Logo

অন্যান্য

বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে

বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি কমবে, মূল্যস্ফীতিও ভোগাবে

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:৩৭

অ

রমজানে স্বস্তি দিতে সরকারের নানান প্রস্তুতি

বিপুল পণ্য মজুতেও শঙ্কা

বাংলাদেশের খবরের প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, আসন্ন পবিত্র রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে মানুষকে স্বস্তি দিতে বেশ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেশির ভাগ পণ্য আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, রমজান মাসে বেশি ব্যবহৃত ভোগ্যপণ্যের দরে নিম্নমুখী প্রবণতা চলছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ফলে রমজানের নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে।

পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পাইপলাইনে রয়েছে বিপুল পরিমাণ পণ্য। তবুও রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কারসাজির শঙ্কা কাটছে না। এজন্য প্রয়োজন সরকারের কঠোর নজরদারি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে রমজান মাস শুরু হবে। ডলারের দাম ঠিক থাকলে রমজানে পণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে। রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগে থেকেই চাল, ডাল, গম, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, চিনি, ডিম, ছোলা, মটর, মসলা, খেজুরসহ ১১টি পণ্যে শুল্কছাড় দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণপত্র (এলসি) খোলায় মার্জিন কমানোর নির্দেশনা দিয়েছে। যার সুফল পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি কমবে, মূল্যস্ফীতিও ভোগাবে

প্রথম আলোর প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি কমবে। এর কারণ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে ভাটার টান। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি থাকবে চড়া। সরকারের মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্য পূরণ হবে না।

বিশ্বব্যাংক ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ (বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা) শীর্ষক প্রতিবেদনের জানুয়ারি (২০২৫) সংস্করণে চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছর নিয়ে এসব পূর্বাভাস তুলে ধরেছে। তারা বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে, যা গত জুনের পূর্বাভাসের চেয়ে ১ দশমিক ৬ শতাংশীয় বিন্দু কম।

একটি দেশের ভেতরে যত পণ্য ও সেবা উৎপাদিত হয়, তা–ই জিডিপি। আগের বছরের চেয়ে জিডিপি বৃদ্ধির হারকে বলা হয় প্রবৃদ্ধি। জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার মানে হলো, অর্থনীতির গতি মন্থর হয়ে যাওয়া। এতে আগের চেয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার কমে যায়। বেকার বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়। ব্যবসা–বাণিজ্য দ্রুতগতিতে না বাড়লে, কারখানায় উৎপাদন না বাড়লে মানুষের আয় বৃদ্ধির সুযোগ কমে যায়। দেশে তিন বছর ধরে মানুষের প্রকৃত আয় কমছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে মানুষের আয় বেড়েছে ৮ শতাংশের কিছু বেশি। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম, অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ।

হাসিনার বিচারে সব দল একমত

আমার দেশ পত্রিকার প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার চায় দেশের সব রাজনৈতিক দল। দৈনিক আমার দেশকে এসব দলের নেতারা বলেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে যত হত্যা, গুম, অপহরণ ও নির্যাতন হয়েছে, এর দায় তাকে নিতেই হবে। এছাড়া জুলাই-আগস্টে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকাসহ সারা দেশে যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, তার দায় শেখ হাসিনা এড়াতে পারেন না।

তার নির্দেশেই এ গণহত্যা হয়েছে। সীমাহীন অর্থপাচার, লুটপাট ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। বিচার বিভাগকে আজ্ঞাবহ করে দেশের মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থলকেও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র শাসনে মানুষের প্রতিনিধি বাছাইয়ের নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূলেই আঘাত হানা হয়েছে- যা রাষ্ট্রকে অকার্যকর করার নামান্তর।

শুধু আইন করে রাজনৈতিক ধারা বদলানো কঠিন

কালের কণ্ঠের প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না কিংবা সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী হলে দলের প্রধান ও সংসদ নেতা হতে পারবেন না—সংস্কার কমিশনের এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে দলগুলোর নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গুণগত পরিবর্তন আনতে না পারলে রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তন তো হবেই না, বরং ‘পরিবারতন্ত্র’ আরো পাকাপোক্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই শুধু আইন বা সংবিধান সংশোধন করে বিদ্যমান রাজনৈতিক ধারা বদল করা যাবে না।

সংস্কার কমিশনের এই দুই সুপারিশ ঘিরে রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজসহ বিভিন্ন মহলের আলোচনায় এমন অভিমত উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বেশির ভাগই বলছেন, ক্ষমতার বাস্তবতা ভিন্ন। ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক দলগুলো এই পরিবর্তন আসলেই আনবে কি না তা বলা কঠিন।

বিএনপির ভাবনায় শুধুই ভোট

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাবনায় এখন শুধুই ভোট। দলটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পক্ষে সোচ্চার। এই লক্ষ্যে বিএনপি তার সাংগঠনিক শক্তি সংহত করছে। সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের নীতি নিয়েছে দলটি। দ্রুত নির্বাচনে বিএনপির দাবির পক্ষে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোও পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপি চায় অন্তর্বর্তী সরকার তাড়াহুড়া করে ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার না করে শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, আপাতত সেটুকু সংস্কার করুক।

তাঁরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত করা হলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংকট ক্রমশ বাড়বে। যেহেতু নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে, সেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ার কারণ নেই। আর এই সংস্কারকাজ শেষ করে জুলাই মাসের মধ্যেই ভোট করা সম্ভব। বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র মনে করে, যারা একসময় মাইনাস টু-এর ষড়যন্ত্রে ছিল, তারা এখনো তৎপর। এবার তাদের টার্গেট বিএনপিকে মাইনাস করা। সে কারণে নির্বাচন বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্র চলছে।

ক্যাপাসিটি চার্জের ঘানি টানতে হবে দুই যুগ

সমকালের প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ যেন ঘোড়ার আগেই লাগাম কেনা। চাহিদা না বাড়লেও একের পর এক গড়ে তোলা হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র। সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন না করেও ব্যবসায়ীরা পেয়ে গেছেন টাকা। জনগণের টাকার এমন শ্রাদ্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে। এ সময়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের পকেটে গেছে। খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে অস্বাভাবিক হারে। এতেই শেষ নয়; অসম চুক্তি, ভুল নীতি ও অনিয়মের কারণে আরও দুই যুগের বেশি সময় দেশবাসীকে টানতে হবে ঘানি।

বর্তমানে চাহিদার চেয়ে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫৪ শতাংশ বেশি। বেসরকারি কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ না কিনলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার নিয়ে কথা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার বিগত সরকারের চুক্তি খতিয়ে দেখতে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার এই চক্র থেকে সহসাই মুক্তি মিলবে না।

শাপলা চত্বরে হেফাজত দমন : অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট

হাসিনার নির্দেশে ক্র্যাকডাউন

যুগান্তরের প্রথম সংবাদে বলা হয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ন্যক্কারজনক অভিযান চালানো হয়। 'অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট' নাম দিয়ে চালানো গভীর রাতের এ ভয়াবহ ক্র্যাকডাউনে মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকা বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় বহু লোক হতাহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করতে শিগগিরই প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করবে হেফাজতে ইসলাম। এদিকে এ ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম মামলা করায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

১৩ বছর আগে ঘটে যাওয়া নারকীয় এ ঘটনার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কারা, কীভাবে জড়িত এবং এর মাস্টারমাইন্ড কারা ছিলেন, তা উদ্ঘাটন করতে পুলিশের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। জড়িতদের মধ্যে অনেকের নাম-পরিচয় এবং ওই রাতে তাদের কী ভূমিকা ছিল, এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে তথ্য আসতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে পাঠানো তথ্যে অনেকের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে।

এসবি/এনজে 

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন