ইসলামবিরোধী প্রস্তাবনা পেশ, নারী সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৯:২৪
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নগরকান্দা উপজেলা সভাপতি, মজলিসে তাহাফফুযে ফিকরে দেওবন্দ বাংলাদেশের মহাসচিব এবং মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়া ঢাকার মহাপরিচালক মুফতী মামুন আব্দুল্লাহ কাসেমী।
রোববার (২০ এপ্রিল) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শনিবার (১৯ এপ্রিল) নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্যরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে ১৫টি মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ৪৩৩টি প্রস্তাব সম্বলিত একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে কিছু সুপারিশ সরাসরি ইসলামের পরিপন্থী।
মুফতী কাসেমী জানান, ‘এই প্রস্তাবনায় শ্রমিক আইনে যৌনকর্মীদেরকে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়াও ইসলামের পারিবারিক উত্তরাধিকার ব্যবস্থাকে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে তা বিলুপ্তির দাবি জানানো হয়েছে।’
তিনি এসব সুপারিশে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অধিকার কারো নেই। কোরআনবিরোধী এ ধরনের আইন প্রণয়ন করলে মুসলিম পরিচয় রাখার অধিকারও থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে এসব ইসলামবিরোধী প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নই ওঠে না; বরং নারী বিষয়ক এই সংস্কার কমিশনই আগে বাতিল করতে হবে।’
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইসলামের মৌলিক বিধানের বিরোধিতা করে কোনো আইন প্রণয়ন করার প্রয়াস ধর্মীয় অনুভূতির ওপর সরাসরি আঘাত।
বিবৃতির শেষাংশে মুফতী কাসেমী বলেন, ‘যেখানে অতীতে কোনো নির্বাচিত সরকার এসব ইসলামবিরোধী আইন করার সাহস পায়নি, সেখানে একটি অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে এমন সাহস দেখায়, তা সত্যিই হতবাক করার মতো। কোরআন-সুন্নাহবিরোধী এই প্রস্তাবনা কার্যকর করা হলে দেশের ধর্মীয় ঐতিহ্য মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এবং সমাজে জেনা-ব্যভিচারসহ নানা ধরনের অনৈতিকতা ও কুফল ছড়িয়ে পড়বে।’
ডিআর/বিএইচ

