্ক-কর। এতে নাটাই যেভাবে ছুটবে, তাতে জীবনযাত্রা খরচার সামাল দেওয়া অনেকটাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে নির্ধারিত আয়ের মানুষের। গেল আগস্টে দেশের রাজনীতিতে মঞ্চ বদলের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তাও ফিকে হয়ে আসছে। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক-করের পরিমাণ না বাড়িয়ে এর আওতা বাড়ানো উচিত। বিভিন্ন খাতে অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যারা ভ্যাট দিচ্ছেন না। কর হার কমিয়ে এসব ব্যবসায়ীকে ভ্যাটের আওতায় আনা গেলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। তবে সরকার সে পথে না হেঁটে যারা নিয়মিত ভ্যাট দিচ্ছেন, তাদের ওপরেই আরও বোঝা চাপাল। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যে। বাড়বে কর ফাঁকির প্রবণতাও। তারা মনে করেন, সরকারের উচিত, প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি বা কমানো, ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করা। পাশাপাশি ভ্যাট কমিয়ে করের আওতা বাড়ানো।

অপ্রয়োজনে আট স্থলবন্দর, গচ্চা সাড়ে চারশ কোটি টাকা 

যুগান্তরের প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি স্থলবন্দর। ওই তিনটি বন্দরের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে ৬০.৪ একর জমি। সেখানে অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে অন্তত ১৪৩ কোটি টাকা। অথচ এই তিনটি স্থলবন্দর চলছে ঢিমেতালে। পণ্য না থাকায় কখনো কখনো বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকে। যদিও এসব বন্দরে রাজস্ব বিভাগ, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অবস্থান করতে হয়। এ পর্যন্ত এই তিন স্থলবন্দর থেকে ২০ কোটি টাকাও আয় হয়নি কর্তৃপক্ষের। ওই তিনটি স্থলবন্দর নির্মাণের নেপথ্যে ছিলেন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের তিনজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং এক মুখ্য সচিব। 

বন্দর তিনটি হচ্ছে-শেরপুরের নাকগাঁও, ময়মনসিংহের গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী এবং জামালপুরের ধানুয়া-কামালপুর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিন জেলায় একটি অথবা সর্বোচ্চ দুটি স্থলবন্দরই যথেষ্ট। সেখানে তিনটি স্থলবন্দর নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় মাত্র তিন কিলোমিটার ব্যবধানে গোবড়াকুড়া ও কড়ইতলী নামে দুটি পৃথক শুল্ক স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। যদিও এ দুটি টার্মিনালের বিপরীতে ভারতের মেঘালয়ে একটি মাত্র স্থলবন্দর রয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় এবং স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র এবং স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

এসবি

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন