বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে
বিডিআর হত্যার মাস্টারমাইন্ড হাসিনা গং
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:০৯
ছবি : সংগৃহীত
উচ্চমাত্রার আয়বৈষম্য আরও তীব্র হবে
বাংলাদেশের খবর পত্রিকার প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, নজিরবিহীনভাবে অধ্যাদেশ জারি করে অর্ধ শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের ফলে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। মূল্যস্ফীতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের লোকদের জীবনযাপন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এটি উচ্চমাত্রার আয়বৈষম্য আরও তীব্র হবে। ভোক্তারা বলেন, এমনিতেই বাজারে চড়া নিত্যপণ্যের দাম। এরপরও ভ্যাট বাড়ায় বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। ভ্যাট বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারের সরে আসা উচিত।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগামী অর্থবছর আসতে বাকি এখনো প্রায় ৬ মাস। কিন্তু তার আগেই গত বৃহস্পতিবার এক অধ্যাদেশ জারি করে ৬৩টি পণ্য ও সেবায় শুল্ক ও ভ্যাট বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কয়েক বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে কাহিল সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি করের চাপ দুঃসহ যাতনা নিয়ে আসবে। কারণ, পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে, সেটা ধনী-গরিব সব ক্রেতাকেই সমানভাবে দিতে হবে। সরকার প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর পরিবর্তে জনগণের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা চাপাচ্ছে। এর ফলে গরিব এবং মাঝারি আয়ের মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
মানুষের পকেট থেকে যাবে ১২ হাজার কোটি টাকা
প্রথম আলোর প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে এখন বছরজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে। ডেঙ্গু ও সাধারণ জ্বরের রোগীর পথ্য হিসেবে বাড়তি চাহিদা থাকে মাল্টার। সরকার অবশ্য মাল্টা আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করেছে। এতে মাল্টা আমদানিতে খরচ বাড়বে কেজিতে ১৫ টাকা। মোট শুল্ক–কর দাঁড়াবে কেজিতে ১১৬ টাকা। বাজারে মাল্টার দাম চড়া, কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা।
মাল্টার মতো বিভিন্ন ফল, রান্নার গ্যাস, মুঠোফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহার, রেস্তোরাঁয় খাবার, বিস্কুট, টিস্যু, ঢেউটিন, রংসহ শতাধিক পণ্য ও সেবায় শুল্ক–কর বাড়িয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন হার ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
বিডিআর হত্যার মাস্টারমাইন্ড হাসিনা গং
আমার দেশ পত্রিকার প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর ম্যাসাকারের পরিকল্পনা আগে থেকেই জানতেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে। হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারতের প্রশিক্ষিত একটি কিলার গ্রুপকে ঢাকায় আনা হয়।
এরা ভাড়া করা বিপথগামী বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে মিলে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম, শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশের কিছু কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন।
রাজধানী পিলখানার সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঘটেছিল দেশের ইতিহাসে নৃশংসতম এই বিডিআর হত্যাকাণ্ড। আমার দেশ অনুসন্ধানে এ সম্পর্কে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।
ভ্যাট-ট্যাক্সে দুর্বিষহ জীবন
কালের কণ্ঠের প্রধান এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভালো নেই সাধারণ মানুষ। গলদঘর্ম খেটেও পরিবারের সব চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। খরচের ফর্দ কাটছাঁট করেও কুলাতে পারছে না অনেকে। মূল্যস্ফীতির চাপে জীবনযাপন নিয়ে যখন তাদের হাঁসফাঁস অবস্থা, তখনই নতুন করে ভ্যাট-ট্যাক্সের খড়্গ।
আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ব্যবধান যখন বেড়েই চলছে, তখন এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী বলে এরই মধ্যে বলা শুরু হয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে। চাল-ডাল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস—সব কিছুতেই দাম বাড়ানোর যে প্রতিযোগিতা, তাতে সাধারণ মানুষের খেয়ে-পরে টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমন সংকটের মধ্যেই নতুন করে শতাধিক পণ্য ও সেবায় সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্সের জেরে জীবনযাত্রার ব্যয় আরেক দফা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, সরকারের পদক্ষেপ দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।
আতঙ্ক হতাশায় পুলিশ
বাংলাদেশ প্রতিবেদনের এ সংবাদে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও আতঙ্ক কাটেনি পুলিশে। হতাশাও কাজ করছে পুরো পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মাঝে। এখনো মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। থানার মধ্যেই ঘটছে পুলিশ সদস্যদের আত্মহত্যার মতো ঘটনা। আবার গ্রেফতার পুলিশ কর্মকর্তার খোদ থানা থেকেই পালানোর ঘটনায় নানা আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে পুলিশের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েও।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিকভাবে ইমেজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা এখনো বিভিন্ন জায়গায় নিগৃহীত হচ্ছেন। সামাজিকভাবে পুলিশ এখন অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র শৃঙ্খলাও নাজুক। কে ছাত্রলীগ, কে কার দালাল, কে কার ক্যাশিয়ার এভাবেও চিহ্নিত করা হচ্ছে অনেককে। সেই সঙ্গে আগের মতো ঘুষবাণিজ্য না থাকায় জীবনযাপনও করতে পারছেন না আগের স্টাইলে। অবৈধভাবে যারা সম্পদের মালিক হয়েছেন, অনেকের সেসব সম্পদও চলে যাচ্ছে ভোগদখলের বাইরে। ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাগত নানা টানাপোড়েনের মধ্যে সময় কাটছে পুলিশের। তবে এত প্রতিকূল অবস্থায়ও ট্রমা কাটিয়ে জনগণের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।
ঘাটে ঘাটে টাকা দিয়েই কীটনাশক অনুমোদন
সমকালের প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, ফসল সুরক্ষায় চাষির নির্ভরতা বালাইনাশক। সেই ভরসা পুঁজি করে দেশে এখন ১৫ হাজার কোটি টাকার কীটনাশকের বাজার। আমদানিনির্ভর এত বড় কৃষি রাসায়নিকের বাজার ঘিরে দাঁড়িয়ে গেছে শক্তপোক্ত সিন্ডিকেট। বালাইনাশক বিদেশ থেকে উড়িয়ে আনার আগে নানা গণ্ডি পেরোনোর বিধান থাকলেও তা মানার বালাই নেই। টাকা ঢাললেই দিনকে রাত করে দেয় এই চক্র! যে কেউ আনতে পারে ‘বিষের বোতল’।
অভিযোগ আছে, সিন্ডিকেট সব নিয়মনীতিকে ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ বানিয়ে অবৈধ উৎস থেকে কীটনাশক আমদানি করে প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করছে। এতে একদিকে যেমন সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিম্নমানের বালাইনাশক ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক।
এসব কীটনাশক চাষি কিংবা পরিবেশের বারোটা বাজালেও তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। দেশে কীটনাশক আমদানি এবং পরে তা বিক্রি ও ব্যবহারের জন্য নিবন্ধন দেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং। অথচ এই উইংয়ের কতিপয় কর্মকর্তাই কাটছেন ঘরের বেড়া! ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও থেমে নেই তাদের ধুন্ধুমার দুর্নীতি। উল্টো ঘুষের টাকার অঙ্ক বেড়েছে। এখনও টাকা দিয়েই মিলছে নিবন্ধন কিংবা পণ্য আমদানির অনুমতি। সমকালের অনুসন্ধানে মিলেছে এসব তথ্য।
ঐক্যের কথা বলে বিভক্ত অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো
সমকালের দ্বিতীয় প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার পতন ঘটানো অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও, বিভেদে জড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিএনপির মতবিরোধ প্রকাশ্যে। দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বেড়েছে তিক্ততা। সব ইস্যুতেই ছাত্র নেতৃত্বের বিপরীতে অবস্থান বিএনপির। ছাত্র নেতৃত্বের সংগঠনগুলোতে দ্বন্দ্ব জামায়াতের প্রভাবে।
সরকার, দল ও সংগঠনগুলোর নেতাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তাদের ভাষ্য, অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে শুরু বিভেদ। নির্বাচন ও সংস্কার প্রশ্নে তা বিভক্তিতে রূপ নেয়। আগস্টে রাজনৈতিক দল ও ছাত্র নেতৃত্ব সংস্কারে সরকারকে যৌক্তিক সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, দ্রুত নির্বাচন চায় বিএনপি। তবে সংস্কারে জোর জামায়াত ও ছাত্র নেতৃত্বের। তাদের ভাষ্য, বিএনপি ক্ষমতায় বসলে অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করবে না।
শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সাত সদস্য
দেশে-বিদেশে সম্পদের অনুসন্ধান শুরু
যুগান্তরের প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে জড়িত সন্দেহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পরিবারের সাত সদস্যের নামে দেশে-বিদেশে থাকা অর্থসম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর মধ্যে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বোন শেখ রেহানা।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক। এদের নামে দেশের ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোতে থাকা অর্থসম্পদের তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি মানি লন্ডারিংবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা এগমন্ট গ্রুপের কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে ওইসব ব্যক্তি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য খাতে থাকা সম্পদের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এসবি

