বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে
আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছে কলকাতায়
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:০৭
ঘোষণাপত্রে থাকতে হবে সবার অবদান
বাংলাদেশের খবরের প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রণয়নের বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন কোনো ধরনের ফাটল না ধরে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এই ঐক্য ধরে না রাখতে পারলে পতিত সরকার সুযোগ নেবে।
সবার সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই আন্দোলনের ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করতে। যাতে সবাই মনে করে এটি তার ঘোষণাপত্র। এছাড়াও ঘোষণাপত্ৰ প্ৰস্তুত করতে গিয়ে যেন কালবিলম্ব না হয়, আবার তাড়াহুড়োও না করা হয় সে বিষয়েও সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। যদিও এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটি বলছে-‘গণঅভ্যুত্থানের সাড়ে পাঁচ মাস পর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে জুলাই ঘোষণাপত্রের কী প্রয়োজন ছিল।'
গতকাল বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষণাপত্র প্রকাশে মতৈক্য, আরও আলোচনা হবে
প্রথম আলোর প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে। তবে এই ঘোষণাপত্রের চরিত্র কেমন হবে, কোন প্রক্রিয়ায় এটি তৈরি করা হবে, কবে নাগাদ এটি প্রকাশ করা হবে, সেসব চূড়ান্ত হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত একটি কর্মকৌশল ঠিক করবে বলে জানানো হয়েছে।
-6789e4f6dc598.jpg)
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রের খসড়া নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বৈঠক শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
বৈঠকের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণাপত্র সবার মতামতের ভিত্তিতে করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই ঘোষণাপত্র ঐক্যবদ্ধভাবে করতে না পারলে উদ্দেশ্যে ব্যাহত হবে। ঐক্যের মাধ্যমে করলে সবার মনে সাহস আসবে। সবার ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এক থাকলে সবাই ভাববে আমরা তো জেগে আছি এখনো। আমরা ভোঁতা হয়ে যাইনি। আমাদের অনুভূতি ভোঁতা হয়নি এখনো, এখনো চাঙা আছে। আমরা জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ আছি।’
আওয়ামী সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছে কলকাতায়
আমার দেশ পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে বসে বাংলাদেশে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছেন আওয়ামী ফ্যাসিবাদ অনুগত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ইসমাইল হোসেন সম্রাট, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ক্যাসিনো সাঈদ হিসেবে পরিচিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার একেএম মমিনুল হক সাঈদ, আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ দলটির অনুগত চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ভারতে অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া বেশ কজন সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন সেখানে। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছে ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ফ্ল্যাটেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র আমার দেশকে নিশ্চিত করেছে, তারা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। নিয়মিত বৈঠক করছেন বাংলাদেশ নিয়ে। বাংলাদেশের ভেতরে নাশকতা চালিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করে ফায়দা নেওয়াই হচ্ছে তাদের মূল লক্ষ্য।
জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরিতে ঐকমত্য
কালের কণ্ঠের প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রণয়নে একমত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। এতে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সব দলের অবদান অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সর্বসম্মতিক্রমে এই ঘোষণাপত্র তৈরিতে তাড়াহুড়া করা ঠিক হবে না বলে মত এসেছে।
ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনের বৈঠকে এই ঐকমত্য হয়েছে বলে সব দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই বৈঠক হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা এই বৈঠক চলে।
জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরিতে ঐকমত্যতবে সরকার গঠনের সাড়ে পাঁচ মাস পর এই ঘোষণাপত্রের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব দল এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন দরকার বলে মনে করছে।
বর্ধিত ভ্যাট বাতিল না হলে কারখানা বন্ধ, রাস্তায় নামব
কালের কণ্ঠের দ্বিতীয় প্রধান এ সংবাদে বলা হয়েছে, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তকে ব্যবসাবান্ধব নয় বলে মনে করেন আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ডিরেক্টর অপারেশন সৈয়দ জহুরুল আলম। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াজাত অনেক খাদ্যপণ্যের দাম ৫ থেকে ১০ টাকার মধ্যে। এর ওপর ভ্যাট বসানো উচিত হয়নি। এই খাবারগুলো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ গ্রহণ করে। এই পণ্যে তেমন মুনাফা থাকে না উল্লেখ করে বাড়তি ভ্যাট যোগ হলে উৎপাদন বন্ধের হুমকি দেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ওপর বাড়তি ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং প্রস্তাবিত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তকে 'অন্য কোনো পরিকল্পনার অংশ কি না' সন্দেহ প্রকাশ করে জহুরুল আলম বলেন, 'কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে একেবারে সর্বনিম্ন স্তরের পণ্যের ওপর অযৌক্তিকভাবে ভ্যাট ও শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এটা কোনোভাবে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নয়। কাদের স্বার্থে এই সরকার কাজ করছে তা নিয়ে আমি সন্দিহান।
ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐক্যে জোর
জুলাই ঘোষণায় থাকতে হবে সবার অবদান
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, গণ অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত জুলাই ঘোষণাপত্রে সবার মালিকানা থাকতে হবে বলে মতামত দিয়েছে বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নিয়ে তারা বলেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদ শাসনকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন সবার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অবদান ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ থাকতে হবে ঘোষণাপত্রে। সেই সঙ্গে এ নিয়ে দলগুলোর ঐক্যে জোর দেওয়া হয়েছে।
ঘোষণাপত্রের রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামো স্পষ্ট করার বিষয়েও মতামত দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। এজন্য একটি কমিটি গঠন করে গণ অভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনসহ সবার সঙ্গে আরও আলোচনার প্রস্তাবও উঠে এসেছে। পাশাপাশি গণ অভ্যুত্থানের পাঁচ মাস পর এ ধরনের ঘোষণাপত্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি।
এজেন্ট আউটলেট এখন ব্যাংক শাখার দ্বিগুণ
সমকালের প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের শাখা খুলে সেবা দিতে যে পরিমাণ খরচ হয়, তাতে সব জায়গায় পোষানো যায় না। যে কারণে নানা উদ্যোগের পরও ব্যাংকগুলোর মধ্যে গ্রামমুখী প্রবণতা কম ছিল। এতে করে ব্যাংকিং সেবার বাইরেই ছিল প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ১১ বছর আগে চালু হয় এজেন্ট ব্যাংকিং। গ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই এ সেবা বড় হচ্ছে।
এজেন্ট ব্যবস্থায় এখন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ২ কোটি ৩৯ লাখ। এর মধ্যে ২ কোটি ৫ লাখই গ্রামীণ এলাকায়। আর সারাদেশে যে ২১ হাজার এজেন্ট আউটলেট খোলা হয়েছে, এর ৮৬ শতাংশই গ্রামে। মোট আমানতের ৮১ শতাংশ এসেছে গ্রাম থেকে। ঋণেরও বেশির ভাগ বিতরণ হয়েছে সেখানে। সবচেয়ে আশার বিষয় হলো, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট অ্যাকাউন্টের ৫০ শতাংশের বেশি নারীর।
ইসলামী ব্যাংকে নামে-বেনামে ঋণ
৭০ হাজার কোটি টাকা লোপাট
যুগান্তরের প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ৭০ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা নিয়ে গেছে এস আলম গ্রুপ। এর মধ্যে সরাসরি নিজের নামে ৫৩ হাজার ২৭৭ কোটি এবং বেনামে নিয়েছে ১৭ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব টাকা বের করা হয়। এখন বিপুল অঙ্কের এ টাকা খেলাপি হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি এবং সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। বাকিটাও ধীরে ধীরে খেলাপি হওয়ার পথে। ব্যাংকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) পাঠানো হয়েছে।
এসবি

