Logo

অন্যান্য

বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে

নির্বাচন-ঘোষণাপত্র ঘিরে উত্তাপ

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:৫২

অ

চিকিৎসা ব্যয়ে পিষ্ট মানুষ

বাংলাদেশের খবরের প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবায় দিন দিন ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে চিকিৎসায় বাংলাদেশে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় ৭৪ শতাংশ। এটি প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বেশি। এর মধ্যে ওষুধে ব্যয় হয়েছে ৪৪ শতাংশ।

এর মধ্যে গত এক বছরে হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার ফি, চিকিৎসকের পরামর্শ ফি ও ওষুধের ব্যয় বেড়েছে কমপক্ষে ১৫ শতাংশ। ফলে সার্বিক পরিস্থিতিতে দেশে প্রতি বছর চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যান কয়েক লাখ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে সামগ্রিক অর্থনীতির ২ দশমিক ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যে ব্যয় হয়। এতে সরকারি ব্যয় ১ শতাংশেরও কম। সুতরাং স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে, তা পরিবারের জন্য বিপর্যয়কর হয়। যেসব পরিবারের মোট ব্যয়ের ১০ শতাংশ ভোগে ব্যয় হয়, সেই শ্রেণির ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশ পরিবার চিকিৎসায় ব্যয় করে বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। যেসব পরিবারের মোট ব্যয়ের ২৫ শতাংশ ভোগে ব্যয় হয়, তাদের ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় করে বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। এ ছাড়া যেসব পরিবারের মোট ব্যয়ের ৪0 শতাংশ খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় হয়, তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ পরিবার চিকিৎসার ব্যয় করে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে থাকেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশিরা তাদের মোট স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের ৭২ দশমিক ৫ শতাংশই নিজেরা বহন করেন।

অবশেষে টিউলিপের পদত্যাগ 

প্রথম আলোর প্রধান এ সংবাদে বলা হয়েছে, দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে বাংলাদেশে তদন্ত শুরুর পর সমালোচনার মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক। যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার (ইকোনমিক সেক্রেটারি) ছিলেন তিনি। মন্ত্রী হিসেবে দেশটির আর্থিক খাতে দুর্নীতি দমনের দায়িত্বে ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। 

গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন টিউলিপ। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। 

পদত্যাগপত্রে টিউলিপ উল্লেখ করেন, তিনি ভুল কিছুই করেননি। পদত্যাগের কারণ হিসেবে টিউলিপ বলেন, এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইকোনমিক সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেলে সেটা সরকারের কাজ থেকে মনোযোগ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে পারত। 

চার লাখ কোটি টাকা লুটে নেবে আদানি 

আমার দেশ পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পতিত লুটেরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা আত্মঘাতী চুক্তির কারণে ভারতের আদানি পাওয়ার বাংলাদেশ থেকে লুটে নেবে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা বিদ্যুতের দামের বাইরে। তন্মধ্যে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ খাতেই বাংলাদেশকে গুনতে হবে সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা। 

বাকি প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা আদানিকে দিতে হবে কয়লার বাড়তি দাম হিসেবে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানা কারণে এ লুটের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনার জেরে পতিত আওয়ামী শাসনে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৮৮ শতাংশ। উচ্চ মূল্যের বিদ্যুতে বেড়েছে উৎপাদন খরচ ও পণ্যমূল্য। পকেট কাটা যাচ্ছে ভোক্তাদের। অপরদিকে খালি করে ফেলা হয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার।

নির্বাচন-ঘোষণাপত্র ঘিরে উত্তাপ

কালের কণ্ঠের প্রধান এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার—এমন খবরে বিএনপি তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দলটি বলছে, নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নেই। সংসদের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রশ্নই ওঠে না। অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র দিতে কারা বাধা দিচ্ছে, জনগণের সামনে তা প্রকাশ করতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সংসদের আগে স্থানীয় নির্বাচন মানবে না বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আয়োজন মানবে না বিএনপি। দলটি মনে করে, চলতি বছরের মাঝামাঝি অর্থাৎ জুলাই-আগস্টের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।

চাপ বাড়ছে নির্বাচনের

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান এ সংবাদে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে না থাকা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগে মন্দা, প্রশাসনে অস্থিরতা, পরাজিত শক্তির নানা অপকৌশলসহ বিভিন্ন কারণে সরকারের ওপর দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার চাপ প্রবল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে দেরি হলে বর্তমান সরকার বিতর্কিত হবে। সমস্যা তত বাড়বে। তাই চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে দলগুলো। এমনকি নির্বাচনি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করা হচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চলতি বছরের জুলাই-আগস্টের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই। এটা গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এ বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবস্থা নিতে। এলডিপি প্রেসিডেন্ট ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের এখন মূল বিষয় হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

আমলাদের চাপে পিছু হটছে কমিশন 

সমকালের প্রধান এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমলাদের চাহিদাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদে পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি এবং অন্য ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছিল কমিশন। তবে এখন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে থাকছে না সেই প্রস্তাব। আমলাদের চাপে এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ক্যাডার কর্মকর্তাদের আন্দোলন আমলে নিয়ে নতুন করে সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ বাস্তবায়নে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা দেওয়ার সময় চেয়েছিল কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের চাহিদার ভিত্তিতে তাদের এ সময় দিয়েছে সরকার। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের দুই সদস্য সমকালকে জানান, খসড়া প্রতিবেদন তৈরির শুরুতে তারা বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশের প্রশাসনের বিষয়টি বিবেচনায় নেননি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সুপারিশ প্রস্তুত করা হয়েছিল। এখন উন্নত রাষ্ট্রের প্রশাসন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বিশ্বে দুই মডেলে প্রশাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যেমন– ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের প্রশাসনে পদোন্নতি হয় এসিআর বা কর্মদক্ষতা অনুযায়ী।

এ বছরের মাঝামাঝি নির্বাচন চায় বিএনপি 

অভিন্ন দাবি মিত্রদেরও 

যুগান্তরের প্রধান এ সংবাদে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর জোর দিচ্ছে বিএনপিসহ মিত্ররা। অতি প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে একাট্টা দলগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টের মধ্যে নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে একমত বিএনপির মিত্র অন্তত ৫২টি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের জন্য যে সংস্কার প্রয়োজন তা দুই থেকে তিন মাসেই শেষ করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে এ বছরের মাঝামাঝিতেই নির্বাচন দেওয়া উচিত।

তারা মনে করেন, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণার লক্ষ্যে আয়োজন করতে পারে একটি জাতীয় সংলাপের। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত সব রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে দ্রুত সংলাপে বসে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে পারে। অন্যথায় সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্ব বাড়বে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ নানা অস্থিরতাও নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

এসবি

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন