Logo

রাজনীতি

ক্ষমতায় থেকে দল গঠন জনমনে সংশয় সৃষ্টি করছে : মির্জা ফখরুল

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৫, ১২:২৫

অ
ক্ষমতায় থেকে দল গঠন জনমনে সংশয় সৃষ্টি করছে : মির্জা ফখরুল

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ক্ষমতায় থেকে রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি জনমনে সংশয় সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করার লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

শনিবার (২২ মার্চ) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই বিএনপি ৩১ দফা গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল, যা পরবর্তীতে সংস্কার কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তি তৈরি করেছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর বৃহত্তর ঐক্য অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, সংস্কার ও নির্বাচন—এ দুটিকে পরস্পরবিরোধী মনে করার কোনো কারণ নেই। দুটো প্রক্রিয়া একইসঙ্গে চলতে পারে। প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি 'সংস্কার সনদ' প্রণয়ন, যা নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হবে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু উপদেষ্টার ক্ষমতায় থেকে রাজনৈতিক দল গঠন প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার বিষয়টি জনমনে সংশয় সৃষ্টি করছে। প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করার লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পাঠানো স্প্রেডশিটের প্রশ্নগুলোতে মূল প্রস্তাবগুলোর চেয়ে ‘হ্যাঁ-না’ ভিত্তিক উত্তরের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। যেমন, গণপরিষদের মাধ্যমে সংস্কার চাই কিনা—এই প্রশ্নের আগে সিদ্ধান্ত হওয়া দরকার, আদৌ গণপরিষদের প্রয়োজন আছে কি না।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ‘প্রস্তাবনা’ সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংস্কার কমিশনের সুপারিশে থাকলেও স্প্রেডশীটে তা উল্লেখ নেই। মূল প্রতিবেদনে যেখানে ১২৩টি সংস্কার প্রস্তাব ছিল, সেখানে স্প্রেডশীটে মাত্র ৭০টি বিষয় এসেছে। একইভাবে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের ১৫০টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ২৭টি উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপি মনে করে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি নির্বাচিত সরকার। কিন্তু সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে বসানোর প্রবণতা রয়েছে, যা অগ্রহণযোগ্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যই দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মূল চালিকা শক্তি। আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নেব না, যাতে এই ঐক্যে ফাটল ধরে। গণঐক্য ও জাতীয় ঐক্য রক্ষা করেই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং সেলিমা রহমান।

বিএনপি স্পষ্ট করেছে, জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা।

এমএএস/এমবি 

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন